ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭২ Logo বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, পুলিশের সঙ্গে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ Logo বাণিজ্য সংগঠনের বিধিমালায় আসছে বড় পরিবর্তন Logo রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট Logo বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করতে জনবল-প্রযুক্তি-অস্ত্র বাড়ানো হবে Logo ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার শঙ্কা ১০ জেলায় Logo নাম-লোগো ব্যবহার করে ভুয়া ঋণের ফাঁদ, সতর্ক করলো এডিবি Logo হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘এক ফোঁটা’ তেল-গ্যাসও যাবে না, কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের Logo সারাদেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

‘নন্দিত নরক’র অমর কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ জুলাই। ২০১২ সালের এই দিনে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রেখেছেন।

রসবোধের গল্পকার হুমায়ূন আহমেদ
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের গল্প বলার রসবোধ ছিল একেবারে আলাদা। তাঁর রসিকতা কাউকে আঘাত করত না। ছোট ছোট বাক্যের মাধ্যমে পাঠকের মনে আমোদ দিতেন। হিমুর যুক্তিহীন উদাসীনতা, মিসির আলির অতি যুক্তি কিংবা শুভ্রর সরলতা— প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব একটা রসবোধ ছিল। আর যদি বলা হয় ‘বাকের ভাই’ কিংবা ‘রূপা’-এর কথা, তবে তো কথাই নেই। ছোট পর্দার নাটক থেকে শুরু করে উপন্যাসের পাতা সবখানে ছিল তাঁর হাসির চাবুক।

শিক্ষক থেকে গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ
হিমুর সংলাপগুলো এখনও পাঠকদের মুখে মুখে ফেরে। চরিত্রের ভেতরে অদ্ভুত সব বৈপরীত্য তৈরি করে তিনি পাঠককে হাসান। আবার কখনও জীবন সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেন। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো তিনি গুরুগম্ভীর সাহিত্যের দেয়াল ভেঙে আমজনতার লেখক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় রচনাবলী
১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ পাঠকমহলে এতটাই নন্দিত হয়েছিল যে তাঁকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তাঁর লেখা গানগুলো এখনও মানুষের মুখে মুখে। চলচ্চিত্র পরিচালনায়ও পেয়েছিলেন ব্যাপক সফলতা। ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছে। তেমনি ছোট পর্দার নাটক ‘খেলা’, ‘অচিন বৃক্ষ’, ‘খাদক’, ‘একি কাণ্ড’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘অন্যভুবন’ দর্শকমহলে এখনও আলোচনার খোরাক জোগায়।

এছাড়া টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘অয়োময়’, ‘আজ রবিবার’, ‘তারা তিনজন’, ‘সবুজ সাথী’, ‘উড়ে যায় বকপঙ্খী’, ‘এই মেঘ এই রৌদ্র’-এর সংলাপ নিয়ে এখনও চর্চা হয়।

জন্ম এবং ব্যক্তিগত জীবন

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নব্বইয়ের দশকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন এবং লেখালেখিতে মনোযোগ দেন। চাকরি ছাড়ার আগেই তাঁর লেখা বেশ কয়েকটি নাটক ও উপন্যাস ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর নাম গুলতেকিন আহমেদ। ২০০৩ সালে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৪ সালে গায়িকা ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদের পদক লাভ
বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি। এছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কারসহ (১৯৮৮) অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন নন্দিত এ কথাসাহিত্যিক।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭২

‘নন্দিত নরক’র অমর কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় ০৯:১২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ জুলাই। ২০১২ সালের এই দিনে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রেখেছেন।

রসবোধের গল্পকার হুমায়ূন আহমেদ
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের গল্প বলার রসবোধ ছিল একেবারে আলাদা। তাঁর রসিকতা কাউকে আঘাত করত না। ছোট ছোট বাক্যের মাধ্যমে পাঠকের মনে আমোদ দিতেন। হিমুর যুক্তিহীন উদাসীনতা, মিসির আলির অতি যুক্তি কিংবা শুভ্রর সরলতা— প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব একটা রসবোধ ছিল। আর যদি বলা হয় ‘বাকের ভাই’ কিংবা ‘রূপা’-এর কথা, তবে তো কথাই নেই। ছোট পর্দার নাটক থেকে শুরু করে উপন্যাসের পাতা সবখানে ছিল তাঁর হাসির চাবুক।

শিক্ষক থেকে গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ
হিমুর সংলাপগুলো এখনও পাঠকদের মুখে মুখে ফেরে। চরিত্রের ভেতরে অদ্ভুত সব বৈপরীত্য তৈরি করে তিনি পাঠককে হাসান। আবার কখনও জীবন সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেন। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো তিনি গুরুগম্ভীর সাহিত্যের দেয়াল ভেঙে আমজনতার লেখক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় রচনাবলী
১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ পাঠকমহলে এতটাই নন্দিত হয়েছিল যে তাঁকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তাঁর লেখা গানগুলো এখনও মানুষের মুখে মুখে। চলচ্চিত্র পরিচালনায়ও পেয়েছিলেন ব্যাপক সফলতা। ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছে। তেমনি ছোট পর্দার নাটক ‘খেলা’, ‘অচিন বৃক্ষ’, ‘খাদক’, ‘একি কাণ্ড’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘অন্যভুবন’ দর্শকমহলে এখনও আলোচনার খোরাক জোগায়।

এছাড়া টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘অয়োময়’, ‘আজ রবিবার’, ‘তারা তিনজন’, ‘সবুজ সাথী’, ‘উড়ে যায় বকপঙ্খী’, ‘এই মেঘ এই রৌদ্র’-এর সংলাপ নিয়ে এখনও চর্চা হয়।

জন্ম এবং ব্যক্তিগত জীবন

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নব্বইয়ের দশকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন এবং লেখালেখিতে মনোযোগ দেন। চাকরি ছাড়ার আগেই তাঁর লেখা বেশ কয়েকটি নাটক ও উপন্যাস ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর নাম গুলতেকিন আহমেদ। ২০০৩ সালে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৪ সালে গায়িকা ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদের পদক লাভ
বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি। এছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কারসহ (১৯৮৮) অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন নন্দিত এ কথাসাহিত্যিক।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস