সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য উপযোগী বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের অগ্রাধিকার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা–২০২৬ চলমান। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বাভাবিক উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।
তিনি বলেন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও এখন দেশজুড়ে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির মূল্যায়ন করে যথাসময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করাও দায়িত্ব। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েক দিন ধরেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। মঙ্গলবার সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সর্বসম্মত মতামত এসেছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। তবে কোনো শিক্ষার্থীর ভোগান্তি যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতে অনুকূল পরিবেশ থাকায় বৃহত্তর স্বার্থে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও বিরূপ আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকবে এবং শিক্ষার্থীবান্ধব যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত বা পরীক্ষার সময় বাড়ানোর মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের কোথাও কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারলে, তিনি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার দিন একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে পারবেন। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সবাইকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন।
মাহদী আমিন বলেন, সোমবার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতায় কেবল ওই কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত সিদ্ধান্তে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। একটি কেন্দ্রের এ পরিস্থিতি দুঃখজনক হলেও কুমিল্লা বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হচ্ছে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি কেন্দ্রের ছবি বা ভিডিও পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে না। মিথ্যা বা পুরোনো ছবি-ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালানো কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা গণ–আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সচেতন থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ রয়েছে, মতপার্থক্যও থাকবে। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবার ঐকমত্য প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব, কারণ তাঁরাই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই বর্তমান সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েছে, এটি যেমন সত্য, তেমনি দেশের অধিকাংশ পরীক্ষার্থী নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে, এটিও সত্য।
মাহদী আমিন বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই আগামীর দেশ গড়ার কারিগর। প্রধানমন্ত্রী সবসময় তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা দূরে রেখে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে সর্বোচ্চ ফল অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। এই পরীক্ষা শুধু একটি সনদ অর্জনের নয়, বরং নিজের লক্ষ্য অর্জন ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
শেষে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে আতঙ্কিত না হয় বা তাদের আত্মবিশ্বাস ক্ষুণ্ন না হয়, সেই পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী পরীক্ষাগুলোতেও শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠুভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















