শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন

কিছু নির্বাচন কর্মকর্তা অস্বাভাবিক আচরণ করছেন, ভোটারদের চাপ দিচ্ছেন

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানালেও প্রশাসনিক রদবদলে পক্ষপাত এবং কমিশনের ‘সারপ্রাইজ সিদ্ধান্ত’ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট নেতাদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। 

আসিফ মাহমুদ বলেন, কিছু জায়গায় দেখেছি কিছু কর্মকর্তারা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—সেটা পুলিশে আছেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা আছেন—মাঠ পর্যায়ে তারা কিছু অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তারা অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্দিষ্ট কোনো দলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপকে তারা কল দিচ্ছেন। প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন।

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে হঠাৎ করে নেওয়া সিদ্ধান্তের মতো ‘সারপ্রাইজ ডিসিশন’ নির্বাচনি পরিবেশকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উত্তপ্ত করতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা প্রয়োজন।

কমিশনের সঙ্গে আজকের বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পথে এগিয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে বদলি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কোনো একটি দলের প্রার্থীকে শোকজ করার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে অপসারণ ও বদলির দাবি এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রার্থীরা লিখিতভাবে কমিশনে অভিযোগ জানালেও অনেক ক্ষেত্রেই কোনো প্রতিক্রিয়া বা লিখিত জবাব পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার অভাব স্পষ্ট হচ্ছে। তার মতে, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি আলাদা টাস্কফোর্স থাকা জরুরি ছিল।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ও আচরণ সম্পর্কে কমিশনের পর্যাপ্ত ধারণা নেই, যা সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব ছিল।

নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহারে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তবে বিষয়টি প্রত্যাহারের আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে হঠাৎ নির্দেশনা আসে—নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সাংবাদিকদের কাজ করা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। এতে সারাদেশে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈঠকে কমিশন জানিয়েছে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত ওই নির্দেশনা এরই মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে। ভোটাররা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন, তবে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ফোন ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ থাকবে।

এসময় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির গণসংযোগ সমন্বয়ক ও মিডিয়া উইং নজরুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com