ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পোশাক কারখানায় সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ Logo নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত, যেকোনো সময় ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব Logo প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা Logo কলকাতার রাজপথে জয়া আহসান, মিশ্র প্রতিক্রিয়া Logo নারায়ণগঞ্জে নির্মীয়মাণ ভবন থেকে পুলিশের লুট হওয়া পিস্তল উদ্ধার Logo জনগণের জীবনমানের উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী Logo এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোটের সুযোগ দিতে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে Logo গাইবান্ধায় দ্বিগুন দামে চারা কিনে ধান রোপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা Logo প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হোটেল বলে পর্যটককে হুমকি সী-গালের ম্যানেজার গ্রেপ্তার Logo ‘টক্সিক’-এর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক, যশ বললেন ‘অশালীন কিছু নেই’

৫০ বছরেও হয়নি সেতু, রশি টানা নৌকায় নদী পার হয় পাঁচ গ্রামের মানুষ

সুনামগঞ্জের আলীপুরে বিগত পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি খাসিয়ামারা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ। ফলে প্রতিদিনই রশি টেনে খেয়া নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থী, নারী-শিশুসহ হাজারো মানুষ। অসুস্থ রোগী, কর্মজীবী কিংবা জরুরি প্রয়োজনে ছুটে চলা কেউই এ দুর্ভোগের বাইরে নন। এলাকাবাসীর ভোগান্তি দিন দিন বাড়লেও সেতুর কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। 

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাঁচ বছর পরও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। ফলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর, আলীপুর, সুনাপুর, বৈঠাখাই ও হাসনবাহার গ্রামবাসীদের ভাগ্যে এখনো জোটেনি নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছর ধরে আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাট দিয়ে রশি টেনে নৌকায় খাসিয়ামারা নদী পার হচ্ছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার সম্ভব হলেও পাহাড়ি ঢল নামলে নদী ভয়ংকর রূপ নেয়। তখন নৌকায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিকল্প কোনো সেতু না থাকায় বাধ্য হয়েই রশি টেনে নদী পার হন তারা।

দীর্ঘদিনের দাবির পর খাসিয়ামারা নদীর ওপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২২ সালে আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাট এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ৫০০ মিটার চেইনেজে নির্মাণাধীন এ সেতুর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি। 

আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা রুমন মিয়া বলেন, এই ব্রিজের কাজ শেষ হলে আমাদের সন্তানদের স্কুলে যাতায়াত সহজ হতো, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সুবিধা হতো। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে ধীর গতিতে কাজ চলছে। কখনো শ্রমিক আসে, আবার অনেক দিন কাজ বন্ধ থাকে। এভাবে চললে আরও কয়েক বছরেও কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমরা দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাই।

স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক বিল্লাল হুসেন বলেন, এক বছর কাজ হলে, আরেক বছর বন্ধ থাকে। শুনেছি শ্রমিকদের ঠিকমতো টাকা দেওয়া হয় না বলেই তারা কাজ ছেড়ে চলে যায়। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে পারাপার খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

খেয়া নৌকার মাঝি আম্বর আলী বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে ব্রিজের কাজ কখনো চলে, কখনো বন্ধ থাকে। রাতে এক-দুইটার সময়ও রোগী নিয়ে মানুষ ফোন করে নদী পার করে দিতে বলে। ব্রিজটি হয়ে গেলে কয়েক গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান হবে। 

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, খাসিয়ামারা নদীর ওপর নির্মাণাধীন প্রায় ৭২ মিটার সেতুর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে একটি স্লাব এবং দুই পাশের অ্যাপ্রোচের এক পাশের কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যে কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিলে প্রকল্পটি আরও বিলম্বিত হবে। তাই বর্তমান ঠিকাদারের মাধ্যমেই দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

পোশাক কারখানায় সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ

৫০ বছরেও হয়নি সেতু, রশি টানা নৌকায় নদী পার হয় পাঁচ গ্রামের মানুষ

আপডেট সময় ০১:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জের আলীপুরে বিগত পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি খাসিয়ামারা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ। ফলে প্রতিদিনই রশি টেনে খেয়া নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থী, নারী-শিশুসহ হাজারো মানুষ। অসুস্থ রোগী, কর্মজীবী কিংবা জরুরি প্রয়োজনে ছুটে চলা কেউই এ দুর্ভোগের বাইরে নন। এলাকাবাসীর ভোগান্তি দিন দিন বাড়লেও সেতুর কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। 

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাঁচ বছর পরও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। ফলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর, আলীপুর, সুনাপুর, বৈঠাখাই ও হাসনবাহার গ্রামবাসীদের ভাগ্যে এখনো জোটেনি নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছর ধরে আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাট দিয়ে রশি টেনে নৌকায় খাসিয়ামারা নদী পার হচ্ছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার সম্ভব হলেও পাহাড়ি ঢল নামলে নদী ভয়ংকর রূপ নেয়। তখন নৌকায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিকল্প কোনো সেতু না থাকায় বাধ্য হয়েই রশি টেনে নদী পার হন তারা।

দীর্ঘদিনের দাবির পর খাসিয়ামারা নদীর ওপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২২ সালে আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাট এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ৫০০ মিটার চেইনেজে নির্মাণাধীন এ সেতুর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি। 

আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা রুমন মিয়া বলেন, এই ব্রিজের কাজ শেষ হলে আমাদের সন্তানদের স্কুলে যাতায়াত সহজ হতো, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সুবিধা হতো। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে ধীর গতিতে কাজ চলছে। কখনো শ্রমিক আসে, আবার অনেক দিন কাজ বন্ধ থাকে। এভাবে চললে আরও কয়েক বছরেও কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমরা দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাই।

স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক বিল্লাল হুসেন বলেন, এক বছর কাজ হলে, আরেক বছর বন্ধ থাকে। শুনেছি শ্রমিকদের ঠিকমতো টাকা দেওয়া হয় না বলেই তারা কাজ ছেড়ে চলে যায়। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে পারাপার খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

খেয়া নৌকার মাঝি আম্বর আলী বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে ব্রিজের কাজ কখনো চলে, কখনো বন্ধ থাকে। রাতে এক-দুইটার সময়ও রোগী নিয়ে মানুষ ফোন করে নদী পার করে দিতে বলে। ব্রিজটি হয়ে গেলে কয়েক গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান হবে। 

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, খাসিয়ামারা নদীর ওপর নির্মাণাধীন প্রায় ৭২ মিটার সেতুর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে একটি স্লাব এবং দুই পাশের অ্যাপ্রোচের এক পাশের কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যে কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিলে প্রকল্পটি আরও বিলম্বিত হবে। তাই বর্তমান ঠিকাদারের মাধ্যমেই দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ