
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে হৃদয় (২৮) মিয়া নামের এক আসামি অন্য আরেক আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে। গতকাল শনিবার এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি পাঁচ হাজতি ও দুই কয়েদির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া আসামি হৃদয় জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি মধ্যপাড়ার মুজিবুর মিয়ার ছেলে। গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কারাগার থেকে পালিয়ে যায় হৃদয়।
এদিকে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-মহাপরিদশকের পক্ষে সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এক হাজতির পরিবর্তে আরেক হাজতিকে ভুল মুক্তি দেয়ার অভিযোগে ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকারাগারের কারারক্ষী মো. মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো. হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী মো. সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ ও কারারক্ষী রবিউল আলম, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা কারারক্ষী মো. জাহিদ হাসান, আইসিটি শাখার কারারক্ষী মো. আবু খায়ের।
গত বৃহস্পতিবার জেলা সুপার ওবায়দুর রহমান বিষয়টি লিখিতভাবে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতকে (নবীনগর) অবহিত করেছেন। একই দিন জেলার মনজুরুল আলম সাতজনকে আসামীকে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন-পলাতক হাজতি হৃদয় (২৮), নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের হাজতি দিদার হোসেন (২৮), একই উপজেলার নান্দুরা পূর্বপাড়ার হাজতি বিলাল মিয়া (২২), সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের কয়েদি মো. পলাশ হোসেন (২৫), কসবা কোন্নাবাড়ির কয়েদি আক্তার হোসেন ছোটন (৩০), সিলেটের মোগলাবাজাের সুলতানপুরের হাজতি শিপন মিয়া (৪৫), কসবার সোনারগাঁওয়ের হাজতি মনির হোসেন (৫৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১-৭নম্বর পর্যন্ত আসামি বিভিন্ন মামলা মূলে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে যান। ২নম্বর আসামি হাজতি দিদার হোসেন ২০১৬ সালের এক মামলায় গ্রেপ্তার হলে ১৫১ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি ১৫১ ধারার আসামীর জামিননামা গত ২৯ ডিসেম্বর কারাগারে পৌঁছে।
২৯ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৫২ মিনিট সময়ে থেকে মুক্ত করার সময়ে আসামি হৃদয় মামলার ২-৭ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েক আসামিদের সহায়তায় ২নম্বর আসামি দিদার হোসেনের রূপ ধারণ কররে। নিজেকে দিদার পরিচয় দিয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হতে এগিয়ে যায়। হৃদয় সেসময় কৌশলে অপর আসামীর কেস হিস্ট্রি টিকেটে থাকা দিদারের ছবি তুলে ফেলে এবং ছবি হারিয়েছে গেছে বলে সুকৌশলে মুক্ত হতে এগিয়ে আসে।
কারাগারে কর্তব্যরত কারারক্ষীগনের জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয়কে নিজের অপর আসামি দিদার হোসেনের অনুরূপ নাম-ঠিকানা পরিচয় প্রকাশ করে। কিন্তু মামলার বিবরণের কাগজে ছবি না থাকায় সেখানে উপস্থিত ২-৭নং আসামিগণসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৭ জন আসামি হৃদয় প্রকৃতপক্ষে জামিনপপ্রাপ্ত আসামি দিদার বলে শনাক্ত করে।
কর্তব্যরত কারারক্ষীগণ আসামি হৃদয়কে নবীনগর থানার সাধারণ ডায়েরি এবং ১৫১ সংক্রান্তে আটক ও জামিনপ্রাপ্ত আসামি দিদার মনে করে মুক্ত করে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই ২-৭নম্বর আসামিদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
সেসময় ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে অনৈতিক লাভের আশায় পরস্পর যোগসাজোশ ও পরিকল্পনা করে আসামি হৃদয়কে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মুক্ত হইয়া পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সদর থানায় মামলা দায়ের করে জেলার মনজুরুল আলম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ঘটনাটি সত্য। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজন হবে না। কারণ ছয়জন করারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএকে