ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭৩৬৪ শিক্ষার্থী : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন Logo সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আপিল বিভাগের আদেশ বুধবার Logo নুসরাত হত্যা : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি আজ Logo বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Logo অভিনয়ে ফিরতে চান, ভবিষ্যতে পরিচালনাতেও আগ্রহ মাইলি সাইরাসের Logo শতাধিক গ্রামে ভবদহের জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে লাখো মানুষ Logo ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না হলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন Logo রাজধানীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি গুলি Logo ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসি নেতৃত্বাধীন কমিশনের বৈঠক চলছে Logo রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না : এমপি দিপু

শতাধিক গ্রামে ভবদহের জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের কলেজছাত্র জয় মন্ডলের বাড়ির উঠানে পানি। জয় জানালেন, ‘উঠোন ও বাড়ির যাতায়াতের পথে পানি উঠেছে। যার জন্য সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। আর একটু জল বাড়লে ঘরেও উঠে যাবে। ঘরে জল উঠলে রাস্তায় থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’

উপজেলার আলীপুর গ্রামের সুজিত কুমার বলেন, ‘আমার বাড়ির উঠোনে জল। গরু দুটো রাস্তার ওপর টোং ঘরে রেখেছি। আর একটু বৃষ্টি হলে বাড়িঘর ছাড়তে হবে।’

বাজেকুলটিয়া গ্রামের গৃহবধূ বহ্নিশিখা বলেন, ‘এবার আগে ভাগেই বাড়িতে জল উঠে গেছে। জলের চাপ দিনদিন বাড়ছে। টিউবওয়েল, বাথরুম জলের তলে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। খুবই খারাপ অবস্থায় আছি।’

শুধু জয়, সুজিত কিংবা বহ্নিশিখা নন, যশোরের ভবদহ অঞ্চলের শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ এমন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। টানা বর্ষণে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার ভবদহ এলাকার শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভয়নগরের আমডাঙ্গা খাল খনন না করা এবং ভবদহের স্লুইচগেট ও নদী দিয়ে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার ভবদহ সমস্যার সমাধানে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদী খনন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ধীরগতি সংকটকে আরও গভীর করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আমডাঙ্গা খালের সংস্কারের কার্যাদেশ দুই বছর আগে দেওয়া হলেও কাজ এখনো শুরু হয়নি। অথচ এই খাল দিয়ে ভবদহ এলাকার প্রায় ২৫ শতাংশ পানি নিষ্কাশনের সুযোগ রয়েছে। আর ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার হরি ও ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কাজও এখনো অসম্পূর্ণ। নদী খননের সময় খর্ণিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ এবং জমে থাকা পলি অপসারণ না করায় এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

 

জানা যায়, ভবদহ অঞ্চলের পানি ওঠানামা করে মণিরামপুর উপজেলার মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরিনদীর মাধ্যমে। তবে নদীগুলো খনন করা হলেও পানি ধীর গতিতে নিষ্কাশন হচ্ছে। এর সঙ্গে স্লুইচগেটগুলো বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। চলতি জুলাই মাসে দুদিন বড় ধরনের বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার ২৭টি বিল প্লাবিত হয়েছে। যার কারণে এসব বিলের পানি উপচে পড়ে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার শতাধিক গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এবারের বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

যশোরের মণিরামপুরের কুলটিয়া, নেহালপুর এবং অভয়নগরের পায়রা, প্রেমবাগ, চলিশিয়া, সুন্দলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ অঞ্চলের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশংকায় এখন দিন কাটছে তাদের।

এসব গ্রামে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, ধর্মীয় উপাসনালয়। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার মাছের ঘের। এখনো বিলগুলোতে বাড়ছে পানি। নিরাপদ চলাফেরার পাশাপাশি গোখাদ্য, সুপেয় পানির অভাব আর নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।

মণিরামপুর উপজেলার ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের সুবেন বিশ্বাস বলেন, বাড়ির উঠানে হাঁটুপানিতে মাছ ধরার চারো পেতেছি। যাতায়াতের জন্য উঠোনে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি।

সুজাতপুর গ্রামের সুভাষ বিশ্বাস বলেন, জলের মধ্যে খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। যেভাবে জল বাড়ছে তাতে এবারো জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের অন্ত থাকবে না।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, বৃষ্টির পানি জমে ভবদহ অঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন এলাকার ঘরবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য স্লুইচগেটগুলো দ্রুত খোলাসহ এলাকার বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু না করলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই বলে তিনি দাবি করেন।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, এরইমধ্যে ভবদহ অঞ্চলের তিন জেলার (যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা) দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ এখন দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।

সঙ্কট নিরসনে তিনি চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার সম্পন্ন এবং বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। খর্ণিয়া দক্ষিণ পাশের বাঁধসহ সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ এবং খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর পলি অপসারণ। আইডব্লিউএমের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে টিআরএম বাস্তবায়ন এবং নদী খননের সঙ্গে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ। পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ভবদহ পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীর সঙ্গে। তিনি জানান, খর্নিয়া সেতুর প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়েছে। ভবদহের তিনটি স্লুইচগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই আরও কয়েকটি গেট খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। গেটগুলো দিয়ে এরইমধ্যে দ্রুতগতিতে পানি অপসারিত হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭৩৬৪ শিক্ষার্থী : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

শতাধিক গ্রামে ভবদহের জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

আপডেট সময় ১১:৫৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের কলেজছাত্র জয় মন্ডলের বাড়ির উঠানে পানি। জয় জানালেন, ‘উঠোন ও বাড়ির যাতায়াতের পথে পানি উঠেছে। যার জন্য সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। আর একটু জল বাড়লে ঘরেও উঠে যাবে। ঘরে জল উঠলে রাস্তায় থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’

উপজেলার আলীপুর গ্রামের সুজিত কুমার বলেন, ‘আমার বাড়ির উঠোনে জল। গরু দুটো রাস্তার ওপর টোং ঘরে রেখেছি। আর একটু বৃষ্টি হলে বাড়িঘর ছাড়তে হবে।’

বাজেকুলটিয়া গ্রামের গৃহবধূ বহ্নিশিখা বলেন, ‘এবার আগে ভাগেই বাড়িতে জল উঠে গেছে। জলের চাপ দিনদিন বাড়ছে। টিউবওয়েল, বাথরুম জলের তলে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। খুবই খারাপ অবস্থায় আছি।’

শুধু জয়, সুজিত কিংবা বহ্নিশিখা নন, যশোরের ভবদহ অঞ্চলের শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ এমন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। টানা বর্ষণে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার ভবদহ এলাকার শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভয়নগরের আমডাঙ্গা খাল খনন না করা এবং ভবদহের স্লুইচগেট ও নদী দিয়ে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার ভবদহ সমস্যার সমাধানে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদী খনন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ধীরগতি সংকটকে আরও গভীর করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আমডাঙ্গা খালের সংস্কারের কার্যাদেশ দুই বছর আগে দেওয়া হলেও কাজ এখনো শুরু হয়নি। অথচ এই খাল দিয়ে ভবদহ এলাকার প্রায় ২৫ শতাংশ পানি নিষ্কাশনের সুযোগ রয়েছে। আর ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার হরি ও ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কাজও এখনো অসম্পূর্ণ। নদী খননের সময় খর্ণিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ এবং জমে থাকা পলি অপসারণ না করায় এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

 

জানা যায়, ভবদহ অঞ্চলের পানি ওঠানামা করে মণিরামপুর উপজেলার মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরিনদীর মাধ্যমে। তবে নদীগুলো খনন করা হলেও পানি ধীর গতিতে নিষ্কাশন হচ্ছে। এর সঙ্গে স্লুইচগেটগুলো বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। চলতি জুলাই মাসে দুদিন বড় ধরনের বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার ২৭টি বিল প্লাবিত হয়েছে। যার কারণে এসব বিলের পানি উপচে পড়ে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার শতাধিক গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এবারের বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

যশোরের মণিরামপুরের কুলটিয়া, নেহালপুর এবং অভয়নগরের পায়রা, প্রেমবাগ, চলিশিয়া, সুন্দলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ অঞ্চলের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশংকায় এখন দিন কাটছে তাদের।

এসব গ্রামে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, ধর্মীয় উপাসনালয়। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার মাছের ঘের। এখনো বিলগুলোতে বাড়ছে পানি। নিরাপদ চলাফেরার পাশাপাশি গোখাদ্য, সুপেয় পানির অভাব আর নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।

মণিরামপুর উপজেলার ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের সুবেন বিশ্বাস বলেন, বাড়ির উঠানে হাঁটুপানিতে মাছ ধরার চারো পেতেছি। যাতায়াতের জন্য উঠোনে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি।

সুজাতপুর গ্রামের সুভাষ বিশ্বাস বলেন, জলের মধ্যে খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। যেভাবে জল বাড়ছে তাতে এবারো জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের অন্ত থাকবে না।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, বৃষ্টির পানি জমে ভবদহ অঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন এলাকার ঘরবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য স্লুইচগেটগুলো দ্রুত খোলাসহ এলাকার বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু না করলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই বলে তিনি দাবি করেন।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, এরইমধ্যে ভবদহ অঞ্চলের তিন জেলার (যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা) দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ এখন দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।

সঙ্কট নিরসনে তিনি চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার সম্পন্ন এবং বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। খর্ণিয়া দক্ষিণ পাশের বাঁধসহ সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ এবং খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর পলি অপসারণ। আইডব্লিউএমের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে টিআরএম বাস্তবায়ন এবং নদী খননের সঙ্গে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ। পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ভবদহ পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীর সঙ্গে। তিনি জানান, খর্নিয়া সেতুর প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়েছে। ভবদহের তিনটি স্লুইচগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই আরও কয়েকটি গেট খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। গেটগুলো দিয়ে এরইমধ্যে দ্রুতগতিতে পানি অপসারিত হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ