সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হওয়া অসম্ভব নয়, পুতিনকে বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ২০ এপ্রিল বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ আটকে রাখা হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মধ‌্যপ্রা‌চ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হ‌লে বিপদ দেখ‌ছেন তথ‌্যমন্ত্রী দু-একটি বাদে গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব কর্মকাণ্ড বৈধতা পাচ্ছে বাতিল অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই হবে, বিরোধীদল ‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’ হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সভা অনুষ্ঠিত চব্বিশ ও একাত্তর কোনোটিকেই ধারণ করে না বিএনপি: নাহিদ ইসলাম এসএসসি পরীক্ষার হল পরিদর্শনে এমপিরা যেতে পারবেন না: শিক্ষামন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি, মর্যাদার প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

বাতিল অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই হবে, বিরোধীদল ‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলো পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিরোধীদলীয় নেতারা এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রহিত হওয়া সাতটি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। আমরা সংশোধনের মাধ্যমে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা (বিরোধীদলীয় নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে) বলছেন আমরা এগুলো (অধ্যাদেশগুলো) করিনি, বাদ দিয়েছি, তারা মূলত এটা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে আমরা যেটা আপনাদের সামনে বলতে চাচ্ছি, ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু যেভাবে অধ্যাদেশ ছিল সেভাবেই পাস হয়েছে। ১৩টি অধ্যাদেশকে আমরা সংশোধিত আকারে পাস করেছি, ছোটখাটো সংশোধন এনে। ৭টি অধ্যাদেশকে আমরা রহিতকরণ ও হেফাজত করে পাস করেছি। আর ১৬টি অধ্যাদেশকে আমরা উপস্থাপন করিনি।

তিনি বলেন, এটা হলো ১৩৩টি অধ্যাদেশের স্ট্যাটাস। এরমধ্যে এই ১১০টি অধ্যাদেশকেই বিল আকারে উপস্থাপন করতে হয়েছে। ৯১টি বিলের মাধ্যমে এই ১১০টি আইন সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে এবং সংসদে এই ৯১টি বিল পাস করা হয়েছে। অন্যান্য বিলের ব্যাপারে আমরা যেটা বলেছি, অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

‘যে ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ করা হয়েছে তার মধ্যে—মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন—এ তিনটি আইনেরই আমরা একটা আইন যখন বিল আকারে দেই, তখন একটা প্রিয়েম্বল থাকে আইনের।

এই আইনটা কেন আমরা দিচ্ছি? সেখানে একটা কারণ-সম্বলিত বিবৃতি দিতে হয়—সেটা কেন দিচ্ছি। এই বিলগুলোর মধ্যে ক্লিয়ারলি আমরা বলেছি, যেমন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিলে বলেছি, যেহেতু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৭-এর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশেও বলেছি, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ২০০৭-এর বিধানাবলি অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিষয়েও বলেছি, যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের এখানে কোনো অ্যাম্বিগুইটি (অস্পষ্টতা) রাখিনি, কোনো অস্পষ্টতা নেই। আমাদের সংসদের কাছে আইনের মাধ্যমে যখন বিলটা উপস্থাপন করছি, ইট বিকামস অ্যান্ড ইট পাসড—এটা আইনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। রহিতকরণ বিল হলেও এটা কিন্তু আইনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। ওই আইনের অংশই হলো যেটা অধিকতর যাচাই-বাছাই করার জন্য আমরা কমিটমেন্ট দিয়েছি পার্লামেন্টের মাধ্যমে গোটা জাতিকে।

তিনি আরও বলেন, আমি পার্লামেন্টে উত্তর দিতে গিয়ে বলেছিলাম, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সব পড়েছেন, শুধু এতটুকু পড়েননি যতটুকুতে সরকারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি দেওয়া আছে। যে আইনের প্রিয়েম্বলে জেনারেলি বলা থাকে না যে উপস্থাপনা এবং প্রস্তাবনা, প্রস্তাবনা সম্বলিত জায়গায় আমরা দিয়েছি। এটা হলো আমাদের স্বচ্ছতার জায়গা।

এরপর তিনি রহিত করা অধ্যাদেশগুলোতে থাকা অস্পষ্টতা এবং ত্রুটি তুলে ধরেন। 

আইনমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে আজকে আমি আমার অফিসকে বলেছি। ১৫ মে’র পর মানবাধিকার কমিশনের আইন নিয়ে আমরা ডিসকাশনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। যে কোনো দিন হয়তো স্টেকহোল্ডারদের ডাকবো, আপনারা জেনে যাবেন।

‘আমরা আরেকটা তথ্য আপনাদের দিতে চাই—২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, তত্ত্বাবধায়ক ১/১১ গভর্নমেন্ট, সেই সময়ে ১২২টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। ১২২টির মধ্যে মাত্র ৫৪টা অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়েছিল। বাকিগুলো সব অটোমেটিক ল্যাপস করা হয়েছে। আমরা সেই তুলনায় ১১৭টাকে মোটামুটি আইনে পরিণত করেছি। বাকিগুলোর ব্যাপারে আমাদের কমিটমেন্ট আছে। আমাদের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই।’

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একজন আইন বিশেষজ্ঞের লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ কখন জারি করার প্রয়োজন হয়—খুব ইমার্জেন্সি কোনো কিছু হলে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ১৩৩টা গণহারে যে অধ্যাদেশ করে গেছেন, এর মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ওই আইন বিশেষজ্ঞ। 

তিনি বলেন, মৌলিক প্রয়োজনীয়তা এবং ভেরি ফান্ডামেন্টাল এটা। কিন্তু আমরা ওই বিবেচনাতে আনিনি, পার্লামেন্টের কাছে আমরা খুব স্বচ্ছ। স্বচ্ছতার সঙ্গেই যেভাবে আনা প্রয়োজন আমরা সেভাবে এনেছি।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com