ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা হলে যে দোয়া পড়বেন Logo নতুন লুকে মুগ্ধতা ছড়ালেন রূপকথার রাজকন্যা জয়া Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক চলছে Logo ৪০ বছর বয়সেও সেনাবাহিনীতে আবেদনের সুযোগ Logo হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির বলি হয়েছে অসংখ্য শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo বড়পুকুরিয়ার কয়লায় নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo কয়েক দিনের মধ্যে কাটবে গ্যাস সংকট: অর্থ উপদেষ্টা Logo বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণ পাঠানোর অনুরোধ ত্রিবেদীর Logo আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট Logo ৩ মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: নৌমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মোবাইল ভাতা

নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হলে প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতার আওতায় আসবেন। এতদিন পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। সরকারি দাপ্তরিক কাজে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।

বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পান।

জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা মোবাইল ভাতার সুপারিশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডে ১ হাজার ৫০০, চতুর্থ-পঞ্চম গ্রেডে ১ হাজার, ষষ্ঠ-দশম গ্রেডে ৫০০ এবং ১১তম-বিংশ গ্রেডে ৪০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।

এই হারে ভাতা বাস্তবায়ন করা হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতে পারত।

তবে সচিব কমিটি ভাতার আওতা সব গ্রেডে রাখার বিষয়ে একমত হলেও হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন।

সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে সব স্তরের কর্মচারীকেই মোবাইল ব্যবহার করতে হয়। তাই সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় আনা যৌক্তিক হলেও সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে বেতনস্কেল

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংশ্লেষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি কার্যকর করা হবে।

নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী। এ ছাড়া প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর আওতায় আসবেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতা

নতুন বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা হলে যে দোয়া পড়বেন

প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মোবাইল ভাতা

আপডেট সময় ০৯:২৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হলে প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতার আওতায় আসবেন। এতদিন পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। সরকারি দাপ্তরিক কাজে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।

বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পান।

জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা মোবাইল ভাতার সুপারিশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডে ১ হাজার ৫০০, চতুর্থ-পঞ্চম গ্রেডে ১ হাজার, ষষ্ঠ-দশম গ্রেডে ৫০০ এবং ১১তম-বিংশ গ্রেডে ৪০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।

এই হারে ভাতা বাস্তবায়ন করা হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতে পারত।

তবে সচিব কমিটি ভাতার আওতা সব গ্রেডে রাখার বিষয়ে একমত হলেও হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন।

সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে সব স্তরের কর্মচারীকেই মোবাইল ব্যবহার করতে হয়। তাই সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় আনা যৌক্তিক হলেও সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে বেতনস্কেল

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংশ্লেষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি কার্যকর করা হবে।

নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী। এ ছাড়া প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর আওতায় আসবেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতা

নতুন বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস