ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী Logo বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবেন অমিত শাহ Logo অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সন্তোষজনক নয় : শিক্ষামন্ত্রী Logo রাজধানীতে তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের মামলায় ৫ আসামির রিমান্ড Logo ছানিপড়া রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন Logo টানা ২৫ মৌসুমে গোল করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড রোনালদোর Logo ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক Logo গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের Logo জেনেভা ক্যাম্পের কথিত ‘মাদক সম্রাট’ সেলিম ৩ দিনের রিমান্ডে Logo এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু, বাড়ল এলএনজি সরবরাহ

বৈসাবির রঙে রাঙামাটি: শুরু হলো পাঁচদিনের উৎসব

‘তুরু তুরু তুরু রু বাজি বাজেত্তে, পাড়ায় পাড়ায় বেরেবঙ বেক্কুন মিলিনে, এচ্চ্যা বিঝু, বিঝু, বিঝু’—চাকমা সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় বৈসাবি উৎসবের এই গানটি পাহাড়জুড়ে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। যার অর্থ—“তুরু তুরু বাঁশি বাজছে, পাড়ায় পাড়ায় সবাই মিলে ঘুরব, আজ বিঝু, বিঝু, বিঝু।” বছর ঘুরে আবারও এসেছে বৈসাবি উৎসব, আর তাতে উৎসবের রঙে রাঙা পার্বত্য জনপদ।

সোমবার বিকাল ৩টায় ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পাঁচদিনব্যাপী বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান, বিষু, সাংলান, চাংক্রাই, পাতা ও বাংলা নববর্ষ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, সদর জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মো. একরামুল রাহাত এবং পুলিশ সুপার আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈসাবিকে ঘিরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা বছরের শেষ সময় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পাহাড়ি বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী নাচ, গান ও নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব উদযাপন করে থাকে।

পাঁচদিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে ছিল মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা, বাঁশের খরম দিয়ে হাঁটা, বেইন বুনন এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গরিয়া নৃত্য। পাশাপাশি পাজন রান্না প্রতিযোগিতা, ম্রো সম্প্রদায়ের নাটক ‘রিনাফ্লুং’, শিশুদের রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিনে বৈসাবি মেলার পাশাপাশি নৃ-গোষ্ঠীদের নাডেং খেলা, বাঁশ-বেতের পণ্য তৈরির প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে বৈসাবি মেলার সঙ্গে থাকবে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পিঠা তৈরি ও প্রদর্শনী, চাকমা নাটক, দুলো পেদা দোলি ভাঙানা, নকশা লুরি পরিবেশনা এবং রাতভর ব্যান্ড শো।

বৈসাবি শুধু একটি উৎসব নয়—এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ।

বাংলা৭১নিউজ/এআরকে

Tag :

অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী

বৈসাবির রঙে রাঙামাটি: শুরু হলো পাঁচদিনের উৎসব

আপডেট সময় ০৭:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

‘তুরু তুরু তুরু রু বাজি বাজেত্তে, পাড়ায় পাড়ায় বেরেবঙ বেক্কুন মিলিনে, এচ্চ্যা বিঝু, বিঝু, বিঝু’—চাকমা সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় বৈসাবি উৎসবের এই গানটি পাহাড়জুড়ে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। যার অর্থ—“তুরু তুরু বাঁশি বাজছে, পাড়ায় পাড়ায় সবাই মিলে ঘুরব, আজ বিঝু, বিঝু, বিঝু।” বছর ঘুরে আবারও এসেছে বৈসাবি উৎসব, আর তাতে উৎসবের রঙে রাঙা পার্বত্য জনপদ।

সোমবার বিকাল ৩টায় ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পাঁচদিনব্যাপী বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান, বিষু, সাংলান, চাংক্রাই, পাতা ও বাংলা নববর্ষ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, সদর জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মো. একরামুল রাহাত এবং পুলিশ সুপার আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈসাবিকে ঘিরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা বছরের শেষ সময় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পাহাড়ি বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী নাচ, গান ও নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব উদযাপন করে থাকে।

পাঁচদিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে ছিল মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা, বাঁশের খরম দিয়ে হাঁটা, বেইন বুনন এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গরিয়া নৃত্য। পাশাপাশি পাজন রান্না প্রতিযোগিতা, ম্রো সম্প্রদায়ের নাটক ‘রিনাফ্লুং’, শিশুদের রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিনে বৈসাবি মেলার পাশাপাশি নৃ-গোষ্ঠীদের নাডেং খেলা, বাঁশ-বেতের পণ্য তৈরির প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে বৈসাবি মেলার সঙ্গে থাকবে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পিঠা তৈরি ও প্রদর্শনী, চাকমা নাটক, দুলো পেদা দোলি ভাঙানা, নকশা লুরি পরিবেশনা এবং রাতভর ব্যান্ড শো।

বৈসাবি শুধু একটি উৎসব নয়—এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ।

বাংলা৭১নিউজ/এআরকে