ঢাকা ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরের রাজপরিবারে জন্ম, কৈশোরে মুম্বাইয়ের বস্তিতে বাস— কে এই গায়িকা Logo ককরোচ পার্টির আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য বিপদঘণ্টা Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাদের প্রার্থী হতে দেবে না ইসি! Logo শিল্পকলায় রুনা লায়লার সংগীতানুষ্ঠান শুক্রবার Logo প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রাশেদ Logo মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক Logo শহীদ জিয়ার রাজনীতিক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন যাদু মিয়া: তথ্যমন্ত্রী Logo জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি Logo সরকার সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo তেজগাঁওয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যা, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ২

পোল্ট্রিতে স্বস্তি ফিরেছে, মাছ-মাংসের দাম এখনো চড়া

রমজানের শুরুতে যে ঊর্ধ্বগতিতে পোল্ট্রি মুরগির দাম বেড়েছিল, এখন সেখানে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকায় মিলছে। রোজার শুরুতে এসব মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি ছিল বলে জানান বিক্রেতারা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া সহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

যাত্রাবাড়ীর এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ী বলেন, রোজার প্রথম সপ্তাহে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দামও বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরবরাহ বাড়ায় এখন দাম কিছুটা নেমেছে। খামার পর্যায়ে মুরগির দাম কমায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানান, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় বাজারে বড় সংকট হয়নি। সামনে সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম আরও স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে মাছ ও লাল মাংসের বাজারে এখনো চাপ কমেনি। অধিকাংশ মাছের দাম রোজার শুরুর তুলনায় খুব একটা কমেনি।

মাছের বাজারে তুলনামূলক কম দামের মধ্যে পাঙ্গাস এগিয়ে। আকারভেদে এটি ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা এবং মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারেও দাম চড়া। ছোট আকারের জাটকা ইলিশ প্রায় ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ইলিশের দাম উঠেছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া চিংড়ি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কৈ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী আড়তের এক মাছ ব্যবসায়ী হামিদুল্লাহ বলেন, রমজানে ইফতারে মাছের চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে ইলিশ ও বড় মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দাম সহজে কমে না। নদীতে মাছের সরবরাহও আগের মতো নেই বলে তিনি দাবি করেন।

মাংসের বাজারেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। রোজার আগে গরুর মাংস বিক্রি হতো কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকায়। রোজার শুরুতে তা বেড়ে ৮৫০ টাকায় ওঠে। বর্তমানে সপ্তাহখানেক পর ৫০ টাকা কমিয়ে ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে আগের দামে ফেরেনি।

এক মাংস ব্যবসায়ী জানান, পশুখাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় দাম পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পাইকারি পর্যায়ে গরুর দাম কমলে খুচরা বাজারেও আরও সমন্বয় করা যাবে।

অন্যদিকে খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, দেশীয় খাসির সরবরাহ সীমিত এবং চাহিদা বেশি থাকায় দাম উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজান এলেই মাছ-মাংসের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। পোল্ট্রি খাতে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ ও লাল মাংসের ক্ষেত্রে এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেক পণ্য। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরের রাজপরিবারে জন্ম, কৈশোরে মুম্বাইয়ের বস্তিতে বাস— কে এই গায়িকা

পোল্ট্রিতে স্বস্তি ফিরেছে, মাছ-মাংসের দাম এখনো চড়া

আপডেট সময় ১১:০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজানের শুরুতে যে ঊর্ধ্বগতিতে পোল্ট্রি মুরগির দাম বেড়েছিল, এখন সেখানে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকায় মিলছে। রোজার শুরুতে এসব মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি ছিল বলে জানান বিক্রেতারা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া সহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

যাত্রাবাড়ীর এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ী বলেন, রোজার প্রথম সপ্তাহে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দামও বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরবরাহ বাড়ায় এখন দাম কিছুটা নেমেছে। খামার পর্যায়ে মুরগির দাম কমায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানান, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় বাজারে বড় সংকট হয়নি। সামনে সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম আরও স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে মাছ ও লাল মাংসের বাজারে এখনো চাপ কমেনি। অধিকাংশ মাছের দাম রোজার শুরুর তুলনায় খুব একটা কমেনি।

মাছের বাজারে তুলনামূলক কম দামের মধ্যে পাঙ্গাস এগিয়ে। আকারভেদে এটি ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা এবং মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারেও দাম চড়া। ছোট আকারের জাটকা ইলিশ প্রায় ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ইলিশের দাম উঠেছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া চিংড়ি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কৈ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী আড়তের এক মাছ ব্যবসায়ী হামিদুল্লাহ বলেন, রমজানে ইফতারে মাছের চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে ইলিশ ও বড় মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দাম সহজে কমে না। নদীতে মাছের সরবরাহও আগের মতো নেই বলে তিনি দাবি করেন।

মাংসের বাজারেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। রোজার আগে গরুর মাংস বিক্রি হতো কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকায়। রোজার শুরুতে তা বেড়ে ৮৫০ টাকায় ওঠে। বর্তমানে সপ্তাহখানেক পর ৫০ টাকা কমিয়ে ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে আগের দামে ফেরেনি।

এক মাংস ব্যবসায়ী জানান, পশুখাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় দাম পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পাইকারি পর্যায়ে গরুর দাম কমলে খুচরা বাজারেও আরও সমন্বয় করা যাবে।

অন্যদিকে খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, দেশীয় খাসির সরবরাহ সীমিত এবং চাহিদা বেশি থাকায় দাম উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজান এলেই মাছ-মাংসের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। পোল্ট্রি খাতে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ ও লাল মাংসের ক্ষেত্রে এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেক পণ্য। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস