
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ২টা পর্যন্ত আটটি ফ্লাইট হজযাত্রীদের নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। আটটি ফ্লাইটে প্রায় তিন হাজার যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। বিকেল ও রাতে আরও আটটি ফ্লাইট সৌদি যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, বিকেল ও রাতের ফ্লাইটে সৌদি আরব যেতে আরও হাজারো হজযাত্রী আশকোনার হজ ক্যাম্পে জড়ো হয়েছেন। তারা এখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে একে একে নিজ নিজ ফ্লাইটে যাচ্ছেন। আশকোনা হজ ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা। তবে ক্যাম্পে মশার উপদ্রব এবং গরমে অনেকে অস্বস্তির কথাও জানিয়েছেন।
সৌদি সরকার ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনার রোডম্যাপ অনুসারে গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী ফ্লাইটে সৌদি গেছেন ৪১৯ জন হজযাত্রী।
সরেজমিনে দেখা যায়, হজ ক্যাম্পের সামনে শত শত হজযাত্রী এবং তাদের স্বজনরা দাঁড়িয়ে আছেন। আত্মীয় বা পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ক্যাম্পে প্রবেশ করছেন অনেকে। কেউ কেউ প্রিয়জনকে বিদায় দিতে অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন। ক্যাম্পে ঢোকার সময় পানির বোতল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান স্বেচ্ছাসেবকরা।
পরে ফ্লাইট অনুযায়ী তারা ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যাদের ফ্লাইট আগামীকাল রোববার (১৯ এপ্রিল), তাদের জন্য ক্যাম্পের ভেতর নির্দিষ্ট কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করছে কর্তৃপক্ষ।
সিরাজগঞ্জ থেকে হজে যাওয়ার জন্য আশকোনা ক্যাম্পে আজ শনিবার বেলা ২টায় উপস্থিত হয়েছেন রফিক তালুকদার। তিনি বলেন, হজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এসেছি। রাতে মিরপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলাম। এখন ক্যাম্পে এসেছি।
এখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরে যাবো। আজ রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সে তার ফ্লাইট রয়েছে। এ সময় তিনি হজযাত্রার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
ফরিদপুর থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে আশকোনা ক্যাম্পে আসেন ইকরামুল হক। রাতে তিনি ক্যাম্পে অবস্থান করেন। ইকরামুল হক বলেন, হজ ক্যাম্পের পরিবেশ অনেক ভালো। তবে রাতে মশার কিছু উপদ্রব ছিল, দিনে গরমও বেশি। তবে সব মিলিয়ে ক্যাম্পের পরিবেশ ভালো লেগেছে। শনিবার বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জেদ্দা যাবো।
আশকোনা হজ ক্যাম্পের সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজে যাবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি আরবের সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস হজযাত্রী পরিবহন করছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হজচুক্তি অনুসারে মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সাউদিয়া ৩৫ শতাংশ ও ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে।
২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রাক-হজ ফ্লাইট ২০৭টি, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়ার ৭৫টি ও ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই শেষ হবে।
বাংলা৭১নিউজ/এআরকে