ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন সিম কেনা কঠিন হলো

ভারতে সিম কার্ড কেনার নিয়ম বদলানো হয়েছে। এখন নতুন সিম নিতে শুধু আধার কার্ডের ফটোকপি দিলেই হবে না। লাইভ বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিম রিপ্লেসমেন্ট, নাম পরিবর্তন ও ট্রান্সফারের ক্ষেত্রেও লাগবে বায়োমেট্রিক। নতুন নিয়মে দোকানদারদের বায়োমেট্রিক ডেটা স্টোর করাতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে

আপনিও যদি নতুন সিম কার্ড কেনার বা পুরনো নম্বর বদলানোর কথা ভাবেন, তাহলে এখন আর শুধু দোকানে আধার কার্ডের ফটোকপি জমা দিলেই এই কাজ হবে না। ভুয়া কল এবং দ্রুত বেড়ে চলা সাইবার প্রতারণায় লাগাম দিতে ভারত সরকার মোবাইল সিম নেওয়ার নিয়ম আরও কড়া করেছে। ভারতের টেলিকমিউনিকেশন (ইউজার আইডেন্টিফিকেশন) রুলস, ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকেই কার্যকর হয়েছে। এখন কোনও টেলিকম পরিষেবা নেওয়ার জন্য ইউজারের লাইভ বায়োমেট্রিক পরিচয় অর্থাৎ মুখের লাইভ ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিস স্ক্যান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গত কিছু সময়ে অন্যের নথি অপব্যবহার করে ভুয়া সিম ইস্যু করানো এবং সেই সিম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সাইবার প্রতারকরা প্রায়ই কোনও অচেনা ব্যক্তির পরিচয়পত্রে সিম তুলে নিয়ে অপরাধমূলক কাজকর্ম চালাচ্ছে। এই সংগঠিত টেলিকম প্রতারণা এবং ভুয়া কলের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতেই সরকার ইউজারের লাইভ বায়োমেট্রিক পরিচয়কে সিম অ্যাক্টিভেশনের বাধ্যতামূলক শর্ত করেছে। এর ফলে ভুয়ো বা চুরি করা নথির সাহায্যে মোবাইল সিম পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিম কেনার সময় গ্রাহকদের কঠোর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যাদের আধার রয়েছে, তারা বায়োমেট্রিক ই-কে ওয়াই সি (e-KYC) করিয়েই সিম নিতে পারবেন। আপনাকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হবে। যাদের আধার নেই অথবা কোনও শারীরিক চোট কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান করা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের বৈধ নথির সঙ্গে মুখের লাইভ স্ক্যান অর্থাৎ ডিজিটাল-কে ওয়াই সি (D-KYC) করাতে হবে। ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পর ইউজারের কাছে ভেরিফিকেশনের জন্য অ্যালার্টও পাঠানো হতে পারে।

নাম বদলাতে হলে বা সিম ট্রান্সফার করলেও বায়োমেট্রিক জরুরি: নিয়ম শুধু নতুন সিম নেওয়ার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনি যদি পুরনো সিম আপগ্রেড বা রিপ্লেস করেন, নাম, জেন্ডার বা জন্মতারিখে পরিবর্তন করেন, তাহলেও ফের বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করাতে হবে। এছাড়া এখন আপনি নিজের চালু সিম কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে ইচ্ছেমতো দিয়ে দিতে পারবেন না। সিম ট্রান্সফারের অনুমতি শুধুমাত্র নিকট আত্মীয় বা আইনি উত্তরাধিকারীকেই দেওয়া হবে। এর জন্যও সম্পূর্ণ বায়োমেট্রিক পরীক্ষা হবে। কোনও কোম্পানি বা ব্যবসার নামে সিম ইস্যু করা হলে অনুমোদিত প্রতিনিধির পাশাপাশি সিমের প্রকৃত ব্যবহারকারী ‘এন্ড ইউজার’-এর পরিচয়ও নথিভুক্ত করা হবে।

প্রতারণা করলে সরাসরি জেল, দোকানদারদের উপরেও নিষেধাজ্ঞা: নিয়ম অমান্য করে ভুয়ো নথি ব্যবহার করা বা ভুল তথ্য দেওয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং টেলিকম অপারেটরকে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে সংযোগ সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড বা ডিসকানেক্ট করে দেওয়া হবে।

দোকানে স্টোর করা যাবে না ডেটা: গ্রাহকদের গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখে সিম বিক্রেতা দোকানদারদের (Point of Sale) কাছে ইউজারের কোনও বায়োমেট্রিক ডেটা স্টোর করার অনুমতি নেই। সমস্ত টেলিকম অপারেটরকে তিন মাসের মধ্যে নিজেদের সিস্টেম সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আপগ্রেড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

নতুন সিম কেনা কঠিন হলো

আপডেট সময় ০৮:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে সিম কার্ড কেনার নিয়ম বদলানো হয়েছে। এখন নতুন সিম নিতে শুধু আধার কার্ডের ফটোকপি দিলেই হবে না। লাইভ বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিম রিপ্লেসমেন্ট, নাম পরিবর্তন ও ট্রান্সফারের ক্ষেত্রেও লাগবে বায়োমেট্রিক। নতুন নিয়মে দোকানদারদের বায়োমেট্রিক ডেটা স্টোর করাতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে

আপনিও যদি নতুন সিম কার্ড কেনার বা পুরনো নম্বর বদলানোর কথা ভাবেন, তাহলে এখন আর শুধু দোকানে আধার কার্ডের ফটোকপি জমা দিলেই এই কাজ হবে না। ভুয়া কল এবং দ্রুত বেড়ে চলা সাইবার প্রতারণায় লাগাম দিতে ভারত সরকার মোবাইল সিম নেওয়ার নিয়ম আরও কড়া করেছে। ভারতের টেলিকমিউনিকেশন (ইউজার আইডেন্টিফিকেশন) রুলস, ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকেই কার্যকর হয়েছে। এখন কোনও টেলিকম পরিষেবা নেওয়ার জন্য ইউজারের লাইভ বায়োমেট্রিক পরিচয় অর্থাৎ মুখের লাইভ ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিস স্ক্যান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গত কিছু সময়ে অন্যের নথি অপব্যবহার করে ভুয়া সিম ইস্যু করানো এবং সেই সিম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সাইবার প্রতারকরা প্রায়ই কোনও অচেনা ব্যক্তির পরিচয়পত্রে সিম তুলে নিয়ে অপরাধমূলক কাজকর্ম চালাচ্ছে। এই সংগঠিত টেলিকম প্রতারণা এবং ভুয়া কলের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতেই সরকার ইউজারের লাইভ বায়োমেট্রিক পরিচয়কে সিম অ্যাক্টিভেশনের বাধ্যতামূলক শর্ত করেছে। এর ফলে ভুয়ো বা চুরি করা নথির সাহায্যে মোবাইল সিম পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিম কেনার সময় গ্রাহকদের কঠোর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যাদের আধার রয়েছে, তারা বায়োমেট্রিক ই-কে ওয়াই সি (e-KYC) করিয়েই সিম নিতে পারবেন। আপনাকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হবে। যাদের আধার নেই অথবা কোনও শারীরিক চোট কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান করা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের বৈধ নথির সঙ্গে মুখের লাইভ স্ক্যান অর্থাৎ ডিজিটাল-কে ওয়াই সি (D-KYC) করাতে হবে। ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পর ইউজারের কাছে ভেরিফিকেশনের জন্য অ্যালার্টও পাঠানো হতে পারে।

নাম বদলাতে হলে বা সিম ট্রান্সফার করলেও বায়োমেট্রিক জরুরি: নিয়ম শুধু নতুন সিম নেওয়ার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনি যদি পুরনো সিম আপগ্রেড বা রিপ্লেস করেন, নাম, জেন্ডার বা জন্মতারিখে পরিবর্তন করেন, তাহলেও ফের বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করাতে হবে। এছাড়া এখন আপনি নিজের চালু সিম কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে ইচ্ছেমতো দিয়ে দিতে পারবেন না। সিম ট্রান্সফারের অনুমতি শুধুমাত্র নিকট আত্মীয় বা আইনি উত্তরাধিকারীকেই দেওয়া হবে। এর জন্যও সম্পূর্ণ বায়োমেট্রিক পরীক্ষা হবে। কোনও কোম্পানি বা ব্যবসার নামে সিম ইস্যু করা হলে অনুমোদিত প্রতিনিধির পাশাপাশি সিমের প্রকৃত ব্যবহারকারী ‘এন্ড ইউজার’-এর পরিচয়ও নথিভুক্ত করা হবে।

প্রতারণা করলে সরাসরি জেল, দোকানদারদের উপরেও নিষেধাজ্ঞা: নিয়ম অমান্য করে ভুয়ো নথি ব্যবহার করা বা ভুল তথ্য দেওয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং টেলিকম অপারেটরকে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে সংযোগ সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড বা ডিসকানেক্ট করে দেওয়া হবে।

দোকানে স্টোর করা যাবে না ডেটা: গ্রাহকদের গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখে সিম বিক্রেতা দোকানদারদের (Point of Sale) কাছে ইউজারের কোনও বায়োমেট্রিক ডেটা স্টোর করার অনুমতি নেই। সমস্ত টেলিকম অপারেটরকে তিন মাসের মধ্যে নিজেদের সিস্টেম সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আপগ্রেড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস