
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।
বুধবার উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলা থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ১৫২ আসনে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে। সেজন্যই তিনি এই এলাকা বেছে নিয়েছেন।
দিনের প্রথম সভা করেন জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে। দুপুরে ময়নাগুড়ি টাউন ক্লাব ময়দানে এই প্রচারণা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। দ্বিতীয়টি ছিল ওই জেলার ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী রঞ্জনশীল শর্মার সমর্থনে।
দিনের শেষ নির্বাচনি প্রচার অনুষ্ঠিত হয় দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শঙ্কর মালাকারের সমর্থনে। এই তিনটি সভায় তিনি বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসকে কেন ভোট দেবেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘যদি এনআরসি না চান, ডিটেনশন ক্যাম্প না চান, চা বাগান রাখতে চান, এলাকায় শান্তি রাখতে চান, বিনামূল্যে রেশন, স্বাস্থ্য, সাথি, সন্তানদের শিক্ষা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চাইলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিন। তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো বিকল্প নেই। আর ওরা (বিজেপি) মানুষের জীবন কাড়ে, আমরা মানুষের জীবন ফিরিয়ে দিই। ওরা মানুষকে নোট বাতিল, আধার কার্ড, এসআইআর নিয়ে লাইনে দাঁড় করায়।’
বিজেপিকে সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘বাংলাতে অনেক নারীর নাম তালিকা থেকে কেটে দিয়েছে। মেয়েরা বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ায় তাদের পদবি পরিবর্তন হয়েছে, তার ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে, তাতেই সবার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এসআইআর লাইন দিতে দিতে ২২০ মানুষের প্রাণ গেছে। আমাদের প্রমাণ দিতে হচ্ছে, এ দেশের নাগরিক কি না! এসব চক্রান্ত রুখে দেওয়ার জন্য নারী সমাজ তৈরি আছে।’
মমতা বিজিবিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমরা কোভিড-১৯ দেখেছি, এরা কোভিড থেকেও ভয়ংকর। এরা ইচ্ছে করে দাঙ্গা বাঁধায়, দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।’
মমতার পাশাপাশি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জিও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। মঙ্গলবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমা থেকে তার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়।
নির্বাচনি প্রচারণার সূচি অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৮টি জনসভায় অংশ নেবেন মমতা। অন্যদিকে আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২৫টি জনসভায় অংশ নেবেন অভিষেক।
২৯ এপ্রিল নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে দক্ষিণবঙ্গের ১৪২ আসনে।
বাংলা৭১নিউজ/এমএস