ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হচ্ছে, সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী Logo গাড়িতেই পুড়ে মরলেন ১২ জন! যে ৩ কারণে স্পেনের আগুন এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে Logo দেশের ১৬ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত Logo কেরানীগঞ্জে গ্যাসের লাইনে কাজ করার সময় বিস্ফোরণ, ৩ শ্রমিক দগ্ধ Logo টেইলর সুইফটের বিয়ের নিরাপত্তায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয় Logo বানের জলে ভাসছে মানুষ: চারদিকে হাহাকার ও বেঁচে থাকার লড়াই Logo উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা Logo মিরসরাইয়ে পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত জনজীবন, বিদ্যুৎহীন অনেক এলাকা Logo বৃষ্টির পানিতে বেনাপোল বন্দরে তলিয়েছে কোটি টাকার আমদানি পণ্য
উজানে সবগুলো বাঁধের কপাট খুলে দিয়েছে ভারত

বানের জলে ভাসছে মানুষ: চারদিকে হাহাকার ও বেঁচে থাকার লড়াই

 টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা হচ্ছে প্লাবিত। উজানের পাহাড়ি ঢল আর আকাশভাঙা বৃষ্টিতে দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে চলছে হাহাকার। নিমেষেই তলিয়ে গেছে মাঠের ফসল, ভেসে গেছে হাজারো কৃষকের স্বপ্নের মাছের ঘের, আর বসতভিটা। ঙেঙ্গে যাচ্ছে বাঁধ, ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণ, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাটবাজার, রাস্তাঘাট, ব্রীজকালভার্ট ,অবকাঠামো সবকিছু। বুক সমান পানি নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল মিলিয়েই পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৪ লক্ষাধিক। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হচ্ছে- নাইক্ষ্যংছড়ি চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, আলীকদম।কক্সবাজারে পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু।

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপের কারণে গত ৩ দিন ধরে দেশের ভেতর এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে অতিভারী বর্ষণ চলছে। এতে করে দেশের আরও অনেক জেলা প্লাবিত হওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত উজানে সবগুলো বাঁধের মুখ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এতে আরও মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।   দেশের অধিকাশং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি বাড়ছে। কোন  কোন নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিতক হচ্ছে। জানা গেছে, ভারত  ত্রিপুরার একমাত্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘ডুম্বুর জলাধারের’ গেট উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।  ফারাক্কা ও ডুম্বুর বাঁধের অববাহিকায় এই বিপুল পানিপ্রবাহ নদ-নদী বেয়ে তীব্র গতিতে বাংলাদেশের ফেনী, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। গজলডোবা বাঁধের কপাটও খুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।  

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলকে প্লাবিত এলাকার মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব এলাকার উচ্চ মাধ্যিমিক পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মেডিক্যাল টিম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো কাজ করছে। তাছাড়াও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা দূর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সংকটকালীন মুহূর্তে পানিবন্দি মানুষের জীবন বাঁচানো, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি এবং নিরাপত্তা বড় প্রয়োজন। প্লাবিত জনপদ আর পানিবন্দী বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়।

প্লাবিত মানুষ ও মানবিক বিপর্যয়

সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কেবল কক্সবাজার জেলাতেই প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১০টি উপজেলার অন্তত ১৫০টি গ্রাম। বান্দরবান শহর ও আশপাশের নিম্নাঞ্চল চার দিন ধরে পানির নিচে থাকার পর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও রেখে গেছে কাদা আর ধ্বংসস্তূপ। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলো মিলিয়ে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, সাইক্লোন শেল্টার কিংবা উঁচু সড়কে পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল মিলিয়েপানিবন্দি মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৪ লক্ষাধিক।  বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হচ্ছে- নাইক্ষ্যংছড়ি চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, আলীকদম। কক্সবাজারে পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু।

খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গম প্লাবিত গ্রামগুলোতে এখন সবচেয়ে বড় হাহাকার খাদ্যের। চুলা জ্বালানোর কোনো উপায় নেই, ঘরে থাকা জমানো চাল-ডালও বানের পানিতে ভেসে গেছে। এর চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। নলকূপগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবাহী রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিশুদের নিয়ে মায়েরা পড়েছেন চরম বিপাকে; শুকনো খাবার আর এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানির জন্য চারদিকে হাহাকার চলছে।

জেলাওয়ারি অবস্থা ও বাঁধ ভাঙার চিত্র

কক্সবাজার: চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী নদীর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রতিরক্ষা বাঁধের একাধিক পয়েন্ট ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে।

বান্দরবান: সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ায় জেলা শহরসহ রুমা, থানচি ও আলীকদম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আলীকদম সড়ক থেকে পানি কিছুটা নামলেও কাদার কারণে চলাচলের অনুপযোগী। পুরো জেলায় টানা তিন-চার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিলেট ও উত্তর পূর্বাঞ্চল: পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের নদীগুলোর পানিও নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে, যার ফলে এসব অঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানির ঢল ও ভারতীয় বাঁধের প্রভাব

পাহাড়ি অববাহিকায় নজিরবিহীন বৃষ্টির কারণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেও তীব্র বন্যা দেখা দিয়েছে। ত্রিপুরার খোয়াই, ধলাই ও গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপে ত্রিপুরার একমাত্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘ডুম্বুর জলাধারের’ গেট উন্মুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফারাক্কা ও ডুম্বুর বাঁধের অববাহিকায় এই বিপুল পানিপ্রবাহ নদ-নদী বেয়ে তীব্র গতিতে বাংলাদেশের ফেনী, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। উজানের এই ঢল ভাটির অঞ্চলের প্লাবন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে মাঠ প্রশাসনকে তৎপর করেছে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বন্যাদুর্গত দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) স্পিডবোট ও ট্রলার নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে চকরিয়া ও পেকুয়ায় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে যৌথ বাহিনী। পানিবাহী রোগ ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। শুকনো খাবার, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠণগুলো। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু করেছে (হটলাইন: ১০২)। এর পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুকসমান পানি মাড়িয়ে শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

 আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা সীমান্তে আরও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ী এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক করেছে যে, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও আগামী কয়েক দিনে সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

পাউবো মহাপরিচালক

চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্নে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) মাঠ পর্যায়ে ও কেন্দ্রীয়ভাবে বেশ কিছু জরুরি ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সাথে দুর্যোগ মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলার জন্য বোর্ড প্রধানত দুই ধরনের (কাঠামোগত ও তথ্যগত) পদক্ষেপ নিয়েছে। 

প্রথমত: বন্যাজনিত সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সার্বক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বাপাউবো দপ্তরে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এখান থেকে দেশের সব প্রধান নদীর পানিপ্রবাহ ও বাঁধের পরিস্থিতি প্রতি ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত: জরুরি বাঁধ মেরামত ও জিওব্যাগ ডাম্পিং। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া, চট্টগ্রাম, বান্দরবান) এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যেসব পয়েন্টে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে বা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ (বালুভর্তি বস্তা) এবং আরসিসি ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে যাতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকানো যায়।

পাউবো মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন বলেন, বন্যা উপদ্রুত জেলাগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিকভাবে কর্মস্থলে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

তিনি বলেন, এছাড়াও দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং ফায়ার সার্ভিসের সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বয় করে কাজ করছে, যাতে বাঁধ ভেঙে যাওয়া বা পানি বাড়ার সাথে সাথে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো যায়।

পাউবো’র প্রধান প্রকৌশলী

পাউবো চট্রগ্রাম জোনের প্রধান প্রকৌশলী খ, ম. জুলফিকার তারেক জানান, বন্যার এই সময়ে নদী রক্ষা বাঁধের ওপর ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, যাতে দুর্বল হয়ে পড়া বাঁধ ভেঙে না যায়। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বন্যার ভুয়া তথ্য বা কোনো বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মিথ্যা গুজবে কান না দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিন অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব এলাকার নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বাঁধ উপচে পানি ঢোকার ঝুঁকি রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টার বা নিরাপদ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রকৌশলী খ, ম. জুলফিকার তারেক বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, আলীকদম এর পাশাপাশি কুতুবদিয়া, বাঁশখালীর নিন্মাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। তবে চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া এলাকা প্লাবিত হওয়ার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে এসব এলাকায় বাঁধ না থাকা। তিনি বলেন, সাংগু নদী তীর সংলগ্ন এসব এলাকার দুই পারে প্রায় ২শ’ থেকে ২৫০ কিলোমিটার এলাকা বাঁধের আওতায় আসলে এখানকার নিন্মাঞ্চল পানির কবল থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবে। তিনি চট্রগাম প্লাবিত হওয়ার জন্য নদীগুলো ড্রেজিং না করা, খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া, খাল ভরাট করে  বাড়ীঘর নির্মাণকে দায়ী করেন। তার মতে, চট্রগ্রামকে দ্রুত পানি মুক্ত করতে হলে জরুরিভিত্তিতে বড় স্কেলের পাম্প হাউজ নির্মাণ করতে হবে। যার পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা থাককে ৭০ থেকে ১০০ কিউসেক পর্যন্ত।

মানবিক আর্তি

বানের পানির চেয়েও এখন বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুধা আর রোগবালাই। প্রশাসনের পাশাপাশি দেশের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষকে জররিভিত্তিতে এই মানবিক বিপর্যয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

উজানে সবগুলো বাঁধের কপাট খুলে দিয়েছে ভারত

বানের জলে ভাসছে মানুষ: চারদিকে হাহাকার ও বেঁচে থাকার লড়াই

আপডেট সময় ১২:১৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

 টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা হচ্ছে প্লাবিত। উজানের পাহাড়ি ঢল আর আকাশভাঙা বৃষ্টিতে দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে চলছে হাহাকার। নিমেষেই তলিয়ে গেছে মাঠের ফসল, ভেসে গেছে হাজারো কৃষকের স্বপ্নের মাছের ঘের, আর বসতভিটা। ঙেঙ্গে যাচ্ছে বাঁধ, ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণ, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাটবাজার, রাস্তাঘাট, ব্রীজকালভার্ট ,অবকাঠামো সবকিছু। বুক সমান পানি নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল মিলিয়েই পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৪ লক্ষাধিক। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হচ্ছে- নাইক্ষ্যংছড়ি চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, আলীকদম।কক্সবাজারে পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু।

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপের কারণে গত ৩ দিন ধরে দেশের ভেতর এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে অতিভারী বর্ষণ চলছে। এতে করে দেশের আরও অনেক জেলা প্লাবিত হওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত উজানে সবগুলো বাঁধের মুখ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এতে আরও মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।   দেশের অধিকাশং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি বাড়ছে। কোন  কোন নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিতক হচ্ছে। জানা গেছে, ভারত  ত্রিপুরার একমাত্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘ডুম্বুর জলাধারের’ গেট উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।  ফারাক্কা ও ডুম্বুর বাঁধের অববাহিকায় এই বিপুল পানিপ্রবাহ নদ-নদী বেয়ে তীব্র গতিতে বাংলাদেশের ফেনী, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। গজলডোবা বাঁধের কপাটও খুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।  

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলকে প্লাবিত এলাকার মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব এলাকার উচ্চ মাধ্যিমিক পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মেডিক্যাল টিম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো কাজ করছে। তাছাড়াও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা দূর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সংকটকালীন মুহূর্তে পানিবন্দি মানুষের জীবন বাঁচানো, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি এবং নিরাপত্তা বড় প্রয়োজন। প্লাবিত জনপদ আর পানিবন্দী বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়।

প্লাবিত মানুষ ও মানবিক বিপর্যয়

সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কেবল কক্সবাজার জেলাতেই প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১০টি উপজেলার অন্তত ১৫০টি গ্রাম। বান্দরবান শহর ও আশপাশের নিম্নাঞ্চল চার দিন ধরে পানির নিচে থাকার পর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও রেখে গেছে কাদা আর ধ্বংসস্তূপ। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলো মিলিয়ে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, সাইক্লোন শেল্টার কিংবা উঁচু সড়কে পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল মিলিয়েপানিবন্দি মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৪ লক্ষাধিক।  বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হচ্ছে- নাইক্ষ্যংছড়ি চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, আলীকদম। কক্সবাজারে পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু।

খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গম প্লাবিত গ্রামগুলোতে এখন সবচেয়ে বড় হাহাকার খাদ্যের। চুলা জ্বালানোর কোনো উপায় নেই, ঘরে থাকা জমানো চাল-ডালও বানের পানিতে ভেসে গেছে। এর চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। নলকূপগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবাহী রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিশুদের নিয়ে মায়েরা পড়েছেন চরম বিপাকে; শুকনো খাবার আর এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানির জন্য চারদিকে হাহাকার চলছে।

জেলাওয়ারি অবস্থা ও বাঁধ ভাঙার চিত্র

কক্সবাজার: চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী নদীর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রতিরক্ষা বাঁধের একাধিক পয়েন্ট ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে।

বান্দরবান: সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ায় জেলা শহরসহ রুমা, থানচি ও আলীকদম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আলীকদম সড়ক থেকে পানি কিছুটা নামলেও কাদার কারণে চলাচলের অনুপযোগী। পুরো জেলায় টানা তিন-চার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিলেট ও উত্তর পূর্বাঞ্চল: পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের নদীগুলোর পানিও নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে, যার ফলে এসব অঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানির ঢল ও ভারতীয় বাঁধের প্রভাব

পাহাড়ি অববাহিকায় নজিরবিহীন বৃষ্টির কারণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেও তীব্র বন্যা দেখা দিয়েছে। ত্রিপুরার খোয়াই, ধলাই ও গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপে ত্রিপুরার একমাত্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘ডুম্বুর জলাধারের’ গেট উন্মুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফারাক্কা ও ডুম্বুর বাঁধের অববাহিকায় এই বিপুল পানিপ্রবাহ নদ-নদী বেয়ে তীব্র গতিতে বাংলাদেশের ফেনী, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। উজানের এই ঢল ভাটির অঞ্চলের প্লাবন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে মাঠ প্রশাসনকে তৎপর করেছে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বন্যাদুর্গত দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) স্পিডবোট ও ট্রলার নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে চকরিয়া ও পেকুয়ায় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে যৌথ বাহিনী। পানিবাহী রোগ ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। শুকনো খাবার, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠণগুলো। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু করেছে (হটলাইন: ১০২)। এর পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুকসমান পানি মাড়িয়ে শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

 আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা সীমান্তে আরও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ী এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক করেছে যে, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও আগামী কয়েক দিনে সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

পাউবো মহাপরিচালক

চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্নে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) মাঠ পর্যায়ে ও কেন্দ্রীয়ভাবে বেশ কিছু জরুরি ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সাথে দুর্যোগ মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলার জন্য বোর্ড প্রধানত দুই ধরনের (কাঠামোগত ও তথ্যগত) পদক্ষেপ নিয়েছে। 

প্রথমত: বন্যাজনিত সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সার্বক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বাপাউবো দপ্তরে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এখান থেকে দেশের সব প্রধান নদীর পানিপ্রবাহ ও বাঁধের পরিস্থিতি প্রতি ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত: জরুরি বাঁধ মেরামত ও জিওব্যাগ ডাম্পিং। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া, চট্টগ্রাম, বান্দরবান) এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যেসব পয়েন্টে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে বা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ (বালুভর্তি বস্তা) এবং আরসিসি ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে যাতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকানো যায়।

পাউবো মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন বলেন, বন্যা উপদ্রুত জেলাগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিকভাবে কর্মস্থলে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

তিনি বলেন, এছাড়াও দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং ফায়ার সার্ভিসের সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বয় করে কাজ করছে, যাতে বাঁধ ভেঙে যাওয়া বা পানি বাড়ার সাথে সাথে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো যায়।

পাউবো’র প্রধান প্রকৌশলী

পাউবো চট্রগ্রাম জোনের প্রধান প্রকৌশলী খ, ম. জুলফিকার তারেক জানান, বন্যার এই সময়ে নদী রক্ষা বাঁধের ওপর ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, যাতে দুর্বল হয়ে পড়া বাঁধ ভেঙে না যায়। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বন্যার ভুয়া তথ্য বা কোনো বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মিথ্যা গুজবে কান না দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিন অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব এলাকার নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বাঁধ উপচে পানি ঢোকার ঝুঁকি রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টার বা নিরাপদ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রকৌশলী খ, ম. জুলফিকার তারেক বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, আলীকদম এর পাশাপাশি কুতুবদিয়া, বাঁশখালীর নিন্মাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। তবে চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া এলাকা প্লাবিত হওয়ার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে এসব এলাকায় বাঁধ না থাকা। তিনি বলেন, সাংগু নদী তীর সংলগ্ন এসব এলাকার দুই পারে প্রায় ২শ’ থেকে ২৫০ কিলোমিটার এলাকা বাঁধের আওতায় আসলে এখানকার নিন্মাঞ্চল পানির কবল থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবে। তিনি চট্রগাম প্লাবিত হওয়ার জন্য নদীগুলো ড্রেজিং না করা, খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া, খাল ভরাট করে  বাড়ীঘর নির্মাণকে দায়ী করেন। তার মতে, চট্রগ্রামকে দ্রুত পানি মুক্ত করতে হলে জরুরিভিত্তিতে বড় স্কেলের পাম্প হাউজ নির্মাণ করতে হবে। যার পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা থাককে ৭০ থেকে ১০০ কিউসেক পর্যন্ত।

মানবিক আর্তি

বানের পানির চেয়েও এখন বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুধা আর রোগবালাই। প্রশাসনের পাশাপাশি দেশের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষকে জররিভিত্তিতে এই মানবিক বিপর্যয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি