ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আবদুর রহমান বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক Logo ছাত্রীকে শাসন করায় শিক্ষিকাকে পেটালেন অভিভাবক Logo আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী Logo মারলেন নিজ দলের কর্মীর গালেই চড় Logo ইউরোপে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে আনসার-ভিডিপির নারী সদস্য বাছাই শুরু Logo মেঘনার ঘূর্ণিস্রোতে ৫ হাজার বস্তা ধান-চালবোঝাই কার্গোডুবি Logo উত্তাল সাগরে ডুবল তিন ট্রলার, ১৩ জেলে নিখোঁজ Logo অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী Logo ‘২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য’

এক মাসে সড়কে ঝরল ৪৮৭ প্রাণ, মোটরসাইকেলে ৪০.২৪ শতাংশ প্রাণহানি

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেই দেশের সড়কে ঝরেছে ৪৮৭ প্রাণ। মাসজুড়ে মোট ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো জানুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ উদ্বেগজনক চিত্র। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ৬৮ জন ও শিশু ৫৭ জন। এছাড়া ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯৬ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। 

যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন; বাসের যাত্রী ২১ জন; ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন; প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ৯ জন; থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৮৮৫টি। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪৮টি।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২৭ জন, ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন রয়েছেন।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারিত না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আবদুর রহমান বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক

এক মাসে সড়কে ঝরল ৪৮৭ প্রাণ, মোটরসাইকেলে ৪০.২৪ শতাংশ প্রাণহানি

আপডেট সময় ০২:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেই দেশের সড়কে ঝরেছে ৪৮৭ প্রাণ। মাসজুড়ে মোট ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো জানুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ উদ্বেগজনক চিত্র। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ৬৮ জন ও শিশু ৫৭ জন। এছাড়া ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯৬ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। 

যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন; বাসের যাত্রী ২১ জন; ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন; প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ৯ জন; থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৮৮৫টি। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪৮টি।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২৭ জন, ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন রয়েছেন।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারিত না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ