ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় গ্যাস আমদানি করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী সাকি

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সাময়িক উল্লেখ করে তা দ্রুত সমাধানে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই।

সংকট মোকাবেলায় গ্যাস আমদানির পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে সরকার কাজ করছে। প্রয়োজন মেটাতে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে।

তবে শুধু গ্যাস আমদানি করলেই হবে না, তা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। এলএনজি অবকাঠামো স্থাপনেও সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বয়লার বা কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। সেটি সমাধান করা হয়েছে।

তবে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত নয়।

সংকট মোকাবিলায় সরকার একাধিক পথে এগোচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতেও কাজ চলছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এর পাশাপাশি ভোলার গ্যাস ব্যবহার এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান।

দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। দ্রুত তা তিন মাসে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে মজুত ছয় মাসে উন্নীত করতে চায় সরকার।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু বর্তমান সংকট মোকাবেলার বিষয় নয়, ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। এ কারণে তেলের মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতির কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় গ্যাস আমদানি করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী সাকি

আপডেট সময় ০৫:২৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সাময়িক উল্লেখ করে তা দ্রুত সমাধানে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই।

সংকট মোকাবেলায় গ্যাস আমদানির পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে সরকার কাজ করছে। প্রয়োজন মেটাতে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে।

তবে শুধু গ্যাস আমদানি করলেই হবে না, তা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। এলএনজি অবকাঠামো স্থাপনেও সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বয়লার বা কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। সেটি সমাধান করা হয়েছে।

তবে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত নয়।

সংকট মোকাবিলায় সরকার একাধিক পথে এগোচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতেও কাজ চলছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এর পাশাপাশি ভোলার গ্যাস ব্যবহার এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান।

দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। দ্রুত তা তিন মাসে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে মজুত ছয় মাসে উন্নীত করতে চায় সরকার।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু বর্তমান সংকট মোকাবেলার বিষয় নয়, ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। এ কারণে তেলের মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতির কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ