
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বন্দুকধারীর গুলি ও জিম্মি কাণ্ডে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। স্থানীয় সময় শনিবার এই ঘটনা ঘটে, যা শহরটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিরল সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশটির কর্মকর্তারা জানান, কিয়েভের দক্ষিণাঞ্চলীয় হোলোসিভস্কি জেলায় প্রথমে রাস্তায় পথচারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক ব্যক্তি। পরে সে পাশের একটি সুপারমার্কেটে ঢুকে কয়েকজনকে জিম্মি করে।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর ক্লিমেঙ্কো জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে হামলাকারীর সঙ্গে আলোচনা চালায়। তবে কোনো দাবি না জানিয়ে সে ‘উন্মত্ত’ আচরণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে জিম্মিদের একজনকে হত্যা করলে তাকে নির্মূল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সুপারমার্কেটের ভেতরেই নিহত হয় হামলাকারী।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। রাস্তায় ৪ জন নিহত হন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক নারী। এছাড়া জিম্মি থাকা অবস্থায় আরও একজনকে হত্যা করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, অভিযান শেষে চারজন জিম্মিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল রুসলান ক্রাভচেঙ্কো হামলাকারীকে মস্কোর ৫৮ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করেছেন। হামলায় একটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা নিবন্ধিত ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলা শুরুর আগে নিজের ফ্ল্যাটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল ওই ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে বসবাস করছিলেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। অস্ত্রের পারমিট এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে কিয়েভ প্রায়ই আকাশপথে হামলার মুখে পড়লেও, এই ধরনের গুলিবর্ষণ ও জিম্মি কাণ্ড শহরটিতে তুলনামূলকভাবে বিরল।
বিবিসি
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ