শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনে নিহিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিল ইরান আইএমএফের কিস্তি নিয়ে হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী খাল খনন অব্যাহত থাকলে দেশে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মন্ত্রী সাহেব প্রশংসা একটু কম কইরেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বুধবারের মধ্যে চুক্তি না করলে ইরানে আবার হামলা শুরু: ট্রাম্প আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৫ সালে আন্দামান-বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু বা নিখোঁজ

বাংলা৭১নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।

শুক্রবার জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা মৃত বলে জানা গেছে, যা বিশ্বের যেকোনো প্রধান সমুদ্রপথের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে যাত্রা করা মানুষের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। এই ধারা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।

সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। এতে আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের কাউন্সেলিং, চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা হচ্ছে।

মানব পাচার, শোষণ ও সমুদ্রে মৃত্যুর মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার রোহিঙ্গা এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণত অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও নিরাপত্তাহীন নৌকা বাংলাদেশর কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না থাকায় রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াচ্ছেন। চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও নাগরিকত্ব সংকট তাদের সামনে কোনো বাস্তব বিকল্প রাখছে না।

এদিকে তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তাও কমে গেছে। ক্যাম্পে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইউএনএইচসিআর রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, নিরাপদ ও বৈধ পথ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জীবনরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্তমানে এই অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে আশ্রিত। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com