ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই প্রবাসীর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাতের আঁধারে সড়কে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত অসুস্থ প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।

জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। কিডনি বিকলসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২ আগস্ট গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তাঁর স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা কালমেঘা এলাকার সড়কে ফেলে রেখে যান। ওই সময় বৃষ্টি শুরু হলে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় যুবক ও এলাকাবাসী চাঁদা তুলে তাঁর চিকিৎসার উদ্যোগ নেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। গত ৬ আগস্ট জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে তাঁকে ভাতিজির বাড়িতে নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, প্রবাসে থাকাকালে জামাল উদ্দিন তাঁর উপার্জনের বেশির ভাগ অর্থ স্ত্রী রিনা আক্তারের কাছে পাঠিয়েছিলেন। প্রায় ২২-২৫ বছর আগে তিনি পৈতৃক ভিটা বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান।

জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছেন, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগেই তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। তবে জীবনের শেষ সময়ে চরম অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে থাকা জামাল উদ্দিনের খোঁজ স্ত্রী-সন্তানরা নেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী বলেন, ‘আমার ভাইকে অনেক আগেই সাবধান করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে কারও কথা শোনেনি। তবে আজ তাকে এভাবে মরতে হতো না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, ‘অসুস্থ জামাল উদ্দিনের চিকিৎসায় সমাজসেবা অফিস ও স্থানীয় যুবসমাজ সহযোগিতা করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই প্রবাসীর মৃত্যু

আপডেট সময় ১০:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাতের আঁধারে সড়কে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত অসুস্থ প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।

জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। কিডনি বিকলসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২ আগস্ট গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তাঁর স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা কালমেঘা এলাকার সড়কে ফেলে রেখে যান। ওই সময় বৃষ্টি শুরু হলে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় যুবক ও এলাকাবাসী চাঁদা তুলে তাঁর চিকিৎসার উদ্যোগ নেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। গত ৬ আগস্ট জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে তাঁকে ভাতিজির বাড়িতে নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, প্রবাসে থাকাকালে জামাল উদ্দিন তাঁর উপার্জনের বেশির ভাগ অর্থ স্ত্রী রিনা আক্তারের কাছে পাঠিয়েছিলেন। প্রায় ২২-২৫ বছর আগে তিনি পৈতৃক ভিটা বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান।

জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছেন, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগেই তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। তবে জীবনের শেষ সময়ে চরম অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে থাকা জামাল উদ্দিনের খোঁজ স্ত্রী-সন্তানরা নেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী বলেন, ‘আমার ভাইকে অনেক আগেই সাবধান করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে কারও কথা শোনেনি। তবে আজ তাকে এভাবে মরতে হতো না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, ‘অসুস্থ জামাল উদ্দিনের চিকিৎসায় সমাজসেবা অফিস ও স্থানীয় যুবসমাজ সহযোগিতা করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস