শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
প্রবাসীরা চাকরি হারালে পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না : জামায়াত আমির বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে ৬ হাজার ৫০০ টন অস্ত্র পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে: তারেক রহমান উগান্ডায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ২৩১ রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান : রাষ্ট্রপতি যশোর পৌরসভাকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে কাজ চলছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি কারা, সেটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য : আইনমন্ত্রী হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু  সমাবেশে যোগ ‍দিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্লোগানে উত্তাল নয়াপল্টন

খাল খননে দখলদারদের বাধা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

দুই ইউনিয়ন ঘেঁষে বয়ে গেছে খালটি। আট কিলোমিটরার দীর্ঘ খালটি দখল ও দূষণে অস্তিত্বের সংকটে। দখল হওয়ায় খালটি দিয়ে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরে বর্ষায় হয় জলাবদ্ধতা। সবশেষ বন্যায় খাল দিয়ে পানি প্রবাহ করতে না পারায় দীর্ঘ এক মাসের মতো পানিবদ্ধ ছিল এলাকাটির লোকজন।

অবশেষে সেই খালটির খনন কাজ শুরু হয়।  পুরোদমে চলে কাজ। তবে শেষ মুহূর্তে এসে খানন কাজে বাধা দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে বন্ধ হয়ে গেছে খননকাজ। দুশ্চিন্তায় পড়েছে স্থানীয়রা।

ঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তুলাতুলি খালের।

উপজেলার চর লরেন্স এবং তোরাবগঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে তুলাতুলি খাল খননে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের ৯০ ভাগ খনন কাজ শেষ। তবে শেষ পর্যায়ে এসে খনন কাজ পড়েছে বাধার মুখে।

স্থানীয় দখলদারদের বাধায় গত চারদিন ধরে বন্ধ রয়েছে তুলাতুলি খালের খনন কাজ। বিপাকে পড়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাজেরা এন্টারপ্রাইজ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের শঙ্কা, আগের বছরের মতো এবারও বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে হাজারো পরিবার। তারা দ্রুত ১০০ মিটারের দখলদার উচ্ছেদে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস ধরে খাল খননের কাজ চলমান। কাজের শেষ পর্যায়ে এসে লরেন্স ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিম রোডের দক্ষিণ ও উত্তরে প্রায় ১০০ মিটার খালের জায়গা দখল করে রেখেছেন জামাল, কামাল ও সালাম নামে কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের বাধায় কাজ বন্ধ রয়েছে।

এর আগেও কয়েকটি স্থানে বাধার সম্মুখীন হয় প্রকল্পটি। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান সরেজমিনে পরিদর্শন করে উপজেলা সার্ভেয়ারকে অবৈধ দখল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সার্ভেয়ার আবদুল্লাহ আল মামুন পরিমাপ শেষে জমির মালিকানা নির্ধারণ করে খালের সীমানা বুঝিয়ে দেন বিএডিসিকে।

তবে এরপরও বড় গাছ না কাটার অজুহাতে খাল খননে বাধা সৃষ্টি করছেন জামাল ও কামাল। তারা দাবি করছেন, খালটি সরিয়ে পশ্চিম দিকে নতুন করে খনন করতে হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের দুপাশে দখল ও গৃহ নির্মাণের ফলে খাল সংকুচিত হয়ে গেছে। তবে খালের প্রাকৃতিক চ্যানেল ও অস্তিত্ব এখনও দৃশ্যমান রয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, জামাল ও কামাল পূর্ব পাশে বাড়ি তৈরি করে খালের জায়গা দখল করেছেন। আর সেলিম সড়ক সংলগ্ন খালের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এছাড়া স্থানীয় অটোরিকশা চালক মো. সালামের বাবার বিরুদ্ধে খালের জায়গা রেকর্ড করে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

খাল খননে বাধা দেওয়া কামাল হোসেনের দাবি, ‘এ জমি এখন আমাদের নামে রেকর্ড হয়ে গেছে। তাই কাজ বন্ধ করেছি।’

তুলাতুলি খালের খনন কাজের তদারকি করা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের বাপ্পি বলেন, ‘৮ কিলোমিটার খালের মাত্র সামান্য অংশ বাকি রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে কিছু ব্যক্তি কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে।’

বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এ খাল খনন অত্যন্ত জরুরি। কয়েকটি স্পটে বাঁধা পেয়েছি। তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা এ ১০০ মিটার জায়গা।’

ইউএনও রাহাত উজ জামান বলেন, ‘সরকারি কাজে বাঁধাদানকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যভস্থা নেওয়া হবে। যত বাঁধাই আসুক আমরা খালের খনন কাজ সম্পন্ন করব।’

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com