ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার নতুন এক দ্বীপে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত পারাসেল দ্বীপপুঞ্জের অ্যান্টেলোপ রিফের কাছে ইয়াগং দ্বীপে নতুন স্থাপনা নির্মাণের স্যাটেলাইট চিত্র পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সংস্থা ভ্যান্টরের ১৭ আগস্টের নতুন ছবি বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সেখানে নির্মিত অবকাঠামোগুলো সম্ভাব্য সামরিক রাডার বা আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্র হতে পারে। নির্মাণকাজের এই নতুন বিস্তার পারাসেল অববাহিকার সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, অ্যান্টেলোপ রিফের প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ছোট আয়তনের ইয়াগং দ্বীপে মার্চ ও এপ্রিল মাসের দিকে এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেখানে বেশ কয়েকটি নতুন অবকাঠামোর উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।

ভ্যান্টরের এক মুখপাত্র জানান, ইয়াগং রিফে গড়ে তোলা কয়েকটি স্থাপনার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যান্য সামরিক রাডার বা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মিল পাওয়া যায়। এগুলো অ্যান্টেলোপ রিফের মূল অবকাঠামোগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য পর্যবেক্ষক ড্যামিয়েন সাইমন এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক কলিন কোহও একই আশঙ্কার কথা জানান। কলিন কোহর মতে, ইয়াগংয়ে স্পষ্টত একটি স্বতন্ত্র রাডার স্টেশন নির্মাণের ইঙ্গিত মিলছে, যা পুরো জলসীমার নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত ভূমিকা রাখবে।

এর আগে অ্যান্টেলোপ রিফে প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কৃত্রিম দ্বীপ গড়ে তোলে বেইজিং। সেখানকার সোজা ৩ কিলোমিটার উপকূলভাগ একটি রানওয়ে নির্মাণের দিকে ইঙ্গিত করে বলে মত বিশ্লেষকদের। আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অব্যাহত নির্মাণ পারাসেল অঞ্চলে চীনের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা অদূর ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে বড় কোনো সসংঘাত তৈরি হলে সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এটি সামরিক কোনো উদ্যোগ নয়; বরং আবহাওয়া পূর্বাভাস, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার মতো সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী কাজে এই দ্বীপগুলো ব্যবহৃত হবে।

পারাসেল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭৪ সালে সাবেক দক্ষিণ ভিয়েতনামের নৌবাহিনীর হাত থেকে পারাসেল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয় চীন। তবে ভিয়েতনাম এখনো পুরো দ্বীপপুঞ্জ নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। শুধু পারাসেল নয়, দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও এর আশপাশের জলসীমার দাবি নিয়ে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ব্রুনাইয়ের মধ্যকার টানাপোড়েন পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দীর্ঘকাল ধরে অশান্ত করে রেখেছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

এবার নতুন এক দ্বীপে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন

আপডেট সময় ০৭:২১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত পারাসেল দ্বীপপুঞ্জের অ্যান্টেলোপ রিফের কাছে ইয়াগং দ্বীপে নতুন স্থাপনা নির্মাণের স্যাটেলাইট চিত্র পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সংস্থা ভ্যান্টরের ১৭ আগস্টের নতুন ছবি বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সেখানে নির্মিত অবকাঠামোগুলো সম্ভাব্য সামরিক রাডার বা আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্র হতে পারে। নির্মাণকাজের এই নতুন বিস্তার পারাসেল অববাহিকার সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, অ্যান্টেলোপ রিফের প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ছোট আয়তনের ইয়াগং দ্বীপে মার্চ ও এপ্রিল মাসের দিকে এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেখানে বেশ কয়েকটি নতুন অবকাঠামোর উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।

ভ্যান্টরের এক মুখপাত্র জানান, ইয়াগং রিফে গড়ে তোলা কয়েকটি স্থাপনার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যান্য সামরিক রাডার বা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মিল পাওয়া যায়। এগুলো অ্যান্টেলোপ রিফের মূল অবকাঠামোগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য পর্যবেক্ষক ড্যামিয়েন সাইমন এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক কলিন কোহও একই আশঙ্কার কথা জানান। কলিন কোহর মতে, ইয়াগংয়ে স্পষ্টত একটি স্বতন্ত্র রাডার স্টেশন নির্মাণের ইঙ্গিত মিলছে, যা পুরো জলসীমার নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত ভূমিকা রাখবে।

এর আগে অ্যান্টেলোপ রিফে প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কৃত্রিম দ্বীপ গড়ে তোলে বেইজিং। সেখানকার সোজা ৩ কিলোমিটার উপকূলভাগ একটি রানওয়ে নির্মাণের দিকে ইঙ্গিত করে বলে মত বিশ্লেষকদের। আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অব্যাহত নির্মাণ পারাসেল অঞ্চলে চীনের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা অদূর ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে বড় কোনো সসংঘাত তৈরি হলে সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এটি সামরিক কোনো উদ্যোগ নয়; বরং আবহাওয়া পূর্বাভাস, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার মতো সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী কাজে এই দ্বীপগুলো ব্যবহৃত হবে।

পারাসেল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭৪ সালে সাবেক দক্ষিণ ভিয়েতনামের নৌবাহিনীর হাত থেকে পারাসেল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয় চীন। তবে ভিয়েতনাম এখনো পুরো দ্বীপপুঞ্জ নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। শুধু পারাসেল নয়, দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও এর আশপাশের জলসীমার দাবি নিয়ে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ব্রুনাইয়ের মধ্যকার টানাপোড়েন পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দীর্ঘকাল ধরে অশান্ত করে রেখেছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস