ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১২৮ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল Logo একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন Logo চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার Logo শিক্ষা ও কারিগরি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর Logo ১২ তলা থেকে পথচারীর ওপর পড়েও বেঁচে গেলেন যুবক, প্রাণ গেল নারীর Logo ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল Logo বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের এক লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দিল চীন Logo ভুলতে বসা হাম ফিরেছে ভয়ংকর রূপে, বিশ্বে আক্রান্তের শীর্ষে বাংলাদেশ Logo মোদির ক্ষমা প্রার্থনা ও অমিত শাহের পদত্যাগসহ ৫ দাবি রাহুল গান্ধীর Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সাক্ষাৎ

সৌদি আরবের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

অনুমোদিত চুক্তির শর্ত অনুসারে, সৌদি আরব বেসামরিক খাতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করতে পারবে এবং আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে পরমাণু শক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ করবে, পরামর্শ সহায়তা দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদি আরব প্রদান করবে কয়েক হাজার কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পরেই চুক্তির খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটে পাস হলে সেটি কার্যকর করা হবে। কংগ্রেসে চুক্তির খসড়ার সঙ্গে ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামের একটি নথিও পাঠানো হবে। সেই নথিটি বিদেশি রাষ্ট্রেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই চুক্তিটি কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই সৌদির পরমাণু শক্তি এবং বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে বিনিয়োগের দুয়ার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত হবে।

ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তিতে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অন্তর্ভুক্ত নেই। সৌদি আরব যদি চায়— তাহলে এই চুক্তির মধ্যে থেকেই পরমাণু বিশুদ্ধকরণ এবং খরচ হওয়া পরমাণু জ্বালানির পুণঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

এছাড়া এ চুক্তিতে ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ নীতিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ হলো এমন একটি নীতি— যার আওতায় জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক অ্যানার্জি অথরিটি (আইএইএ) যে কোনো সময়ে যে কোনো দেশের পরমাণু প্রকল্পের কর্মসূচি পরিদর্শন করতে পারবে। যে কোনো দেশের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্প চুক্তিতে অতিরিক্ত বা অ্যাডিশনাল প্রটোকলের অন্তর্ভুক্তি প্রায় অপরিহার্য।

কিন্তু ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

অর্থাৎ কংগ্রেসে এই চুক্তির খসড়া পাশ হলে ইউরেনিয়াম ক্রয় ও সমৃদ্ধ করার পথে সৌদির কোনো বাধা থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আরোপ করা না হলে এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর আগে একাধিকবার বলেছেন যে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে।

পরমাণু বোমা তৈরির দু’টি প্রধান ধাপ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুণঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ। বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনাকারী বেশিরভাগ দেশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদনের পরিবর্তে কঠোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

সূত্র : ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

১২৮ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল

সৌদি আরবের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ০১:০০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

অনুমোদিত চুক্তির শর্ত অনুসারে, সৌদি আরব বেসামরিক খাতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করতে পারবে এবং আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে পরমাণু শক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ করবে, পরামর্শ সহায়তা দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদি আরব প্রদান করবে কয়েক হাজার কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পরেই চুক্তির খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটে পাস হলে সেটি কার্যকর করা হবে। কংগ্রেসে চুক্তির খসড়ার সঙ্গে ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামের একটি নথিও পাঠানো হবে। সেই নথিটি বিদেশি রাষ্ট্রেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই চুক্তিটি কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই সৌদির পরমাণু শক্তি এবং বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে বিনিয়োগের দুয়ার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত হবে।

ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তিতে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অন্তর্ভুক্ত নেই। সৌদি আরব যদি চায়— তাহলে এই চুক্তির মধ্যে থেকেই পরমাণু বিশুদ্ধকরণ এবং খরচ হওয়া পরমাণু জ্বালানির পুণঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

এছাড়া এ চুক্তিতে ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ নীতিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ হলো এমন একটি নীতি— যার আওতায় জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক অ্যানার্জি অথরিটি (আইএইএ) যে কোনো সময়ে যে কোনো দেশের পরমাণু প্রকল্পের কর্মসূচি পরিদর্শন করতে পারবে। যে কোনো দেশের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্প চুক্তিতে অতিরিক্ত বা অ্যাডিশনাল প্রটোকলের অন্তর্ভুক্তি প্রায় অপরিহার্য।

কিন্তু ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

অর্থাৎ কংগ্রেসে এই চুক্তির খসড়া পাশ হলে ইউরেনিয়াম ক্রয় ও সমৃদ্ধ করার পথে সৌদির কোনো বাধা থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আরোপ করা না হলে এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর আগে একাধিকবার বলেছেন যে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে।

পরমাণু বোমা তৈরির দু’টি প্রধান ধাপ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুণঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ। বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনাকারী বেশিরভাগ দেশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদনের পরিবর্তে কঠোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

সূত্র : ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ