ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দেশের ৯ অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা, ঢাকায় বৃষ্টি-বজ্রপাতের আভাস Logo ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে মধুমিতা সরকারের Logo ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দল Logo অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইডি ও বিকাশের যৌথ ক্যাম্পেইন Logo আজাদ কাশ্মীরে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে নিহত ৩০ Logo এক মাসের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাসে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার Logo বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন, বাসায়ও জ্বলছে না চুলা Logo আজ বিসিবির বোর্ড সভায় গুরুত্বপূর্ণ ১৮ ইস্যু, ঘোষণা হবে নতুন অধিনায়কও! Logo হরমুজে অচলাবস্থা: ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, একক নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান Logo সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

ভারতে ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়ার শঙ্কা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভবন ধসের পর পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। লোহার রড, ভাঙা পিলার ও কংক্রিটের চাঁই চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীসহ একাধিক সংস্থা যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ধসে পড়া ভবনটিতে একটি মেডিকেল কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও করপোরেট অফিস ছিল। ভবনটির তৃতীয় তলায় বেশ কিছুদিন ধরে নির্মাণকাজ চলছিল। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে হঠাৎ পুরো ভবনটি ধসে পাশের একটি অস্থায়ী টিনের ছাউনি দেওয়া ক্যান্টিনের ওপর পড়ে।

দুর্ঘটনার সময় ওই ক্যান্টিনে বহু শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্র সিং জানান, ভবনটি মাত্র চার-পাঁচ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। এখানে কোচিং সেন্টার ও অফিস থাকায় সব সময় তরুণ-তরুণীদের ভিড় থাকত। ঘটনার সময় ক্যান্টিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ আটকে থাকতে পারেন, যাদের বড় একটি অংশই মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে চারিদিক ধুলার মেঘে ঢেকে যায়। ধুলো সরলে আমরা দেখি ভবনটি পুরোপুরি ধসে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কেবল বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ আসছিল।

নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের আহাজারি

ধসে পড়া ভবনের পাশে ‘অ্যারাইজ মেডিকেল একাডেমি’তে পিজি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সদ্য বিদেশ থেকে এমবিবিএস পাস করা শিক্ষার্থী নীলম (২৫)। তার বাবা বলবন্ত যাদব জানান, নীলম দুর্ঘটনার সময় পাশের ক্যান্টিনেই ছিলেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার পা ভেঙে গেছে এবং বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে আলো জ্বালিয়ে (ফ্লাডলাইট) উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেছেন। নিখোঁজদের সঠিক তথ্য না পেয়ে অনেকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসসহ বিভিন্ন হাসপাতালে হন্যে হয়ে ছুটছেন।

উদ্ধার অভিযানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও স্নাইপার ডগ

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) জানিয়েছে, খবর পেয়ে প্রথমে তিনটি দমকল ইঞ্জিন পাঠানো হলেও পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ও জরুরি গাড়ি মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টিলের গার্ডার ও কংক্রিট কাটার জন্য হাইড্রোলিক কাটার এবং জ্যাক ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে ভিকটিম-লোকেশন ক্যামেরা, আর্থ-অগার ড্রিলিং মেশিন এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্নাইপার ডগ (সন্ধানী কুকুর) ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ধর্মবীর সিং জানান, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে পড়াদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তদন্তে দিল্লি পুলিশ

দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিপিসি) অনন্ত মিত্তাল জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পুলিশ ভবন ধসের খবর পায় এবং তিনমিনিটের মধ্যে মেহরাউলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ভবনটির মালিকানা কার ছিল, ভবন নির্মাণের জন্য যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের ৯ অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা, ঢাকায় বৃষ্টি-বজ্রপাতের আভাস

ভারতে ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়ার শঙ্কা

আপডেট সময় ০৯:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভবন ধসের পর পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। লোহার রড, ভাঙা পিলার ও কংক্রিটের চাঁই চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীসহ একাধিক সংস্থা যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ধসে পড়া ভবনটিতে একটি মেডিকেল কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও করপোরেট অফিস ছিল। ভবনটির তৃতীয় তলায় বেশ কিছুদিন ধরে নির্মাণকাজ চলছিল। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে হঠাৎ পুরো ভবনটি ধসে পাশের একটি অস্থায়ী টিনের ছাউনি দেওয়া ক্যান্টিনের ওপর পড়ে।

দুর্ঘটনার সময় ওই ক্যান্টিনে বহু শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্র সিং জানান, ভবনটি মাত্র চার-পাঁচ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। এখানে কোচিং সেন্টার ও অফিস থাকায় সব সময় তরুণ-তরুণীদের ভিড় থাকত। ঘটনার সময় ক্যান্টিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ আটকে থাকতে পারেন, যাদের বড় একটি অংশই মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে চারিদিক ধুলার মেঘে ঢেকে যায়। ধুলো সরলে আমরা দেখি ভবনটি পুরোপুরি ধসে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কেবল বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ আসছিল।

নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের আহাজারি

ধসে পড়া ভবনের পাশে ‘অ্যারাইজ মেডিকেল একাডেমি’তে পিজি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সদ্য বিদেশ থেকে এমবিবিএস পাস করা শিক্ষার্থী নীলম (২৫)। তার বাবা বলবন্ত যাদব জানান, নীলম দুর্ঘটনার সময় পাশের ক্যান্টিনেই ছিলেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার পা ভেঙে গেছে এবং বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে আলো জ্বালিয়ে (ফ্লাডলাইট) উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেছেন। নিখোঁজদের সঠিক তথ্য না পেয়ে অনেকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসসহ বিভিন্ন হাসপাতালে হন্যে হয়ে ছুটছেন।

উদ্ধার অভিযানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও স্নাইপার ডগ

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) জানিয়েছে, খবর পেয়ে প্রথমে তিনটি দমকল ইঞ্জিন পাঠানো হলেও পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ও জরুরি গাড়ি মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টিলের গার্ডার ও কংক্রিট কাটার জন্য হাইড্রোলিক কাটার এবং জ্যাক ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে ভিকটিম-লোকেশন ক্যামেরা, আর্থ-অগার ড্রিলিং মেশিন এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্নাইপার ডগ (সন্ধানী কুকুর) ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ধর্মবীর সিং জানান, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে পড়াদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তদন্তে দিল্লি পুলিশ

দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিপিসি) অনন্ত মিত্তাল জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পুলিশ ভবন ধসের খবর পায় এবং তিনমিনিটের মধ্যে মেহরাউলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ভবনটির মালিকানা কার ছিল, ভবন নির্মাণের জন্য যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ