ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনে আছড়ে পড়েছে টাইফুন বাভি, বাতিল শত শত ফ্লাইট

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হেনেছে চীনে। শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়েছে টাইফুন ‘বাভি’। তবে এটি আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল ও পরিবহনসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই টাইফুনটি শনিবার সন্ধ্যায় প্রথমে উপকূলীয় তাইঝৌ শহরে আঘাত হানে। এরপর মধ্যরাতের দিকে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়েনঝৌ শহরে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে টাইফুনটি। জাপানের কয়েকটি দূরবর্তী দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে যাওয়ার সময় সেখানেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়। 

এর আগে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে ফিলিপাইনে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। যদিও বাভি এখন দুর্বল হয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে, তবুও এর বৃষ্টিবলয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্পের কারণে এটি এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে এর শক্তি কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার(১২ জুলাই) ঝেজিয়াং প্রদেশের পূর্বাঞ্চল এবং ফুজিয়ান প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ‘অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত’ হতে পারে। সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখেই মানুষকে ব্যাপকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকেই ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাশের প্রদেশগুলো থেকেও হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।

ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, কর্মস্থল এবং খোলা আকাশের নিচের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট এবং কয়েক ডজন ট্রেন চলাচল। প্রায় এক কোটি মানুষের শহর ওয়েনঝৌ টাইফুনটির গতিপথের খুব কাছাকাছি থাকায় সেখান থেকেও কয়েক লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেইজিংয়ে ঝুঁকি এড়াতে এক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার(৬ জুলাই) বাভি সুপার টাইফুন হিসেবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে আঘাত হানে। পরে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় বাতাসের গতি কমে ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটারে নেমে এলেও এটি জাপানের রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জের সাকিশিমা দ্বীপগুলোতে আঘাত হানে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজারো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। তাইওয়ানে টাইফুনটি সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। সেখানে ভূমিধসের আশঙ্কাও দেখা দেয়। তবে জাপান ও তাইওয়ান—কোনো দেশেই এ ঘটনায় নতুন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ আগেই সতর্ক করেছিল, বাভির প্রভাবে কোথাও কোথাও এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। টাইফুনের কারণে কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় স্কুলে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে মানুষের ভিড়ে অনেক সুপারমার্কেটের তাক খালি হয়ে গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষয়ক্ষতি থেকে এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন এলাকা। মায়সাকের আঘাতে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়। বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুও মারা যায়, যার ফলে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হুবেই প্রদেশে দুটি টর্নেডোরও সৃষ্টি হয়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে আছড়ে পড়েছে টাইফুন বাভি, বাতিল শত শত ফ্লাইট

আপডেট সময় ১২:১৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হেনেছে চীনে। শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়েছে টাইফুন ‘বাভি’। তবে এটি আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল ও পরিবহনসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই টাইফুনটি শনিবার সন্ধ্যায় প্রথমে উপকূলীয় তাইঝৌ শহরে আঘাত হানে। এরপর মধ্যরাতের দিকে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়েনঝৌ শহরে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে টাইফুনটি। জাপানের কয়েকটি দূরবর্তী দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে যাওয়ার সময় সেখানেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়। 

এর আগে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে ফিলিপাইনে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। যদিও বাভি এখন দুর্বল হয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে, তবুও এর বৃষ্টিবলয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্পের কারণে এটি এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে এর শক্তি কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার(১২ জুলাই) ঝেজিয়াং প্রদেশের পূর্বাঞ্চল এবং ফুজিয়ান প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ‘অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত’ হতে পারে। সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখেই মানুষকে ব্যাপকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকেই ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাশের প্রদেশগুলো থেকেও হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।

ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, কর্মস্থল এবং খোলা আকাশের নিচের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট এবং কয়েক ডজন ট্রেন চলাচল। প্রায় এক কোটি মানুষের শহর ওয়েনঝৌ টাইফুনটির গতিপথের খুব কাছাকাছি থাকায় সেখান থেকেও কয়েক লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেইজিংয়ে ঝুঁকি এড়াতে এক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার(৬ জুলাই) বাভি সুপার টাইফুন হিসেবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে আঘাত হানে। পরে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় বাতাসের গতি কমে ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটারে নেমে এলেও এটি জাপানের রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জের সাকিশিমা দ্বীপগুলোতে আঘাত হানে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজারো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। তাইওয়ানে টাইফুনটি সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। সেখানে ভূমিধসের আশঙ্কাও দেখা দেয়। তবে জাপান ও তাইওয়ান—কোনো দেশেই এ ঘটনায় নতুন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ আগেই সতর্ক করেছিল, বাভির প্রভাবে কোথাও কোথাও এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। টাইফুনের কারণে কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় স্কুলে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে মানুষের ভিড়ে অনেক সুপারমার্কেটের তাক খালি হয়ে গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষয়ক্ষতি থেকে এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন এলাকা। মায়সাকের আঘাতে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়। বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুও মারা যায়, যার ফলে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হুবেই প্রদেশে দুটি টর্নেডোরও সৃষ্টি হয়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস