
হরেক রকম বাহারি ফুলের সৌরভে সুরভিত হয়ে উঠেছে কাপ্তাই হ্রদ। লাল, হলুদ ও সাদা নানা রঙের ফুল—গাঁদা, জবা, গোলাপ ও মাধবীলতায় ভরে উঠেছে হ্রদের চারপাশ। সবুজ কলাপাতায় সাজানো এসব ফুল পানিতে ভাসিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের আয়োজন করেছে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে রাঙামাটির কেরানি পাহাড় এলাকায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী ফুল বিজু উৎসব। এতে অংশ নিতে হ্রদপাড়ে জড়ো হন হাজারো নারী-পুরুষ। রঙিন পিনোন-হাদি পরিহিত কিশোরীরা হ্রদের জলে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনায় মেতে ওঠেন। পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানি দূর করে নতুন বছরকে শুভ ও স্নিগ্ধ করে তোলার প্রত্যাশাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
চাকমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, ফুল প্রকৃতি ও ভালোবাসার প্রতীক। তাই বছরের শেষ দিনে নদী বা হ্রদের জলে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করলে জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে নতুন বছরে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।
উৎসবকে ঘিরে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। কেউ পরিবার নিয়ে ছবি তুলেছেন, কেউ প্রিয়জনকে ফুল উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি তরুণদের উদ্যোগে বসে গানের আসর, যা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
একই দিনে রাঙামাটির রাজবন বিহার ঘাটেও অনুষ্ঠিত হয় ফুল বিজু। এতে অংশ নেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। এছাড়া শহরের গর্জনতলী এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায় গড়িয়া নৃত্যের মধ্য দিয়ে পালন করে তাদের ফুল বিজু উৎসব। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ও কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পার্বত্যাঞ্চলে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসুক, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু এবং বম ও ম্রো সম্প্রদায়ের চাংক্রান উৎসবের মধ্য দিয়ে বৈশাখকে বরণ করা হয়। নাম ভিন্ন হলেও ফুল ভাসানোর এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন প্রায় সব সম্প্রদায়ের মধ্যেই অভিন্ন।
আগামী ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু উৎসব। এরপর ১৪ এপ্রিল সারাদেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে। তবে উৎসবের আমেজ এখানেই শেষ নয়—১৭ এপ্রিল শুরু হবে মারমা সম্প্রদায়ের সপ্তাহব্যাপী জলখেলা উৎসব।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ