ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের নতুন সমীকরণ: গ্রামে আলো পাঠাতে ঢাকায় নিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং

আঁধার ঘোচাতে বিদ্যুতের নতুন সমীকরণ মেলাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। নগর ঢাকার বুকে যে বিলাস বা প্রয়োজনের রোশনাই ছড়িয়ে থাকে, তা থেকে কিছুটা আলো ছেঁটে নিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আয়োজন চলছে পল্লিগ্রামের নিভৃত প্রান্তে।

বিদ্যুৎ বিভাগের ভাষ্যমতে, একটানা অন্ধকারের দুর্ভোগ যেন কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষকে সইতে না হয়, সে উদ্দেশ্যেই এই সমবণ্টন। ঢাকার কিয়দাংশ আঁধারে রেখে বাঁচানো সেই আলো পৌঁছাতে শুরু করেছে গ্রামের কাঁচা মেঠোপথে ও গ্রামীণ শিল্প-কারখানায়। ফলে মফস্বল ও পল্লির দীর্ঘদিনের যে পুঞ্জীভূত লোডশেডিংয়ের যাতনা, তাতে কিছুটা হলেও প্রলেপ পড়েছে।

অভিপ্রায় একটাই—সবাই যেন সহনীয় সীমার মধ্যে আলোর স্পর্শ পায়, কোনো অঞ্চল যেন লাগাতার অন্ধকারে নির্বাসিত না থাকে। জ্বালানি সরবরাহের গতি ফিরলে এবং কারিগরি ক্ষতগুলো সারিয়ে তোলা সম্ভব হলেই ফের স্বাভাবিক আলোয় ভাসবে দেশ, এমন আশা নিয়েই এখন পথচলা।

এদিকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়- জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন ও গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদার সম্মিলিত প্রভাবেই দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় লোডশেডিং সমন্বয়ের মাধ্যমে সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের বার্তায় বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি, বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে উৎপাদন কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন ও গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় লোডশেডিংয়ের চাপ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে লোডশেডিং এড়াতে ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকায় লোডশেডিং সমন্বয়ের মাধ্যমে সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে লোডশেডিং এড়াতে ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।

ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গ্রাহক শ্রেণিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবঞ্চিত না রাখাই মূল লক্ষ্য।

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রিডের সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

বিদ্যুতের নতুন সমীকরণ: গ্রামে আলো পাঠাতে ঢাকায় নিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং

আপডেট সময় ০৭:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

আঁধার ঘোচাতে বিদ্যুতের নতুন সমীকরণ মেলাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। নগর ঢাকার বুকে যে বিলাস বা প্রয়োজনের রোশনাই ছড়িয়ে থাকে, তা থেকে কিছুটা আলো ছেঁটে নিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আয়োজন চলছে পল্লিগ্রামের নিভৃত প্রান্তে।

বিদ্যুৎ বিভাগের ভাষ্যমতে, একটানা অন্ধকারের দুর্ভোগ যেন কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষকে সইতে না হয়, সে উদ্দেশ্যেই এই সমবণ্টন। ঢাকার কিয়দাংশ আঁধারে রেখে বাঁচানো সেই আলো পৌঁছাতে শুরু করেছে গ্রামের কাঁচা মেঠোপথে ও গ্রামীণ শিল্প-কারখানায়। ফলে মফস্বল ও পল্লির দীর্ঘদিনের যে পুঞ্জীভূত লোডশেডিংয়ের যাতনা, তাতে কিছুটা হলেও প্রলেপ পড়েছে।

অভিপ্রায় একটাই—সবাই যেন সহনীয় সীমার মধ্যে আলোর স্পর্শ পায়, কোনো অঞ্চল যেন লাগাতার অন্ধকারে নির্বাসিত না থাকে। জ্বালানি সরবরাহের গতি ফিরলে এবং কারিগরি ক্ষতগুলো সারিয়ে তোলা সম্ভব হলেই ফের স্বাভাবিক আলোয় ভাসবে দেশ, এমন আশা নিয়েই এখন পথচলা।

এদিকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়- জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন ও গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদার সম্মিলিত প্রভাবেই দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় লোডশেডিং সমন্বয়ের মাধ্যমে সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের বার্তায় বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি, বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে উৎপাদন কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন ও গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় লোডশেডিংয়ের চাপ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে লোডশেডিং এড়াতে ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকায় লোডশেডিং সমন্বয়ের মাধ্যমে সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে লোডশেডিং এড়াতে ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।

ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গ্রাহক শ্রেণিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবঞ্চিত না রাখাই মূল লক্ষ্য।

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রিডের সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস