ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক পাচার রোধে ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই

মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ মাদক পাচার, মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদার করবে। পাশাপাশি মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং নতুন পাচার কৌশল ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধের ভিত্তিতে যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

চুক্তিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে লুকানো মাদক শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও স্নিফার ডগ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে অ্যান্টি নারকোটিকস ফোর্স (এএনএফ) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আদান-প্রদানকৃত সব তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তা প্রকাশ করা হবে না।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো যাবে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশই আশা প্রকাশ করেছে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে মাদক পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

মাদক পাচার রোধে ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই

আপডেট সময় ১০:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ মাদক পাচার, মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদার করবে। পাশাপাশি মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং নতুন পাচার কৌশল ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধের ভিত্তিতে যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

চুক্তিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে লুকানো মাদক শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও স্নিফার ডগ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে অ্যান্টি নারকোটিকস ফোর্স (এএনএফ) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আদান-প্রদানকৃত সব তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তা প্রকাশ করা হবে না।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো যাবে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশই আশা প্রকাশ করেছে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে মাদক পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস