ঢাকা ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আলেকজান্ডারকে কি সত্যিই বিষ খাইয়ে মারা হয়েছিল ? Logo উড্ডয়নের আগমুহূর্তে বিমানের উইন্ডস্ক্রিনে ফাটল, নেপালে আটকা ১২৭ যাত্রী Logo ৬ মাস পূর্তি, গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা Logo ১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির Logo ঘুমের মধ্যেই মারা গেলেন ২৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী Logo দেশের সব জেলা প্রশাসকের জন্য ১৪ নির্দেশনা Logo ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ Logo ফ্যাসিস্ট আমলে শিক্ষাব্যবস্থায় চরম ধস নেমেছিল : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo ওমরাহ ভিসা থাকলেও যাওয়া যাবে না সৌদি, মানতে হবে শর্ত

সোনালিতে রেকর্ড দাম, গরিবের প্রোটিন ব্রয়লারেও বাগড়া

গরুর মাংসের বদলে মুরগিতে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই প্রোটিনের উৎসেই এখন দামের আগুন। একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগির দাম ছাড়িয়েছে ৪৩০ টাকায়। ব্রয়লারও ছুঁয়েছে প্রায় ডাবল সেঞ্চুরি। মুরগি যেন এখন বিলাসী পণ্য। অতীতের সব রেকর্ড ভাঙায় নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। তবে সংকটকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, গুলশান কাঁচাবাজার ও রামপুরা বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩০ টাকা কেজি। একদিন আগেও এ মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৯০-৪০০ টাকায়। আর দেশি মুরগির কেজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০০ টাকা।

সরবরাহ সংকটের কারণেই হঠাৎ এমন দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। গুলশান কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা মাসুম বলেন, দুদিন আগেও সোনালি মুরগির কেজি ৩৮০ টাকা ছিল। কিন্তু আজ তা ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আসলে মুরগির সরবরাহ তুলনামূলক কম। তবে দাম বাড়ায় ক্রেতাও অনেক কমে গেছে। এমনকি যারা সোনালি বা দেশি মুরগি কিনতেন, তারা এখন ব্রয়লার নিচ্ছেন। 

বাসায় মেহমান আসায় রামপুরা বাজারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে আসেন রুহুল আমিন। সোনালি মুরগির দোকানেও ঢুঁ মারেন তিনি। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় তাকে কিনতে হয়েছে ব্রয়লার মুরগি।

রুহুল আমিন বলেন, বাসায় মেহমানদের জন্য মুরগির রোস্ট করতে হবে। এজন্য বাজারে সোনালি মুরগি কিনতে এসেছি। তবে কেজিপ্রতি ৪৩০ টাকা হওয়ায় আর কিনিনি। সেই দাম দিয়ে দুই কেজিরও বেশি ব্রয়লার মুরগি পেয়েছি। এখন এটা দিয়েই সারতে হবে। কারণ আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের বাড়তি দামে কেনার সাহস নেই।

গুলশান কাঁচাবাজারে নিয়মিত মাছ, মাংস ও সবজি কেনেন ৬০ বছর বয়সী মো. নওশের আলী। তার মতে গরুর মাংসের চেয়েও সোনালি মুরগির দাম বেশি। কারণ এক কেজি মুরগি কেনার পর চামড়া, নাড়িভুঁড়ি ফেলে দিলে টেকে ৭০০ গ্রাম। আর এ টাকায় আধা কেজিও বেশি গরুর মাংস পাওয়া যাবে। 

নওশের আলী বলেন, মুরগির দাম বাড়ায় বর্তমানে ক্রেতাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। রোজার মধ্যে সোনালি মুরগির কেজি কেনা যেতো ২৮০-৩০০ টাকায়। কিন্তু ঈদের পর তা বেড়ে ৪০০ টাকারও বেশি হয়েছে। তেলের সংকটসহ নানা কারণে এ দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

তবে এভাবে চলতে থাকলে নিম্নআয়ের মানুষজন সবচেয়ে কষ্ট ভোগ করতে হবে। কারণ এক কেজি গরুর মাংস কিনে খাওয়ার সাধ্য অনেকেরই নেই। ব্রয়লার বা সোনালি মুরগি কিনে গরুর চাহিদা মেটাতেন তারা। এখন সেই পথও বন্ধ হতে বসেছে।

তিনি বলেন, হিসাব করলে এখন গরুর মাংসের চেয়েও মুরগির দাম বেশি হয়ে গেছে। এক কেজির সোনালি মুরগি কিনতে লাগে ৪৩০ টাকা। আর ৩৫০-৩৭৫ টাকায় পাওয়া যায় আধা কেজি গরুর মাংস। কেননা মুরগির চামড়া ফেললে মাংস তেমন থাকে না।

জোয়ার সাহারা বাজারের শামসুল ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী শামসুল ইসলাম বলেন, আগে সোনালি মুরগির দাম এত বাড়েনি। দেশে লাগাতার হরতাল-অবরোধ, করোনা বা কোনো বড় দুর্যোগেও এ দাম ছাড়ায়নি। সর্বোচ্চ ৩৫০-৬০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু এবার ৪৩০ টাকায় বেচতে হচ্ছে। আসলে আমার ব্যবসার ২৫ বছরে এটা সর্বোচ্চ দাম। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।

তিনি বলেন, ঈদের সময় ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। ২১০-২২০ টাকা কেজিপ্রতি বিক্রি করতে হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কমে যাওয়ায় এখন ১৮০-৯০ টাকা বিক্রি করছি। তবে সোনালি আজ পাইকারিতে কিনতে হয়েছে ৪০০ টাকায়, যা গতকাল ছিল ৩৮০।

পাইকারির চেয়ে আমরা ২০-৩০ টাকা বেশিতে খুচরা ছাড়তে হয়। নয়তো ব্যবসা পোষানো সম্ভব হয় না। বাড়তি দাম আরও ১০-১৫ দিন থাকতে পারে। কারণ এখন খামারিতেই সংকট বলে জানতে পেরেছি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

আলেকজান্ডারকে কি সত্যিই বিষ খাইয়ে মারা হয়েছিল ?

সোনালিতে রেকর্ড দাম, গরিবের প্রোটিন ব্রয়লারেও বাগড়া

আপডেট সময় ০৪:২৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

গরুর মাংসের বদলে মুরগিতে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই প্রোটিনের উৎসেই এখন দামের আগুন। একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগির দাম ছাড়িয়েছে ৪৩০ টাকায়। ব্রয়লারও ছুঁয়েছে প্রায় ডাবল সেঞ্চুরি। মুরগি যেন এখন বিলাসী পণ্য। অতীতের সব রেকর্ড ভাঙায় নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। তবে সংকটকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, গুলশান কাঁচাবাজার ও রামপুরা বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩০ টাকা কেজি। একদিন আগেও এ মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৯০-৪০০ টাকায়। আর দেশি মুরগির কেজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০০ টাকা।

সরবরাহ সংকটের কারণেই হঠাৎ এমন দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। গুলশান কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা মাসুম বলেন, দুদিন আগেও সোনালি মুরগির কেজি ৩৮০ টাকা ছিল। কিন্তু আজ তা ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আসলে মুরগির সরবরাহ তুলনামূলক কম। তবে দাম বাড়ায় ক্রেতাও অনেক কমে গেছে। এমনকি যারা সোনালি বা দেশি মুরগি কিনতেন, তারা এখন ব্রয়লার নিচ্ছেন। 

বাসায় মেহমান আসায় রামপুরা বাজারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে আসেন রুহুল আমিন। সোনালি মুরগির দোকানেও ঢুঁ মারেন তিনি। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় তাকে কিনতে হয়েছে ব্রয়লার মুরগি।

রুহুল আমিন বলেন, বাসায় মেহমানদের জন্য মুরগির রোস্ট করতে হবে। এজন্য বাজারে সোনালি মুরগি কিনতে এসেছি। তবে কেজিপ্রতি ৪৩০ টাকা হওয়ায় আর কিনিনি। সেই দাম দিয়ে দুই কেজিরও বেশি ব্রয়লার মুরগি পেয়েছি। এখন এটা দিয়েই সারতে হবে। কারণ আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের বাড়তি দামে কেনার সাহস নেই।

গুলশান কাঁচাবাজারে নিয়মিত মাছ, মাংস ও সবজি কেনেন ৬০ বছর বয়সী মো. নওশের আলী। তার মতে গরুর মাংসের চেয়েও সোনালি মুরগির দাম বেশি। কারণ এক কেজি মুরগি কেনার পর চামড়া, নাড়িভুঁড়ি ফেলে দিলে টেকে ৭০০ গ্রাম। আর এ টাকায় আধা কেজিও বেশি গরুর মাংস পাওয়া যাবে। 

নওশের আলী বলেন, মুরগির দাম বাড়ায় বর্তমানে ক্রেতাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। রোজার মধ্যে সোনালি মুরগির কেজি কেনা যেতো ২৮০-৩০০ টাকায়। কিন্তু ঈদের পর তা বেড়ে ৪০০ টাকারও বেশি হয়েছে। তেলের সংকটসহ নানা কারণে এ দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

তবে এভাবে চলতে থাকলে নিম্নআয়ের মানুষজন সবচেয়ে কষ্ট ভোগ করতে হবে। কারণ এক কেজি গরুর মাংস কিনে খাওয়ার সাধ্য অনেকেরই নেই। ব্রয়লার বা সোনালি মুরগি কিনে গরুর চাহিদা মেটাতেন তারা। এখন সেই পথও বন্ধ হতে বসেছে।

তিনি বলেন, হিসাব করলে এখন গরুর মাংসের চেয়েও মুরগির দাম বেশি হয়ে গেছে। এক কেজির সোনালি মুরগি কিনতে লাগে ৪৩০ টাকা। আর ৩৫০-৩৭৫ টাকায় পাওয়া যায় আধা কেজি গরুর মাংস। কেননা মুরগির চামড়া ফেললে মাংস তেমন থাকে না।

জোয়ার সাহারা বাজারের শামসুল ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী শামসুল ইসলাম বলেন, আগে সোনালি মুরগির দাম এত বাড়েনি। দেশে লাগাতার হরতাল-অবরোধ, করোনা বা কোনো বড় দুর্যোগেও এ দাম ছাড়ায়নি। সর্বোচ্চ ৩৫০-৬০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু এবার ৪৩০ টাকায় বেচতে হচ্ছে। আসলে আমার ব্যবসার ২৫ বছরে এটা সর্বোচ্চ দাম। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।

তিনি বলেন, ঈদের সময় ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। ২১০-২২০ টাকা কেজিপ্রতি বিক্রি করতে হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কমে যাওয়ায় এখন ১৮০-৯০ টাকা বিক্রি করছি। তবে সোনালি আজ পাইকারিতে কিনতে হয়েছে ৪০০ টাকায়, যা গতকাল ছিল ৩৮০।

পাইকারির চেয়ে আমরা ২০-৩০ টাকা বেশিতে খুচরা ছাড়তে হয়। নয়তো ব্যবসা পোষানো সম্ভব হয় না। বাড়তি দাম আরও ১০-১৫ দিন থাকতে পারে। কারণ এখন খামারিতেই সংকট বলে জানতে পেরেছি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ