ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ Logo প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন গৃহবধূ, পথে বেপরোয়া গতির ট্রাকচাপায় মৃত্যু Logo জাতীয় গ্রিডে ২৪৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা Logo কিশোরগঞ্জে দিনব্যাপী যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী Logo পাকিস্তানে নিরপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১০ সন্ত্রাসী নিহত Logo শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত Logo ভারতে আকস্মিক বন্যায় ৫ ভারতীয় সেনা নিখোঁজ Logo কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী Logo যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে মিসর যাচ্ছেন হামাসপ্রধান Logo হাওয়াইয়ের দিকে ধেয়ে আসছে হারিকেন ‘লালা’, বিদ্যুৎহীন ৪২ হাজারের বেশি মানুষ

খালেদা জিয়ার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফল আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলে পুঁজিবাজারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল এবং তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাইফুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিবিএ’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মানবিক রাজনীতিবিদ, যিনি বিরোধী মতের প্রতিও সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে, বিশেষ করে গত ১৫ বছরের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশ ও মানুষের স্বার্থে অবিচল ছিলেন। জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষায় তার আপসহীন ভূমিকা আজও প্রেরণার উৎস।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নে তার (খালেদা জিয়া) অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯১ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি এ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছি এবং আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি।

স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ডিএসইর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণসভায় ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অনন্য ও অসামান্য। বাংলাদেশের বাজারভিত্তিক ও বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাঠামোর ভিত্তি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই স্থাপিত হয়।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে বেসরকারি খাতে যে ব্যাপক সম্প্রসারণের সূচনা হয়, তার সুফল আজ দেশের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতেও তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত অবদান তার প্রয়াণের পর আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। খালেদা জিয়ার জানাজায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তার প্রতি জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতা, যার অবদান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গঠিত হয়, যা দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, একজন মানুষের জীবনের প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় তার মৃত্যুর পর মানুষের উপস্থিতি ও আবেগে। তার (খালেদা জিয়া) জানাজায় কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তিনি কত মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী বা একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না, সময়ের পরিক্রমায় তিনি যেন আমাদের সমাজ ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন।

তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে তার যেমন গুণ ছিল, তেমনি স্বাভাবিকভাবে কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। তবে বিগত কয়েক দিনে সারা দেশে তার প্রতি যে বিপুল ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে, তা প্রমাণ করে— সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাতিজা মো. শামস ইস্কান্দার সবার কাছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমার জন্য দোয়া কামনা করেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএকে

Tag :

ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ

খালেদা জিয়ার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফল আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার

আপডেট সময় ০৩:৫২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলে পুঁজিবাজারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল এবং তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাইফুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিবিএ’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মানবিক রাজনীতিবিদ, যিনি বিরোধী মতের প্রতিও সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে, বিশেষ করে গত ১৫ বছরের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশ ও মানুষের স্বার্থে অবিচল ছিলেন। জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষায় তার আপসহীন ভূমিকা আজও প্রেরণার উৎস।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নে তার (খালেদা জিয়া) অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯১ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি এ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছি এবং আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি।

স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ডিএসইর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণসভায় ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অনন্য ও অসামান্য। বাংলাদেশের বাজারভিত্তিক ও বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাঠামোর ভিত্তি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই স্থাপিত হয়।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে বেসরকারি খাতে যে ব্যাপক সম্প্রসারণের সূচনা হয়, তার সুফল আজ দেশের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতেও তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত অবদান তার প্রয়াণের পর আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। খালেদা জিয়ার জানাজায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তার প্রতি জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতা, যার অবদান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গঠিত হয়, যা দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, একজন মানুষের জীবনের প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় তার মৃত্যুর পর মানুষের উপস্থিতি ও আবেগে। তার (খালেদা জিয়া) জানাজায় কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তিনি কত মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী বা একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না, সময়ের পরিক্রমায় তিনি যেন আমাদের সমাজ ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন।

তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে তার যেমন গুণ ছিল, তেমনি স্বাভাবিকভাবে কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। তবে বিগত কয়েক দিনে সারা দেশে তার প্রতি যে বিপুল ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে, তা প্রমাণ করে— সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাতিজা মো. শামস ইস্কান্দার সবার কাছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমার জন্য দোয়া কামনা করেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএকে