ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩৩ জন।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাতভর চালানো হামলায় আবাসিক এলাকা ও গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে শহরের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে।
কিয়েভের আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলের ব্রোভারি জেলায় হামলায় আরো একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।
তবে এই মৃত্যু কিয়েভ শহরে নিহত ১২ জনের হিসাবের মধ্যে রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তাকাচেঙ্কো বলেন, হামলায় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী এর আগে সতর্ক করে জানায়, কিয়েভ অঞ্চলের কাগারলিক গ্রামের কাছে রাশিয়ার ‘কালিবর’ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হয়েছে এবং সেগুলো রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসছে।
ইউক্রেনে রুশ হামলার কারণে প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী জানায়, ইউক্রেন সীমান্তসহ দেশের আকাশসীমা রক্ষায় তারা যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে।
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রাতে আকাশে বেশ কিছু সন্দেহজনক লক্ষ্য শনাক্ত করা হয়। এরপর ন্যাটোর মিশনে থাকা দুটি স্প্যানিশ যুদ্ধবিমান এবং রোমানিয়ার একটি হেলিকপ্টারকে আকাশে পাঠানো হয়। রোমানিয়ার মন্ত্রণালয় আরো জানায়, একটি ড্রোন গালাতির কাছে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
পরে সেটি তুলসিয়া কাউন্টির একটি জনবসতিহীন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
মস্কোতেও ড্রোন হামলা
এদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি ড্রোন মস্কো অঞ্চলের দিকে উড়ে আসে। এর বেশিরভাগই রাজধানী থেকে দূরে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি জানান, মস্কো অঞ্চলে ২৮টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে উভয় পক্ষেই বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার ওপর পাল্টা হামলা বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে এনে যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























