ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মাদকের বেলায় কাউকে ছাড় নয়, ওসিকে কড়া নির্দেশ এমপি জসিম উদ্দিনের Logo ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেই খাওয়ানো হলো মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট Logo লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে খালাতো ভাই গ্রেপ্তার Logo ফিফার নিষেধাজ্ঞা এক ডজন থেকে তিনটিতে নেমেছে Logo ফ্রি প্যালেস্টাইন বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু Logo প্রাণের ভয়ে গৃহবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন ট্রাম্পের ছোট ছেলে Logo ১ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে রুয়েটে অনুষ্ঠিত হলো আরজেপি টেক ফেস্ট Logo উজানের ভারি বর্ষণ, শান্ত নদীর বুকে ঝড়ের পূর্বাভাস Logo ৪০তম ফোবানা সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

উজানের ভারি বর্ষণ, শান্ত নদীর বুকে ঝড়ের পূর্বাভাস

শ্রাবণের মেঘের খেলা শেষে ভাদ্রের আকাশে যখন অনিশ্চয়তার ঘনঘটা, তখন বাংলা মায়ের জলপথগুলোতে সুর বাজছে বদলের। নদীর বুকে বয়ে যাওয়া জলধারার গতিপ্রকৃতি নিয়ে এক করুণ অথচ জীবনঘনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে এসেছে প্রাক-শরতের এই সময়।

উজানের ভারি বর্ষণ আর আকাশের মেঘের ঘনঘটা জানান দিচ্ছে—সামনের দিনগুলোতে নদ-নদীগুলোর বুক কেঁপে উঠতে পারে জলে, তবে স্বস্তির কথা একটাই, নদীগুলো এখনো তার সীমা পেরিয়ে বিপদ ডেকে আনেনি।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা

ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার শান্ত শান্ত ভাবটা হয়তো সাময়িক। দু’দিন স্থির থাকার পর আগামী পাঁচ দিন তারা আবার ফুঁসে উঠতে পারে। ওদিকে পদ্মার বুকেও বইছে পরিবর্তনের ঢেউ। জল বাড়লেও আশা এই—আগামী সাত দিন তারা কুল ঘেঁষেই বইবে, বিপদসীমার লাল দাগ ছোঁবে না।

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল

গোমতী, ফেনী, সাঙ্গু কিংবা মাতামুহুরীর মতো পাহাড়ি নদীগুলো গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা শান্ত হলেও, এই নীরবতা হয়তো ঝড়ের পূর্বাভাস। আগস্টের শেষ আর সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে (৩০ আগস্ট – ৩ সেপ্টেম্বর) পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির ছোঁয়ায় নদীগুলোর বুক আবার ফুলে-ফেঁপে উঠতে পারে।

উত্তরবঙ্গের তিস্তা-ধরলা

উত্তরে তিস্তার রূপ তো চিরকালই চঞ্চল। নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা নদীর বুক জুড়ে এখন সতর্কতার সুর। আগামী দু’দিন জল আরও বাড়লেও সেপ্টেম্বরের শুরুতেই হয়তো শান্ত হয়ে আসবে তার দূরন্তপনা।

সুরমা-কুশিয়ারা ও উজান মেঘনা

সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারার বুকেও বাজছে সতর্কঘণ্টা। মারকুলি আর ফেঞ্চুগঞ্জে জল বাড়লেও, সপ্তাহের দ্বিতীয়ভাগে এসে হয়তো কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে ভাঁটি অঞ্চল।

আকাশের ক্যানভাস ও উজানের মেঘ

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে মেঘের ঘনঘটা আর ঝুম বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—দেশের সীমানা পেরিয়ে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা আর পশ্চিমবঙ্গের আকাশে মেঘ জমেছে ভারি। আগামী সাত দিনে বাংলাদেশ ও সীমান্ত সংলগ্ন উজানের নদী অববাহিকায় ঝরতে পারে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।

পাহাড় আর সমতলের এই জলকাব্য আপাতত সতর্কতার বার্তা নিয়ে আসলেও, আমাদের বড় নদীগুলো এখনো সীমানার ভেতর থেকেই বয়ে চলেছে প্রবহমান জীবনের গান।

  • আরও পড়ুন :

নেপালের বন্যার পানি গঙ্গায়, সতর্ক বাংলাদেশ

সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :

মাদকের বেলায় কাউকে ছাড় নয়, ওসিকে কড়া নির্দেশ এমপি জসিম উদ্দিনের

উজানের ভারি বর্ষণ, শান্ত নদীর বুকে ঝড়ের পূর্বাভাস

আপডেট সময় ১২:০৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

শ্রাবণের মেঘের খেলা শেষে ভাদ্রের আকাশে যখন অনিশ্চয়তার ঘনঘটা, তখন বাংলা মায়ের জলপথগুলোতে সুর বাজছে বদলের। নদীর বুকে বয়ে যাওয়া জলধারার গতিপ্রকৃতি নিয়ে এক করুণ অথচ জীবনঘনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে এসেছে প্রাক-শরতের এই সময়।

উজানের ভারি বর্ষণ আর আকাশের মেঘের ঘনঘটা জানান দিচ্ছে—সামনের দিনগুলোতে নদ-নদীগুলোর বুক কেঁপে উঠতে পারে জলে, তবে স্বস্তির কথা একটাই, নদীগুলো এখনো তার সীমা পেরিয়ে বিপদ ডেকে আনেনি।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা

ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার শান্ত শান্ত ভাবটা হয়তো সাময়িক। দু’দিন স্থির থাকার পর আগামী পাঁচ দিন তারা আবার ফুঁসে উঠতে পারে। ওদিকে পদ্মার বুকেও বইছে পরিবর্তনের ঢেউ। জল বাড়লেও আশা এই—আগামী সাত দিন তারা কুল ঘেঁষেই বইবে, বিপদসীমার লাল দাগ ছোঁবে না।

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল

গোমতী, ফেনী, সাঙ্গু কিংবা মাতামুহুরীর মতো পাহাড়ি নদীগুলো গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা শান্ত হলেও, এই নীরবতা হয়তো ঝড়ের পূর্বাভাস। আগস্টের শেষ আর সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে (৩০ আগস্ট – ৩ সেপ্টেম্বর) পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির ছোঁয়ায় নদীগুলোর বুক আবার ফুলে-ফেঁপে উঠতে পারে।

উত্তরবঙ্গের তিস্তা-ধরলা

উত্তরে তিস্তার রূপ তো চিরকালই চঞ্চল। নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা নদীর বুক জুড়ে এখন সতর্কতার সুর। আগামী দু’দিন জল আরও বাড়লেও সেপ্টেম্বরের শুরুতেই হয়তো শান্ত হয়ে আসবে তার দূরন্তপনা।

সুরমা-কুশিয়ারা ও উজান মেঘনা

সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারার বুকেও বাজছে সতর্কঘণ্টা। মারকুলি আর ফেঞ্চুগঞ্জে জল বাড়লেও, সপ্তাহের দ্বিতীয়ভাগে এসে হয়তো কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে ভাঁটি অঞ্চল।

আকাশের ক্যানভাস ও উজানের মেঘ

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে মেঘের ঘনঘটা আর ঝুম বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—দেশের সীমানা পেরিয়ে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা আর পশ্চিমবঙ্গের আকাশে মেঘ জমেছে ভারি। আগামী সাত দিনে বাংলাদেশ ও সীমান্ত সংলগ্ন উজানের নদী অববাহিকায় ঝরতে পারে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।

পাহাড় আর সমতলের এই জলকাব্য আপাতত সতর্কতার বার্তা নিয়ে আসলেও, আমাদের বড় নদীগুলো এখনো সীমানার ভেতর থেকেই বয়ে চলেছে প্রবহমান জীবনের গান।

  • আরও পড়ুন :

নেপালের বন্যার পানি গঙ্গায়, সতর্ক বাংলাদেশ

সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি