জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ও স্থায়ী কমিটির সুপারিশ করা ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ সংশোধনীর মাধ্যমে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত ধারাটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলটি পাসের মাধ্যমে মূলত মূল আইনের ২০ নম্বর ধারাটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হবে। এর ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে জুয়া খেলা বা এর প্রচারণার অপরাধগুলো আর সাইবার সুরক্ষা আইনের অধীন বিচার্য থাকবে না।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মূল আইনের ২০ নম্বর ধারায় বলা ছিল, কোনো ব্যক্তি যদি সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে কোনো পোর্টাল, অ্যাপস বা ডিভাইস তৈরি ও পরিচালনা করেন, জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন কিংবা এতে সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এমনকি জুয়ার বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ বা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচারণা চালালেও তা অপরাধের আওতায় পড়ত। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড, অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল।
হঠাৎ করে সাইবার আইন থেকে এই ধারাটি বিলুপ্ত করার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন যে, দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে মূলত এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ডিজিটাল ও অফলাইন উভয় মাধ্যমের জুয়া এবং বেটিং সংক্রান্ত অপরাধসমূহ আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন, সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত আইন তৈরি হওয়ার কারণেই সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে এই ধারাটি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে একই অপরাধের জন্য একাধিক আইনের ওভারল্যাপিং বা আইনি জটিলতা তৈরি না হয়। বিলটি পাসের পর থেকে এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।