
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অস্ত্রের মুখে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে ৪টি গরু ও নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। লুট হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনসা এলাকায় মুহাম্মদ নুরুল আলমের ৪৬ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুরুল আলমের গোয়ালঘরটি বসতঘরের পাশে হওয়ায় তিনি সেখানেই রাতযাপন করতেন। গভীর রাতে ১০-১২ জনের একটি মুখোশধারী দল গোয়ালঘরের দরজার লোহার শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।
এরপর ডাকাতরা বসতঘরে ঢুকে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি গোয়ালঘর থেকে লাল বর্ণের ৪টি ষাঁড় গরুও লুট করে। লুট হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নুরুল আলম জানান, ডাকাতদের কাছে বন্দুক, পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা গরু ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, নগদ টাকাগুলো গরু ও মাছ বিক্রির অর্থ এবং এক স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া পাওনা টাকা ছিল। আসন্ন কুরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে গরুর ব্যবসা ও ঘর মেরামতের জন্য তিনি টাকাগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব মনু মেম্বার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের পরামর্শে ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে ভাটিখাইন এলাকার করল গ্রাম থেকে আল-মারুয়া খামারের দুটি মহিষ, পৌর সদরের বাকখালী এলাকা থেকে গাজী মামুনের তিনটি গরু এবং নাইখাইন গ্রামের মহিউদ্দিন টিপুর তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ