ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তাল কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত।
নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই সৈকতের জিরো পয়েন্টসহ পূর্ব ও পশ্চিম অংশে অসংখ্য পর্যটককে উত্তাল ঢেউ উপভোগ করতে দেখা যায়। অনেকেই সমুদ্রে নেমে ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।

সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং উত্তাল সাগরের ভিন্নরূপ পর্যটকদের কাছে এনে দেয় এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা বর্ষার এই রূপ উপভোগে সৈকতে ভিড় করেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক রাসেল মোল্লা বলেন, ‘দুইবার কুয়াকাটায় এসেছি, কিন্তু এত বড় ঢেউ আগে কখনও দেখিনি। পরিবারের সবাই মিলে উত্তাল সমুদ্রের সৌন্দর্য দারুণ উপভোগ করছি।’

খুলনার খালিশপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী নুসরাত ইমরোজ বলেন, ‘বর্ষায় সমুদ্রের সৌন্দর্য অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। বিশাল ঢেউ দেখে খুব ভালো লাগছে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় আরও দৃশ্যমান ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।’

এদিকে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়লেও সব হোটেলে সমানভাবে এর প্রভাব পড়েনি। সৈকতসংলগ্ন কয়েকটি প্রথম সারির হোটেলে ভালো বুকিং থাকলেও শহরের অন্যান্য হোটেলে এখনো প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক ওঠেননি।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ফরাজী বলেন, ‘সৈকতসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে ভালো বুকিং রয়েছে। তবে অন্যান্য হোটেলে এখনো আশানুরূপ বুকিং হয়নি।’

উত্তাল সমুদ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই অনেক পর্যটক উত্তাল সমুদ্র দেখতে আসছেন। তাই সৈকতে পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা, লাইফগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও টুরিস্ট পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় আমরা মাইকিং করে পর্যটকদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার অনুরোধ করছি। পাশাপাশি সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তাল কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

আপডেট সময় ০৫:৫৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত।
নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই সৈকতের জিরো পয়েন্টসহ পূর্ব ও পশ্চিম অংশে অসংখ্য পর্যটককে উত্তাল ঢেউ উপভোগ করতে দেখা যায়। অনেকেই সমুদ্রে নেমে ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।

সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং উত্তাল সাগরের ভিন্নরূপ পর্যটকদের কাছে এনে দেয় এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা বর্ষার এই রূপ উপভোগে সৈকতে ভিড় করেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক রাসেল মোল্লা বলেন, ‘দুইবার কুয়াকাটায় এসেছি, কিন্তু এত বড় ঢেউ আগে কখনও দেখিনি। পরিবারের সবাই মিলে উত্তাল সমুদ্রের সৌন্দর্য দারুণ উপভোগ করছি।’

খুলনার খালিশপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী নুসরাত ইমরোজ বলেন, ‘বর্ষায় সমুদ্রের সৌন্দর্য অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। বিশাল ঢেউ দেখে খুব ভালো লাগছে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় আরও দৃশ্যমান ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।’

এদিকে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়লেও সব হোটেলে সমানভাবে এর প্রভাব পড়েনি। সৈকতসংলগ্ন কয়েকটি প্রথম সারির হোটেলে ভালো বুকিং থাকলেও শহরের অন্যান্য হোটেলে এখনো প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক ওঠেননি।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ফরাজী বলেন, ‘সৈকতসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে ভালো বুকিং রয়েছে। তবে অন্যান্য হোটেলে এখনো আশানুরূপ বুকিং হয়নি।’

উত্তাল সমুদ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই অনেক পর্যটক উত্তাল সমুদ্র দেখতে আসছেন। তাই সৈকতে পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা, লাইফগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও টুরিস্ট পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় আমরা মাইকিং করে পর্যটকদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার অনুরোধ করছি। পাশাপাশি সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস