ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফোন থেকে গোপন ছবি-ভিডিও ফাঁস হয় যেভাবে

ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত কথোপকথন থেকে শুরু করে ব্যাংকিং তথ্য—সবকিছুই এখন স্মার্টফোনে জমা থাকে। ফলে ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সঙ্গীও। কিন্তু অসতর্কতার কারণে ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও মুহূর্তেই অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।

অনেকে মনে করেন, ফোন হ্যাক হলেই শুধু ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও চুরি হয়। বাস্তবে দুর্বল পাসওয়ার্ড, ক্ষতিকর অ্যাপ, ক্লাউড অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ, ভুয়া লিংকে তথ্য দেওয়া কিংবা অন্যের হাতে আনলক ফোন চলে যাওয়ার মতো সাধারণ কারণেও ছবি-ভিডিও ফাঁস হতে পারে।

দুর্বল পাসওয়ার্ডে বড় বিপদ

ফোনের লক বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড সহজ হলে তা অন্যের পক্ষে অনুমান করা সহজ হতে পারে। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলেও ঝুঁকি বাড়ে।

একটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্যের হাতে চলে গেলে একই তথ্য ব্যবহার করে অন্য অ্যাকাউন্টেও প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে অপরাধীরা। তাই ফোনে শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা জরুরি।

ক্লাউডেও থাকতে পারে গোপন ছবি

অনেক স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থায় জমা হয়। ফোন হারিয়ে গেলে ছবি ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সুবিধাজনক হলেও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত না থাকলে বিপদ হতে পারে।

কেউ যদি অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে ফোন হাতে না নিয়েও ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখা বা নামিয়ে নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ই-মেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্যের হাতে চলে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সন্দেহজনক অ্যাপেও চুরি হতে পারে তথ্য

অপরিচিত ওয়েবসাইট বা লিংক থেকে অ্যাপ নামানো ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু ক্ষতিকর অ্যাপ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অনুমতি চাইতে পারে। ছবি, ভিডিও ও ফাইল ব্যবহারের অনুমতি পেলে এসব অ্যাপ ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করতে পারে।

তাই অপরিচিত উৎস থেকে কোনো অ্যাপ নামানো উচিত নয়। কোনো অ্যাপ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছবি, ভিডিও বা ফাইল ব্যবহারের অনুমতি চাইলে সতর্ক হতে হবে।

ভুয়া লিংকে ক্লিক করলেই বিপদ

আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, ছবি দেখুন কিংবা আপনার নামে মামলা হয়েছে—এ ধরনের ভয় বা কৌতূহল তৈরি করা বার্তা দিয়ে প্রতারকরা মানুষকে ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যেতে পারে।

সেখানে গিয়ে নিজের লগইন তথ্য দিলে তা প্রতারকের হাতে চলে যেতে পারে। এভাবে শুধু ছবি-ভিডিও নয়, পুরো অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণও হারাতে পারেন ব্যবহারকারী।

আনলক ফোন অন্যের হাতে নয়

সবসময় প্রযুক্তিগতভাবে ফোন হ্যাক করেই তথ্য চুরি করতে হয় না। আনলক অবস্থায় ফোন অন্যের হাতে চলে গেলেও গ্যালারি, ফাইল, বার্তা বা বিভিন্ন অ্যাপ থেকে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও কপি করা সম্ভব।

তাই অন্য কাউকে ফোন দেওয়ার সময় সেটি আনলক করে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য আলাদা নিরাপত্তার মধ্যে রাখা ভালো।

পুরোনো ফোন বিক্রির আগেও সাবধান

পুরোনো ফোন বিক্রি বা অন্য কাউকে দেওয়ার আগে শুধু ছবি মুছে ফেললেই নিরাপদ হওয়া যায় না। ফোনের ব্যাকআপ, অ্যাকাউন্ট, মেমোরি কার্ডসহ ব্যক্তিগত তথ্যও সঠিকভাবে সরাতে হবে।

প্রয়োজনীয় তথ্য আগে সংরক্ষণ করে ফোনের সব অ্যাকাউন্ট থেকে বের হয়ে যেতে হবে। এরপর নিরাপদভাবে ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।

অপরিচিত কম্পিউটারেও ঝুঁকি

অপরিচিত কম্পিউটারে ফোন যুক্ত করে তথ্য আদান-প্রদানের অনুমতি দিলে ব্যক্তিগত ছবি ও ফাইল অন্য ডিভাইসে কপি হয়ে যেতে পারে। একইভাবে অজানা তার, যন্ত্র বা আনুষঙ্গিক উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি।

নিরাপদ থাকতে যা করবেন

ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা পাসকোড ব্যবহার করুন। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু রাখুন। ফোনের মূল ব্যবস্থা ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ করুন।

অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা এবং সন্দেহজনক অ্যাপ নামানো থেকে বিরত থাকুন। কোন কোন অ্যাপ ছবি, ভিডিও ও ফাইল ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

কোনো অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক প্রবেশ বা অচেনা যন্ত্র দেখা গেলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও যত বেশি জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে, ঝুঁকিও তত বাড়বে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত কপি না রাখা, অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফোনের মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার প্রথম ধাপ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ফোন থেকে গোপন ছবি-ভিডিও ফাঁস হয় যেভাবে

আপডেট সময় ০৮:৪১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত কথোপকথন থেকে শুরু করে ব্যাংকিং তথ্য—সবকিছুই এখন স্মার্টফোনে জমা থাকে। ফলে ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সঙ্গীও। কিন্তু অসতর্কতার কারণে ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও মুহূর্তেই অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।

অনেকে মনে করেন, ফোন হ্যাক হলেই শুধু ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও চুরি হয়। বাস্তবে দুর্বল পাসওয়ার্ড, ক্ষতিকর অ্যাপ, ক্লাউড অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ, ভুয়া লিংকে তথ্য দেওয়া কিংবা অন্যের হাতে আনলক ফোন চলে যাওয়ার মতো সাধারণ কারণেও ছবি-ভিডিও ফাঁস হতে পারে।

দুর্বল পাসওয়ার্ডে বড় বিপদ

ফোনের লক বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড সহজ হলে তা অন্যের পক্ষে অনুমান করা সহজ হতে পারে। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলেও ঝুঁকি বাড়ে।

একটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্যের হাতে চলে গেলে একই তথ্য ব্যবহার করে অন্য অ্যাকাউন্টেও প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে অপরাধীরা। তাই ফোনে শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা জরুরি।

ক্লাউডেও থাকতে পারে গোপন ছবি

অনেক স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থায় জমা হয়। ফোন হারিয়ে গেলে ছবি ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সুবিধাজনক হলেও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত না থাকলে বিপদ হতে পারে।

কেউ যদি অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে ফোন হাতে না নিয়েও ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখা বা নামিয়ে নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ই-মেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্যের হাতে চলে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সন্দেহজনক অ্যাপেও চুরি হতে পারে তথ্য

অপরিচিত ওয়েবসাইট বা লিংক থেকে অ্যাপ নামানো ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু ক্ষতিকর অ্যাপ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অনুমতি চাইতে পারে। ছবি, ভিডিও ও ফাইল ব্যবহারের অনুমতি পেলে এসব অ্যাপ ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করতে পারে।

তাই অপরিচিত উৎস থেকে কোনো অ্যাপ নামানো উচিত নয়। কোনো অ্যাপ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছবি, ভিডিও বা ফাইল ব্যবহারের অনুমতি চাইলে সতর্ক হতে হবে।

ভুয়া লিংকে ক্লিক করলেই বিপদ

আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, ছবি দেখুন কিংবা আপনার নামে মামলা হয়েছে—এ ধরনের ভয় বা কৌতূহল তৈরি করা বার্তা দিয়ে প্রতারকরা মানুষকে ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যেতে পারে।

সেখানে গিয়ে নিজের লগইন তথ্য দিলে তা প্রতারকের হাতে চলে যেতে পারে। এভাবে শুধু ছবি-ভিডিও নয়, পুরো অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণও হারাতে পারেন ব্যবহারকারী।

আনলক ফোন অন্যের হাতে নয়

সবসময় প্রযুক্তিগতভাবে ফোন হ্যাক করেই তথ্য চুরি করতে হয় না। আনলক অবস্থায় ফোন অন্যের হাতে চলে গেলেও গ্যালারি, ফাইল, বার্তা বা বিভিন্ন অ্যাপ থেকে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও কপি করা সম্ভব।

তাই অন্য কাউকে ফোন দেওয়ার সময় সেটি আনলক করে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য আলাদা নিরাপত্তার মধ্যে রাখা ভালো।

পুরোনো ফোন বিক্রির আগেও সাবধান

পুরোনো ফোন বিক্রি বা অন্য কাউকে দেওয়ার আগে শুধু ছবি মুছে ফেললেই নিরাপদ হওয়া যায় না। ফোনের ব্যাকআপ, অ্যাকাউন্ট, মেমোরি কার্ডসহ ব্যক্তিগত তথ্যও সঠিকভাবে সরাতে হবে।

প্রয়োজনীয় তথ্য আগে সংরক্ষণ করে ফোনের সব অ্যাকাউন্ট থেকে বের হয়ে যেতে হবে। এরপর নিরাপদভাবে ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।

অপরিচিত কম্পিউটারেও ঝুঁকি

অপরিচিত কম্পিউটারে ফোন যুক্ত করে তথ্য আদান-প্রদানের অনুমতি দিলে ব্যক্তিগত ছবি ও ফাইল অন্য ডিভাইসে কপি হয়ে যেতে পারে। একইভাবে অজানা তার, যন্ত্র বা আনুষঙ্গিক উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি।

নিরাপদ থাকতে যা করবেন

ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা পাসকোড ব্যবহার করুন। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু রাখুন। ফোনের মূল ব্যবস্থা ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ করুন।

অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা এবং সন্দেহজনক অ্যাপ নামানো থেকে বিরত থাকুন। কোন কোন অ্যাপ ছবি, ভিডিও ও ফাইল ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

কোনো অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক প্রবেশ বা অচেনা যন্ত্র দেখা গেলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও যত বেশি জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে, ঝুঁকিও তত বাড়বে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত কপি না রাখা, অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফোনের মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার প্রথম ধাপ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস