ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করে হামলার শিকার সেই কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় দাঁত হারালেন বিএনপি নেতা Logo অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই : অর্থমন্ত্রী Logo বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন : ভূমিমন্ত্রী Logo বিপ্লবী ছাত্রনেতা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী Logo ইউরোপের দাবানলে বেরিয়ে আসছে দুই বিশ্বযুদ্ধের লুকানো বিপদ Logo বেতন ছাড়াও যেসব সুবিধা পাবেন রাষ্ট্রপতি Logo খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার বাদী কাশেম মারা গেছেন Logo বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে প্রস্তুত ইরান Logo জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শ্রদ্ধা

মায়ের হাত ফসকে ট্রেনের নিচে শিশুসন্তান, ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করলেন বাবা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে এক রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন শত শত যাত্রী। স্টেশনে এসে থামা ট্রেনে উঠতে গিয়ে হঠাৎ দুই বছরের ছেলেসহ প্ল্যাটফর্ম থেকে নিচে পড়ে যান এক নারী। দ্রুত চেষ্টা করে তিনি উঠে আসার সময় আবারও হাত ফসকে ট্রেন আর প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে পড়ে যায় শিশুটি। এর মধ্যে ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার বাঁশি বেজে ওঠে। মুহূর্তেই নিচে নেমে গিয়ে শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়েন বাবা। চলতে শুরু করে ট্রেন। একে একে ট্রেনের আটটি বগি তাদের পাশ ষেঁষে চলে যায়। কিন্তু একরকম অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বাবা ও সন্তান।

​মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির নাম জানা যায়নি। তবে তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি গ্রামের ওরিয়াদর বাজারে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা অভিমুখী ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে এসে থামে। সেই ট্রেনে করে ঢাকায় যাবেন বলে ভৈরব স্টেশনে এসেছিলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ওই দম্পতি।

এদিকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থেকে দুর্ঘটনা থেকে সন্তানকে বাঁচানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাবা তার সন্তানকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রয়েছেন। ট্রেন অতিক্রম করা পর্যন্ত সামান্য নড়াচড়া করেননি। কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ করছেন। ট্রেন চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবা সন্তানকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। মা নেমে সন্তানকে কোলে তুলে নেন।

​উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম বাবা-ছেলে কেউই আর বেঁচে নেই। কিন্তু ট্রেন যাওয়ার পর যখন দেখলাম তারা নড়াচড়া করছেন, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এটি সত্যি মিরাকল!

এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় বাবা ও শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ​

সতর্কবার্তা দিয়ে ওসি বলেন, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনত দণ্ডনীয়। সামান্য অসচেতনতা বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটাতে পারত। নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সর্বদা সতর্ক থাকতে ট্রেনযাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। রেললাইন পারাপারে ওভারব্রিজ ব্যবহার করার কথাও বলেন তিনি।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :

অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করে হামলার শিকার সেই কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু

মায়ের হাত ফসকে ট্রেনের নিচে শিশুসন্তান, ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করলেন বাবা

আপডেট সময় ০৯:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে এক রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন শত শত যাত্রী। স্টেশনে এসে থামা ট্রেনে উঠতে গিয়ে হঠাৎ দুই বছরের ছেলেসহ প্ল্যাটফর্ম থেকে নিচে পড়ে যান এক নারী। দ্রুত চেষ্টা করে তিনি উঠে আসার সময় আবারও হাত ফসকে ট্রেন আর প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে পড়ে যায় শিশুটি। এর মধ্যে ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার বাঁশি বেজে ওঠে। মুহূর্তেই নিচে নেমে গিয়ে শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়েন বাবা। চলতে শুরু করে ট্রেন। একে একে ট্রেনের আটটি বগি তাদের পাশ ষেঁষে চলে যায়। কিন্তু একরকম অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বাবা ও সন্তান।

​মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির নাম জানা যায়নি। তবে তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি গ্রামের ওরিয়াদর বাজারে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা অভিমুখী ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে এসে থামে। সেই ট্রেনে করে ঢাকায় যাবেন বলে ভৈরব স্টেশনে এসেছিলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ওই দম্পতি।

এদিকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থেকে দুর্ঘটনা থেকে সন্তানকে বাঁচানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাবা তার সন্তানকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রয়েছেন। ট্রেন অতিক্রম করা পর্যন্ত সামান্য নড়াচড়া করেননি। কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ করছেন। ট্রেন চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবা সন্তানকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। মা নেমে সন্তানকে কোলে তুলে নেন।

​উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম বাবা-ছেলে কেউই আর বেঁচে নেই। কিন্তু ট্রেন যাওয়ার পর যখন দেখলাম তারা নড়াচড়া করছেন, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এটি সত্যি মিরাকল!

এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় বাবা ও শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ​

সতর্কবার্তা দিয়ে ওসি বলেন, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনত দণ্ডনীয়। সামান্য অসচেতনতা বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটাতে পারত। নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সর্বদা সতর্ক থাকতে ট্রেনযাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। রেললাইন পারাপারে ওভারব্রিজ ব্যবহার করার কথাও বলেন তিনি।

বাংলা৭১নিউজ/এবি