‘আমি এশিয়া কাপ নিয়ে ভাবছি না, এশিয়া কাপ আসবে এই সিরিজের পর। এখন আন্তর্জাতিক একটি দলের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক একটি সিরিজ খেলছি আমরা। এই সিরিজ নিয়েই ভাবছি’—পরিস্কার ভাবেই বলছিলেন টাইগার হেড কোচ ফিল সিমন্স। তবে এটা যে কেবল বলার জন্যই বলা, তা কে না জানে!
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের আসর। আসন্ন এই টুর্নামেন্টটি সামনে রেখে গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ফিটনেস, স্কিল ক্যাম্প এবং পাওয়ার হিটিং কোচের দীক্ষাসহ নানা ধাপ পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির শেষ ধাপে। ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেই ক্রিকেটাররা দুবাইয়ের বিমান ধরবেন।
গত ১০ দিন ধরে সিলেটে অনুশীলন করছে বাংলাদেশ দল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটের রান-বন্যার কথা বিবেচনায় রেখে ঢাকা থেকে সিলেটে অনুশীলন ক্যাম্প স্থানান্তর করা হয়েছে। সিলেটের প্রস্তুতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে জানালেন টি-টোয়েন্টি দলের কাপ্তান লিটন দাস, ‘এশিয়া কাপে আমরা ভিন্ন-ভিন্ন দলের বিপক্ষে খেলব।
এশিয়া কাপে খেলবে এমন দলগুলোকে এখানে আমরা পাচ্ছি না। কিন্তু আমার মনে হয় কন্ডিশন একই রকম হবে। কারণ, আমরা সবাই জানি সংযুক্ত আরব আমিরাত ভালো ব্যাটিং উইকেট তৈরি করে। সিলেটও অনেকাংশেই ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট হয়ে থাকে।’
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজ জয় প্রত্যাশিত। কিন্তু ম্যাচ হারলেই সমালোচনার মুখে পড়তে হবে টাইগারদের। যেকোনো ধরনের ফলাফলের জন্য প্রস্তুত লিটন। তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলই ছোট নয়। বাংলাদেশ আগেও বিভিন্ন দলের কাছে হেরেছে। এটা নতুন কিছু নয়। আমরা কতটা ভালো খেলতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
যে কোনো ফরম্যাটের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সফর করছে নেদারল্যান্ডস। ২০১২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেদারল্যান্ডসের কাছে কোনো ম্যাচেই হারেনি বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে টাইগাররা।
২০১২ সালে নেদারল্যান্ডস সফরে দুই ম্যাচের সিরিজে একটি ম্যাচ হেরেছিল টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ২৫ রানে। কিন্তু ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে হারের লজ্জা পেয়েছিল বাংলাদেশ।
ঘরের মাঠে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল বলে স্বীকার করেছেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। তারপরও নেদারল্যান্ডসের সিরিজ জয়ের সামর্থ্য আছে বলে মনে করেন তিনি। এডওয়ার্ডস বলেন, ‘অবশ্যই আমরা সিরিজ জিততে পারি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার আশা করি এবং আমরা যদি ভালো খেলি অবশ্যই আমাদের সাফল্যের সুযোগ আছে।’
আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশের জন্য এটি দারুণ প্রস্তুতির সুযোগ। তাই, এটি উত্তেজনাপূর্ণ একটি সিরিজ হবে। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল। অনেক দলকে বাংলাদেশ সফরে এসে ধুঁকতে হয়। আমরা জানি, এই সিরিজটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। আমাদের নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে হবে।’
এশিয়া কাপ সামনে রেখে সিরিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিটন,‘কিছু খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করার সুযোগ পেলে আমরা আমরা সেটি করব। কিন্তু একই সাথে, আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’ সিলেটে অনুশীলনে চোট পেয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে এই ওপেনার ফিট হয়ে উঠেছেন বলেই জানালেন কোচ। অসুস্থতার কারণে সিলেটে দেরি করে যাওয়া শামীম হোসেন পাটোয়ারীও অনেকটাই সুস্থ।
তবে তাকে আরও আরেকটু সময় দিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম ম্যাচে তাই তার একাদশের বাইরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে দলে ফেরা নুরুল হাসান সোহান ও সাইফ হাসানের কাউকে দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে, পুরো শক্তির দল নিয়ে আসতে পারেনি সফরকারী নেদারল্যান্ডসও। অলরাউন্ডার বাস ডি লেড, অভিজ্ঞ স্পিনিং অলরাউন্ডার রুলফ ফন ডার মেরওয়া, ওপেনার মাইকেল লেভিটের মতো ক্রিকেটারদের ছাড়াই খেলবে ডাচরা।
বাংলাদেশ স্কোয়াড : লিটন কুমার (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি, শামিম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
নেদারল্যান্ডস স্কোয়াড : স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক), নোয়াহ ক্রোয়েস, ম্যাক্স ও’দাউদ, বিক্রমজিত সিং, তেজা নিদামানুরু, সিকান্দার জুলফিকার, সেডরিক ডি ল্যাং, কাইল ক্লেইন, আরিয়ান দত্ত, পল ফন মেকেরেন, শারিজ আহমেদ, বেন ফ্লেচার, ড্যানিয়েল ডোরাম, সেবাস্টিয়ান ব্র্যাট ও টিম প্রিঙ্গেল।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ