জুলাই সনদকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবিধান এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে জুলাই সনদ।
গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে ইতিবাচকভাবে ধারণ করে বিএনপির সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত ছিল।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুলাই সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
সাইফুল হক বলেন, নবনির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিলে তা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক অর্জন ও গৌরবের বিষয় হতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণ না করে বিএনপি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, গত এক বছরে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের প্রশ্নমালায় জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়া নিয়ে আপত্তি ও সমালোচনা ছিল।
তা সত্ত্বেও তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। জনগণও বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করেছে। এই রায় যথাযথভাবে ধারণ করা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব ছিল।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি কেন নির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কার্যকর করার সুযোগ গ্রহণ করেনি, তার কোনো যুক্তিসংগত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। ফলে বিএনপি জুলাই সনদ মানে না কিংবা মৌলিক সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণা জোরালো হয়েছে।
এসব প্রচারণা অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক অপপ্রচার হলেও বিএনপির ব্যাখ্যার দুর্বলতা মানুষের মধ্যে দলটির অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি এখন যে উদ্যোগ নিচ্ছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেও একই কাজ করা যেত। ২৪৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংসদে দলটির অবস্থানের বাইরে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। তারপরও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির এইটুকু ঝুঁকি নেওয়া উচিত ছিল।
সাইফুল হক আশা প্রকাশ করেন, আগামী জানুয়ারিতে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হিসেবে জুলাই সনদের প্রস্তাবসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংশোধনী বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব প্রস্তাব গৃহীত হবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























