
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের উত্তেজনার মধ্যে পড়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সেতুমন্ত্রী। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সেতুমন্ত্রী বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে নদীর পূর্বপাড়ে জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আয়োজিত এক সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন।
তবে সভাস্থলে মন্ত্রীর যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে ঘিরে ফেলে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর অবরুদ্ধ করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে সেতুমন্ত্রী একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান। পরে তিনি গাড়িবহর নিয়ে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলে বাউফলের বিএনপির পরাজিত এমপি প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ গণমাধ্যমে বলেন, সভাস্থলের ব্যানারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সেতুমন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করেছিলেন। এ ছাড়া আর কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেননি তিনি।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের প্রথম মাসের দিকে সেতুর কাজ শুরু হতে পারে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’ নামে এ সেতুটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের প্রথম মাসে নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, বাউফলের লোহালিয়া নদীতে বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বিগত সরকারের আমলে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে জাতীয় সংসদে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রীকে বাউফল সফরের আমন্ত্রণ জানান এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
বাংলা৭১নিউজ/এবি