রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন, ১৮ কোটি মানুষ: বিরোধীদলীয় নেতা মহাকাশ গবেষণায় আধুনিক ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাবেক কমিশনার হাবিবসহ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ : গৃহায়ন মন্ত্রী এবারের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মান অত্যন্ত ভালো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসর সুবিধার ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী মেসির রেকর্ডে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা ইরান কখনোই শিক্ষা নেবে না, আমরাও ধৈর্য ধরব না: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি দেশের ৫ জেলায় হঠাৎ বন্যার শঙ্কা সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে বিল উত্থাপন, জুয়ার ধারা বিলুপ্ত

সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে : গভর্নর

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র ও সুশাসনের অভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। 

তিনি বলেন, এসব কারণে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ সম্ভবত বিদেশে পাচার হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগও করেন তিনি।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং খাত : বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম।

গভর্নর বলেন, দেশে বর্তমানে ৬১টি ব্যাংক রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট। ব্যাংকের সংখ্যা কমানো গেলে সুশাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে। সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে দুটি রেখে বাকিগুলো একীভুত (মার্জ) করা।

তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক গভর্ন্যান্সের অভাবেই এই খাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের বহু দিক রয়েছে এবং সব ক্ষেত্রেই সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে সংশোধিত বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি না হলে ভবিষ্যতে আবারও ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ফিরে আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক রেজ্যুলেশন ফান্ড গঠনের কাজ করছে। এ তহবিলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। শুধু ব্যাংক নয়, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই রেজ্যুলেশন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে গভর্নর বলেন, রাজস্ব ফাঁকির প্রধান মাধ্যম হচ্ছে নগদ লেনদেন। ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করা গেলে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব। এ জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, একটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত খাতকে এগিয়ে নিতে বর্তমান গভর্নরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাত কতটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে, তা এখন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এই খাত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং ইতিবাচক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফ মোশারফ হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সবারই জানা। ঋণ খেলাপির হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকের ঋণ বিতরণ কমে গেছে, ফলে বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতকে আরও কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহাবুব উল্লাহ, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন ও বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বাংলা৭১নিউজ/এএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com