বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন উত্তর আমেরিকায়। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপের। এবারই প্রথম তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বকাপ, যা টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।
৩৯ দিনব্যাপী এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। তিন দেশের ১৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ফুটবলের এই বৈশ্বিক উৎসব।
ইতিহাসের নতুন মাইলফলক
বিশ্বকাপ এর আগে মেক্সিকো দুবার (১৯৭০ ও ১৯৮৬) এবং যুক্তরাষ্ট্র একবার (১৯৯৪) আয়োজন করলেও, কানাডার জন্য এটি প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতা। শুধু তাই নয়, প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ায় এবারের আসরকে দেখা হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বিস্তৃত আয়োজন হিসেবে।
উদ্বোধনী আয়োজনেও ব্যতিক্রম
এবারের বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও থাকছে অভিনবত্ব। প্রথমবারের মতো তিনটি আয়োজক দেশে সমান্তরালভাবে আয়োজন করা হবে উদ্বোধনী উৎসব। প্রতিটি অনুষ্ঠান শুরু হবে সংশ্লিষ্ট দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে। অনুষ্ঠানগুলো আলাদা হলেও একটি অভিন্ন বার্তা বহন করবে। ফুটবলের মাধ্যমে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলোর সৃজনশীল পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের অভিজ্ঞ প্রযোজক মার্কো বালি। তার ভাষায়, প্রতিটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় তুলে ধরা হলেও সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ফুটবলের ঐক্যের শক্তি।
সংস্কৃতির রঙে তিন আয়োজক দেশ
মেক্সিকো তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশটির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরবে। কানাডার আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ‘কালচারাল মোজাইক’, যেখানে দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ফুটে উঠবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ ও আধুনিক ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের উদ্বোধন এমন এক মুহূর্ত, যা পুরো বিশ্ব একসঙ্গে উদযাপন করে। মেক্সিকো সিটি, টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানগুলো সংগীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের এক অভিন্ন উদযাপনে পরিণত হবে।’
তারকাখচিত মঞ্চ
মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকার উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেবেন শাকিরা, জে বালভিন, মানা এবং লিলা ডাউনসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় শিল্পীরা।
টরন্টোতে কানাডার অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজ, নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয়। কানাডার মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে এই আয়োজন দেশটির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএল কুল জে এবং রেমার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশাল ভিজ্যুয়াল শোর মাধ্যমে দর্শকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
উৎসবের শুরু, অপেক্ষা মহারণের
মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলবে প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠান হবে প্রায় ১৩ মিনিট করে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ, প্রি-ম্যাচ আনুষ্ঠানিকতা এবং বহুল প্রতীক্ষিত কিক-অফ।
৩৯ দিনের এই ফুটবল মহোৎসব শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি হবে সংস্কৃতি, আবেগ এবং বৈশ্বিক ঐক্যের এক বিরাট উদযাপন। আগামী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন চলবে ফুটবলের ছন্দে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস