বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটার নেতিবাচক প্রভাব নেই : রেলমন্ত্রী পরাধীন, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে কবি নজরুলের আবির্ভাব আলোকবর্তিকার মতো ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা চান রাষ্ট্রদূত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলপি গ্যাসের দাম কমলো ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল চালু করা হবে ৩২৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা কাটলো, সঙ্গে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমানকালের মূল্যবোধ : প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকা, ৯০০ জনের বেশি গ্রেফতার খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম থেকে উদ্ধার আরও ৫৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৫৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শনিবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে শুক্রবার আরও ৩৭ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। দুই দিনে মোট ৯১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা ও বাড়ি ফেরার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। পরে সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদের চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

শনিবার ফেরত আসা এক ভুক্তভোগী জানান, ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর তার ফ্লাইট হয়। দুই দিন মালয়েশিয়ায় ট্রানজিটে থাকার পর ৭ ডিসেম্বর তিনি কম্বোডিয়া পৌঁছান। বিমানবন্দরের বাইরে এলে রবিন শেখ নামের এক বাংলাদেশি তাকে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, কিছুদিন পর কাজের কথা বলে তাকে একটি প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। ২৩ ডিসেম্বর কম্পিউটারের কাজের কথা বলে সেখানে কাজ শুরু করলে তিনি বুঝতে পারেন সেটি একটি স্ক্যাম প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়।

ওই ভুক্তভোগীর দাবি, কাজ করতে না চাইলে তাকে বলা হয় টাকা দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে। তাকে জানানো হয়, দালাল রবিন শেখ তাকে ২ হাজার ৮৫ ডলারে বিক্রি করেছে। সেই টাকা না দিলে কাজ করতে হবে।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাকে সুপারশপে চাকরির কথা বলে নেওয়া হলেও পরে পাঁচ মাস কাজ করিয়ে মাসে ৪০০ ডলার দেওয়া হতো। পরে পরিবারের চাপে অন্য চাকরির কথা বলে তাকে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এসব কম্পাউন্ডে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের দিয়ে অনলাইন প্রতারণার কাজ করানো হতো। নির্ধারিত টার্গেট পূরণ না করলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুই দিনে ৯১ জনের দেশে ফেরা প্রমাণ করে, এ ধরনের প্রতারণা চক্রে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি জড়িয়ে পড়ছেন।

তিনি বলেন, সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের একটি ভয়াবহ রূপ। আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়োগ বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলে স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রাখা হয় এবং জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করা হয়।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় চাকরির বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com