ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অর্থবছর’ হিসাবের সময়সীমায় বড় পরিবর্তন

দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের প্রচলিত সময়লিপিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। প্রচলিত ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘অর্থবছর’ হিসাবের পরিবর্তে নতুন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা-বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতে, সাধারণত বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই হতে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে, জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে; ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। 

প্রচলিত হিসাব বাদ দিয়ে এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এজন্য, ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত।

এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এজন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।

আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা-বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

‘অর্থবছর’ হিসাবের সময়সীমায় বড় পরিবর্তন

আপডেট সময় ১১:৩১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের প্রচলিত সময়লিপিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। প্রচলিত ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘অর্থবছর’ হিসাবের পরিবর্তে নতুন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা-বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতে, সাধারণত বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই হতে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে, জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে; ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। 

প্রচলিত হিসাব বাদ দিয়ে এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এজন্য, ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত।

এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এজন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।

আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা-বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস