চলতি বছর আয়োজিত হচ্ছে না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বকেয়া পরিশোধের ব্যর্থতা, চরম আর্থিক বিশৃঙ্খলা এবং নীতিগত সমস্যাগুলো দূর করতে টুর্নামেন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, অগোছালো অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট নামানোর কোনো ইচ্ছে বোর্ডের নেই। চলতি বছর বিপিএল আয়োজনের পর্যাপ্ত সময় আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, “আমার মনে হয় না। এ বছর বিপিএল হচ্ছে না।”
গত জুনে বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তামিম প্রকাশ করেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে বিগত দুই বছরে বোর্ডের প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
বোর্ডের এই আর্থিক ক্ষতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছি যে এভাবে বিপিএল চালাব না। গত দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান নয়। যতদিন না আমরা এটি ঠিক করতে পারছি, টাকা লোকসান করে টুর্নামেন্ট চালানো আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তামিম আরও যোগ করেন, “রংপুর এবং রাজশাহী ছাড়া বাকিদের অবস্থা কী? কিছু ক্ষেত্রে নিয়মকানুন লঙ্ঘন করা হয়েছে। পেমেন্ট পরিশোধ করলেও রাজশাহীও ১০০ ভাগ নিয়ম মেনে চলেনি। সমস্যা হলো, কোনো দল সরে দাঁড়ালে বা শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বিসিবিকে সেই দায়ভার নিতে হয়।”
তবে বিপিএল বাতিল নয়, বরং আরও সুসংগঠিতভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তামিম ১০০ শতাংশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান। “যদি ৬ মাস বা ১২ মাস সময় লাগে, আমি সেই সময় নেব। আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথে কথা বলা শুরু করেছি। বকেয়া টাকা ও ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়গুলো ধাপে ধাপে দেখা হচ্ছে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসের মধ্যে আমরা পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রক্রিয়া শেষ করতে চাই। অতীতে শেষ মুহূর্তে সব করা হতো। আমরা হাতে পর্যাপ্ত সময় রাখতে চাই, যাতে কেউ ব্যর্থ হলে বিকল্প খুঁজে নেওয়ার সময় থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাইলে কালকেই পাঁচটি দল গুছিয়ে নামিয়ে দিতে পারি, কিন্তু তা করব না। আমার কাছে সততার সাথে ক্রিকেট আয়োজন এবং বিসিবির মর্যাদা রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য সমালোচনা সহ্য করতেও আমি রাজি।”
বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটাররা যে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন, তা স্বীকার করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, “আমি খেলোয়াড় থাকলে নিজেও হতাশ হতাম। তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে, এই যুক্তির সাথে আমি দ্বিমত করছি না। তবে তারাও বোঝে যে বিপিএল এমন একটি আয়োজন হওয়া উচিত যা নিয়ে বিসিবি গর্ব করতে পারে। গত কয়েক বছরে যা হয়েছে তা নিয়ে কি আমরা গর্বিত? সম্ভবত না।”
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্রিকেট ভাবমূর্তি ফেরাতে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তামিম বলেন, “আমার নিজের দেশে যদি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট সঠিকভাবে না চলে, তবে তা বন্ধ করে নতুন করে গড়ে তোলাটাই হবে আমার কমিটির পক্ষ থেকে বড় বার্তা। বিপিএল একটি দারুণ প্রোডাক্ট, এর বাণিজ্যিক মূল্য অনেক। সঠিকভাবে চালাতে পারলে এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে।”
বাংলা৭১নিউজ/জেএস

























