ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোয়া কবুল না হলেও যে সওয়াব থেকে যায়

অনেক সময় আমরা মন থেকে দোয়া করি। দিনের পর দিন একই কথা আল্লাহর কাছে বলি। চোখের পানি ফেলে চাই। নামাজের পর হাত তুলি। রাতের নীরবতায় রবের কাছে নিজের কষ্টের কথা বলি। তারপরও যখন কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি আসে না, মনে প্রশ্ন জাগে- ‘আমার দোয়া কি কবুল হলো না?’

কখনো মনে হয়, এত দোয়া করেও যখন কিছুই পেলাম না, তাহলে এত চাওয়ার কী অর্থ ছিল? আসলে একজন মুমিনের জন্য দোয়ার হিসাবটা এত সরল নয়। আমরা অনেক সময় দোয়াকে শুধু চাওয়া-পাওয়ার সম্পর্ক দিয়ে দেখি। আমি চাইলাম, তাই আমাকে পেতে হবে। আমি কাঁদলাম, তাই আমার সমস্যার সমাধান হতে হবে। আমি রাত জেগে দোয়া করলাম, তাই আমার ইচ্ছাটি পূরণ হতে হবে।

অথচ আল্লাহর কাছে দোয়া করার সময় আপনি কী চাইলেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কার কাছে চাইলেন।

দোয়া হারিয়ে যায় না
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোনো মুসলিম এমন দোয়া করলে যাতে গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নেই, আল্লাহ তাকে তিনটির একটি দান করেন। হয় তার দোয়া দ্রুত কবুল করেন, অথবা তা আখেরাতের জন্য জমা রাখেন, অথবা তার সমপরিমাণ কোনো অকল্যাণ তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন। সাহাবিরা বললেন, ‘তাহলে আমরা আরও বেশি দোয়া করব।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ আরও বেশি দানকারী।’ (মুসনাদে আহমাদ: ১১১৩৩)

খেয়াল করুন, হাদিসে এমন কোনো চতুর্থ অবস্থা নেই যেখানে বলা হয়েছে- বান্দা দোয়া করল, কিন্তু সবই হারিয়ে গেল। অর্থাৎ দোয়ার ফল আমাদের চোখে না পড়লেও তা আল্লাহর কাছে হারিয়ে যায় না। তাই দুনিয়ায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই দোয়া ব্যর্থ হওয়া নয়।

দোয়া নিজেই একটি ইবাদত
দোয়া শুধু কোনো প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম নয়। দোয়া নিজেই ইবাদত। নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দোয়া-ই ইবাদত।’ (সুনান আবু দাউদ: ১৪৭৯)

আপনি যখন আল্লাহর কাছে হাত তোলেন, তখন নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করেন। নিজের প্রয়োজন তাঁর সামনে তুলে ধরেন। নিজের শক্তির সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে তাঁর ওপর ভরসা করেন। এই ফিরে আসাটাও মূল্যহীন নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)

আর বলেন, ‘আমি তো নিকটেই আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)

তাই আপনি যখন দোয়ার জন্য হাত তোলেন, তখন শুধু একটি চাওয়া নিয়ে দাঁড়ান না। আপনি নিজের রবের সামনে দাঁড়ান।

আমরা যা চাই, সবসময় তা আমাদের জন্য ভালো নয়
ধরুন, আপনি একটি চাকরির জন্য অনেক দোয়া করলেন। চাকরিটি পেলেন না। আপনি হয়তো ভাবলেন, ‘আমার দোয়া কবুল হলো না।’

কিন্তু কে জানে, সেই চাকরিটি আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারত? হয়তো সেখানে এমন কিছু ছিল, যা আপনার ঈমান, পরিবার কিংবা জীবনের জন্য ভালো ছিল না। আপনি জানেন না। আল্লাহ জানেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয়কে অপছন্দ করো অথচ তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আবার হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয়কে পছন্দ করো অথচ তাতে তোমাদের জন্য অকল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা বাকারা: ২১৬)

আমরা দেখি আজকের প্রয়োজন। আল্লাহ জানেন আগামীকাল কী আছে। আমরা দেখি একটি ঘটনা। তিনি জানেন তার পরিণতি। তাই কখনো কখনো না পাওয়াটাও আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় রহমত।

দোয়ার উত্তর পেতে দেরি হলে হতাশ হবেন না
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে। সে যেন এমন না বলে, ‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হলো না।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৪০; সহিহ মুসলিম: ২৭৩৫)

কত সহজেই আমরা এই ভুলটি করি! কয়েক দিন দোয়া করলাম। কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করলাম। তারপর মনে হলো, ‘হয়তো আমার দোয়া কবুল হবে না।’ অথচ দেরি মানেই প্রত্যাখ্যান নয়। একজন কৃষক মাটিতে বীজ বপন করে। কয়েক দিন পরও মাটির ওপরে কিছু দেখা যায় না। তাই বলে কি বীজটি নষ্ট হয়ে গেছে?

সবকিছুর ফল চোখে দেখা যায় না। দোয়ার ক্ষেত্রেও এমন অনেক কিছু থাকে, যা আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থাকে।

দোয়া ছেড়ে দেওয়া যাবে না
দোয়া কবুল হতে দেরি হলে দোয়া বন্ধ করে দেওয়া নিজের জন্যই ক্ষতি। আর দোয়ার পাশাপাশি একটি কথা মনে রাখা দরকার- নিজের আমল ও জীবনকেও ঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। হারাম উপার্জন ও হারাম খাবার থেকে বাঁচতে হবে। গুনাহ থেকে তাওবা করতে হবে। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (স.) এমন এক ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত ও ধুলোমলিন অবস্থায় আকাশের দিকে হাত তুলে ‘হে রব, হে রব’ বলে দোয়া করে। অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং তার শরীর হারাম দ্বারা পুষ্ট। রাসুলুল্লাহ (স.) প্রশ্ন করেছেন, তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে? (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)

তাই দোয়ার সঙ্গে নিজের সংশোধনের চেষ্টাও চলুক। দোয়া মানে হাত তুলে বসে থাকা নয়। দোয়া মানে চেষ্টা করে ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।

যে দোয়াগুলোর উত্তর আমরা দেখিনি
জীবনে এমন অনেক দোয়া থাকে, যার উত্তর আমরা বুঝতে পারি না। কেউ একটি সম্পর্ক টিকে থাকার জন্য দোয়া করেছিল। সেটি টেকেনি। কেউ একটি চাকরি চেয়েছিল। সেটি হয়নি।

কেউ কোনো বিপদ থেকে মুক্তি চেয়েছিল। হয়তো সেই মুক্তি এসেছে অন্যভাবে। তখন মনে হতে পারে- ‘আমার দোয়া কবুল হলো না।’ কিন্তু মুমিন জানে, তার হিসাব এতটুকুতে শেষ নয়। হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিটাই ছিল- দুঃখের সময়ে সে আল্লাহকে ডেকেছিল।

আজ যে দোয়ার জবাব দেখতে পাচ্ছেন না, সেটি নিয়ে হতাশ হবেন না। দীর্ঘদিন দোয়া করার পরও যদি আপনার চাওয়া পূরণ না হয়, হাত নামিয়ে নেবেন না। বলতে থাকুন, ‘হে আমার রব, আমি জানি না। আপনি জানেন। আমি দুর্বল, আপনি সর্বশক্তিমান। আমার জন্য যা কল্যাণকর, তা-ই নির্ধারণ করুন।’

আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করুন, আর যেসব দোয়ার ফল দুনিয়ায় আমাদের চোখে পড়বে না, সেগুলোর উত্তম প্রতিদান আখেরাতে দান করুন। আমিন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

দোয়া কবুল না হলেও যে সওয়াব থেকে যায়

আপডেট সময় ১২:০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

অনেক সময় আমরা মন থেকে দোয়া করি। দিনের পর দিন একই কথা আল্লাহর কাছে বলি। চোখের পানি ফেলে চাই। নামাজের পর হাত তুলি। রাতের নীরবতায় রবের কাছে নিজের কষ্টের কথা বলি। তারপরও যখন কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি আসে না, মনে প্রশ্ন জাগে- ‘আমার দোয়া কি কবুল হলো না?’

কখনো মনে হয়, এত দোয়া করেও যখন কিছুই পেলাম না, তাহলে এত চাওয়ার কী অর্থ ছিল? আসলে একজন মুমিনের জন্য দোয়ার হিসাবটা এত সরল নয়। আমরা অনেক সময় দোয়াকে শুধু চাওয়া-পাওয়ার সম্পর্ক দিয়ে দেখি। আমি চাইলাম, তাই আমাকে পেতে হবে। আমি কাঁদলাম, তাই আমার সমস্যার সমাধান হতে হবে। আমি রাত জেগে দোয়া করলাম, তাই আমার ইচ্ছাটি পূরণ হতে হবে।

অথচ আল্লাহর কাছে দোয়া করার সময় আপনি কী চাইলেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কার কাছে চাইলেন।

দোয়া হারিয়ে যায় না
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোনো মুসলিম এমন দোয়া করলে যাতে গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নেই, আল্লাহ তাকে তিনটির একটি দান করেন। হয় তার দোয়া দ্রুত কবুল করেন, অথবা তা আখেরাতের জন্য জমা রাখেন, অথবা তার সমপরিমাণ কোনো অকল্যাণ তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন। সাহাবিরা বললেন, ‘তাহলে আমরা আরও বেশি দোয়া করব।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ আরও বেশি দানকারী।’ (মুসনাদে আহমাদ: ১১১৩৩)

খেয়াল করুন, হাদিসে এমন কোনো চতুর্থ অবস্থা নেই যেখানে বলা হয়েছে- বান্দা দোয়া করল, কিন্তু সবই হারিয়ে গেল। অর্থাৎ দোয়ার ফল আমাদের চোখে না পড়লেও তা আল্লাহর কাছে হারিয়ে যায় না। তাই দুনিয়ায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই দোয়া ব্যর্থ হওয়া নয়।

দোয়া নিজেই একটি ইবাদত
দোয়া শুধু কোনো প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম নয়। দোয়া নিজেই ইবাদত। নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দোয়া-ই ইবাদত।’ (সুনান আবু দাউদ: ১৪৭৯)

আপনি যখন আল্লাহর কাছে হাত তোলেন, তখন নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করেন। নিজের প্রয়োজন তাঁর সামনে তুলে ধরেন। নিজের শক্তির সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে তাঁর ওপর ভরসা করেন। এই ফিরে আসাটাও মূল্যহীন নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)

আর বলেন, ‘আমি তো নিকটেই আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)

তাই আপনি যখন দোয়ার জন্য হাত তোলেন, তখন শুধু একটি চাওয়া নিয়ে দাঁড়ান না। আপনি নিজের রবের সামনে দাঁড়ান।

আমরা যা চাই, সবসময় তা আমাদের জন্য ভালো নয়
ধরুন, আপনি একটি চাকরির জন্য অনেক দোয়া করলেন। চাকরিটি পেলেন না। আপনি হয়তো ভাবলেন, ‘আমার দোয়া কবুল হলো না।’

কিন্তু কে জানে, সেই চাকরিটি আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারত? হয়তো সেখানে এমন কিছু ছিল, যা আপনার ঈমান, পরিবার কিংবা জীবনের জন্য ভালো ছিল না। আপনি জানেন না। আল্লাহ জানেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয়কে অপছন্দ করো অথচ তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আবার হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয়কে পছন্দ করো অথচ তাতে তোমাদের জন্য অকল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা বাকারা: ২১৬)

আমরা দেখি আজকের প্রয়োজন। আল্লাহ জানেন আগামীকাল কী আছে। আমরা দেখি একটি ঘটনা। তিনি জানেন তার পরিণতি। তাই কখনো কখনো না পাওয়াটাও আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় রহমত।

দোয়ার উত্তর পেতে দেরি হলে হতাশ হবেন না
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে। সে যেন এমন না বলে, ‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হলো না।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৪০; সহিহ মুসলিম: ২৭৩৫)

কত সহজেই আমরা এই ভুলটি করি! কয়েক দিন দোয়া করলাম। কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করলাম। তারপর মনে হলো, ‘হয়তো আমার দোয়া কবুল হবে না।’ অথচ দেরি মানেই প্রত্যাখ্যান নয়। একজন কৃষক মাটিতে বীজ বপন করে। কয়েক দিন পরও মাটির ওপরে কিছু দেখা যায় না। তাই বলে কি বীজটি নষ্ট হয়ে গেছে?

সবকিছুর ফল চোখে দেখা যায় না। দোয়ার ক্ষেত্রেও এমন অনেক কিছু থাকে, যা আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থাকে।

দোয়া ছেড়ে দেওয়া যাবে না
দোয়া কবুল হতে দেরি হলে দোয়া বন্ধ করে দেওয়া নিজের জন্যই ক্ষতি। আর দোয়ার পাশাপাশি একটি কথা মনে রাখা দরকার- নিজের আমল ও জীবনকেও ঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। হারাম উপার্জন ও হারাম খাবার থেকে বাঁচতে হবে। গুনাহ থেকে তাওবা করতে হবে। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (স.) এমন এক ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত ও ধুলোমলিন অবস্থায় আকাশের দিকে হাত তুলে ‘হে রব, হে রব’ বলে দোয়া করে। অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং তার শরীর হারাম দ্বারা পুষ্ট। রাসুলুল্লাহ (স.) প্রশ্ন করেছেন, তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে? (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)

তাই দোয়ার সঙ্গে নিজের সংশোধনের চেষ্টাও চলুক। দোয়া মানে হাত তুলে বসে থাকা নয়। দোয়া মানে চেষ্টা করে ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।

যে দোয়াগুলোর উত্তর আমরা দেখিনি
জীবনে এমন অনেক দোয়া থাকে, যার উত্তর আমরা বুঝতে পারি না। কেউ একটি সম্পর্ক টিকে থাকার জন্য দোয়া করেছিল। সেটি টেকেনি। কেউ একটি চাকরি চেয়েছিল। সেটি হয়নি।

কেউ কোনো বিপদ থেকে মুক্তি চেয়েছিল। হয়তো সেই মুক্তি এসেছে অন্যভাবে। তখন মনে হতে পারে- ‘আমার দোয়া কবুল হলো না।’ কিন্তু মুমিন জানে, তার হিসাব এতটুকুতে শেষ নয়। হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিটাই ছিল- দুঃখের সময়ে সে আল্লাহকে ডেকেছিল।

আজ যে দোয়ার জবাব দেখতে পাচ্ছেন না, সেটি নিয়ে হতাশ হবেন না। দীর্ঘদিন দোয়া করার পরও যদি আপনার চাওয়া পূরণ না হয়, হাত নামিয়ে নেবেন না। বলতে থাকুন, ‘হে আমার রব, আমি জানি না। আপনি জানেন। আমি দুর্বল, আপনি সর্বশক্তিমান। আমার জন্য যা কল্যাণকর, তা-ই নির্ধারণ করুন।’

আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করুন, আর যেসব দোয়ার ফল দুনিয়ায় আমাদের চোখে পড়বে না, সেগুলোর উত্তম প্রতিদান আখেরাতে দান করুন। আমিন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস