পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে পাথরের আঘাতে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনা পুরো দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আলোচিত সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়েছে।
ওই হত্যা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানা যায়, মামলাটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে এর বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন।
বিচার শুরু হওয়া আসামিরা হলেন- মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. সজীব বেপারী, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম, সাগর, মো. রুমান বেপারী, মো. আবির হোসেন ও মো. পারভেজ, মো. জহিরুল ওরফে জলিল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজিব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন ও অপু দাস।
এদের মধ্যে প্রথম ১০ জন কারাগারে আছেন। পরের তিনজন হাইকোর্টের জামিনে রয়েছেন। তবে জলিল, ইমরান, শফিউল ইসলাম, জিয়াউদ্দিন রাজিব, হোসেন চৌকিদার, সারোয়ার হোসেন টিটু, মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন ও অপু দাস পলাতক।
গত বছরের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল দুর্বৃত্ত ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে এলোপাতাড়িভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার রজনি ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।
ঘটনার পরের দিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার (বর্তমানে শাহবাগ) অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তিনি।
তবে অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় আবারও তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে আবারও ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১০ মে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন কোতোয়ালী থানার ইন্সপেক্টর শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















