ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা Logo শ্রমবাজার নি‌য়ে আলোচনা করতে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী Logo পদ্মা সেতুর ইটিসিতে টোল আদায় ১০ কোটি টাকা, নিবন্ধিত যান ১ হাজার Logo গ্যাস সংকটে নাকাল জনজীবন, রান্না করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা Logo চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টা, চালক-হেলপারসহ গ্রেফতার ৩ Logo সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল Logo ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার নায়িকাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, যা ঘটেছিলো Logo রেজানুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত Logo আমিরাতের ভিসা জটিলতার সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে : নুরুল হক নুর Logo শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ : শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা মামলায় বর্তমানে (ওএসডিপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মাগুরার সাবেক এসপি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন। 

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন তথ্য নিশ্চিত করেন। 

আদালত সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পেয়েছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজকে আসামির উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে শুনানির সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় আদালত প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আসামি মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাদীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। আসামি বাদীকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।

আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় বাদীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ৮ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে বাদী অসুস্থ হয়ে ভর্তি হলে আসামি নিজেকে বাদীর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ওই সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম এবং ঢাকায় বাদীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

পরবর্তীতে আসামি ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও সাবেক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর বাদীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বাদী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ওই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং একই সময় পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতো আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে আসামি পুনরায় বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় গত ২০ মে ঢাকার ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি দায়ের করেন। এসময় ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে গ্রহণ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।  

চলতি বছরের ১৪ জুলাই ওই ঘটনায় সত্য পেয়েছেন মর্মে আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক। 

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় ০২:০১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা মামলায় বর্তমানে (ওএসডিপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মাগুরার সাবেক এসপি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন। 

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন তথ্য নিশ্চিত করেন। 

আদালত সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পেয়েছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজকে আসামির উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে শুনানির সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় আদালত প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আসামি মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাদীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। আসামি বাদীকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।

আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় বাদীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ৮ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে বাদী অসুস্থ হয়ে ভর্তি হলে আসামি নিজেকে বাদীর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ওই সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম এবং ঢাকায় বাদীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

পরবর্তীতে আসামি ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও সাবেক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর বাদীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বাদী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ওই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং একই সময় পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতো আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে আসামি পুনরায় বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় গত ২০ মে ঢাকার ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি দায়ের করেন। এসময় ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে গ্রহণ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।  

চলতি বছরের ১৪ জুলাই ওই ঘটনায় সত্য পেয়েছেন মর্মে আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক। 

বাংলা৭১নিউজ/এবি