ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী Logo বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবেন অমিত শাহ Logo অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সন্তোষজনক নয় : শিক্ষামন্ত্রী Logo রাজধানীতে তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের মামলায় ৫ আসামির রিমান্ড Logo ছানিপড়া রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন Logo টানা ২৫ মৌসুমে গোল করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড রোনালদোর Logo ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক Logo গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের Logo জেনেভা ক্যাম্পের কথিত ‘মাদক সম্রাট’ সেলিম ৩ দিনের রিমান্ডে Logo এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু, বাড়ল এলএনজি সরবরাহ

দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন শুরু করেছে ইইউ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে মিশনটি মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে মিশনের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে।

লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইজাবসের নেতৃত্বে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে। ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে পৌঁছেছেন এবং তারা দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মোতায়েন থাকবেন। ২০০৮ সালের পর এটি বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।

প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস বলেন, এই মিশন পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনরায় নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশে প্রথম সফরের সময় ইজাবস নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য নির্বাচনী অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা নেন।

মিশনটি নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও বাস্তবায়ন, নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি সহ বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি নারী, তরুণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হবে।

প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস বলেন, আমাদের মূল্যায়ন তিনটি মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে হবে স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং হস্তক্ষেপহীনতা। আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করব, ফলাফল প্রত্যয়ন করব না। এই নির্বাচন একান্তই বাংলাদেশের জনগণের।

পূর্ণ সক্ষমতায় মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন। এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ সদস্যের কোর টিম, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি এবং ভোটের আগে মোতায়েনযোগ্য ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক থাকবেন। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দলও কার্যক্রমে অংশ নেবে।

ইজাবস আরও বলেন, ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি।

ভোটের দুই দিন পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি, মিশন একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হবে। প্রায় দুই মাস পর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইইউ ইওএম-এর সকল পর্যবেক্ষক কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করবেন এবং মিশনের কার্যক্রম ২০০৫ সালে জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী

দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন শুরু করেছে ইইউ

আপডেট সময় ১০:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে মিশনটি মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে মিশনের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে।

লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইজাবসের নেতৃত্বে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে। ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে পৌঁছেছেন এবং তারা দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মোতায়েন থাকবেন। ২০০৮ সালের পর এটি বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।

প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস বলেন, এই মিশন পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনরায় নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশে প্রথম সফরের সময় ইজাবস নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য নির্বাচনী অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা নেন।

মিশনটি নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও বাস্তবায়ন, নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি সহ বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি নারী, তরুণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হবে।

প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস বলেন, আমাদের মূল্যায়ন তিনটি মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে হবে স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং হস্তক্ষেপহীনতা। আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করব, ফলাফল প্রত্যয়ন করব না। এই নির্বাচন একান্তই বাংলাদেশের জনগণের।

পূর্ণ সক্ষমতায় মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন। এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ সদস্যের কোর টিম, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি এবং ভোটের আগে মোতায়েনযোগ্য ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক থাকবেন। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দলও কার্যক্রমে অংশ নেবে।

ইজাবস আরও বলেন, ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি।

ভোটের দুই দিন পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি, মিশন একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হবে। প্রায় দুই মাস পর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইইউ ইওএম-এর সকল পর্যবেক্ষক কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করবেন এবং মিশনের কার্যক্রম ২০০৫ সালে জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস