ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

চালুর আগেই নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রাংশ!

বছরচারেক আগে আনা হয় কোটি টাকার যন্ত্রাংশ। তবে লোকবল সংকটে চালু করা যায়নি অপারেশন থিয়েটার।

একই অবস্থা এক্স-রে মেশিনের বেলায়ও।

দীর্ঘদিন ধরে চালু না করতে পারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার বাকি যন্ত্রাংশও এভাবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লোকবল নিয়োগ দিয়ে অপরেশন থিয়েটার ও এক্স-রে মেশিন চালু করার বিষয়ে বারবার চিঠি দিয়েও মেলেনি সমাধান।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০৮ সালে চালু হওয়ার প্রায় আট বছরেও জনবল সংকট কাটেনি হাসপাতালটির।

এতে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বেশিরভাগ রোগীকে ছুটতে হচ্ছে জেলা সদরে।

সরেজমিন হাসপাতালে রোগীরা জানায়, হাসপাতালটি বেশ পরিপাটি। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা না থাকায় তারা ক্ষুব্ধ।

ভাতিজাকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসা আলম মিয়া বলেন, এত সুন্দর একটি হাসপাতালে এক্স-রে না হওয়াটা দুঃখজনক। মাসখানেক আগে এক আত্মীয়কে নিয়ে এসে জানলাম লোক না থাকায় এক্স-রে মেশিন চালানো হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলা আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০১০ সালের আগস্ট মাসে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি উপজেলার চম্পকনগর বাজারের অদূরে তিন একর জায়গায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শুরু হয়।

২০১৮ সালের ১ নভেম্বর হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২৩টি, কিন্তু কর্মরত রয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে আবার একজন চিকিৎসক সংযুক্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ১২টি পদ এখন শূন্য। এ ছাড়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে কোনো চিকিৎসক নেই।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্টের তিনটি পদ, সহকারী সার্জনের পাঁচটি পদ, জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তার তিনটি পদ শূন্য। গাইনি চিকিৎসক, অবেদনবিদ ও সার্জারি চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য অস্ত্রোপচারও করা যাচ্ছে না। রেডিওগ্রাফারের পদটি ফাঁকা থাকায় এক্স-রে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ।

সূত্র আরো জানায়, প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৪০০ জন রোগী সেবা নেন। গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ জন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব হয়।

বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সুমন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, হাসপাতালে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা অস্ত্রোপচার চালু করতে না পারা। এ ছাড়া গাইনি চিকিৎসক না থাকাটাও অন্যতম সমস্যা। লোকবল সংকট কাটানো গেলে সেবার দিক থেকে জেলার সেরা হাসপাতালে পরিণত করা যাবে এটাকে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

দুদক: বুধবার থেকে কাজ শুরু করবে নতুন কমিশন

চালুর আগেই নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রাংশ!

আপডেট সময় ০৬:১১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বছরচারেক আগে আনা হয় কোটি টাকার যন্ত্রাংশ। তবে লোকবল সংকটে চালু করা যায়নি অপারেশন থিয়েটার।

একই অবস্থা এক্স-রে মেশিনের বেলায়ও।

দীর্ঘদিন ধরে চালু না করতে পারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার বাকি যন্ত্রাংশও এভাবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লোকবল নিয়োগ দিয়ে অপরেশন থিয়েটার ও এক্স-রে মেশিন চালু করার বিষয়ে বারবার চিঠি দিয়েও মেলেনি সমাধান।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০৮ সালে চালু হওয়ার প্রায় আট বছরেও জনবল সংকট কাটেনি হাসপাতালটির।

এতে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বেশিরভাগ রোগীকে ছুটতে হচ্ছে জেলা সদরে।

সরেজমিন হাসপাতালে রোগীরা জানায়, হাসপাতালটি বেশ পরিপাটি। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা না থাকায় তারা ক্ষুব্ধ।

ভাতিজাকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসা আলম মিয়া বলেন, এত সুন্দর একটি হাসপাতালে এক্স-রে না হওয়াটা দুঃখজনক। মাসখানেক আগে এক আত্মীয়কে নিয়ে এসে জানলাম লোক না থাকায় এক্স-রে মেশিন চালানো হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলা আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০১০ সালের আগস্ট মাসে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি উপজেলার চম্পকনগর বাজারের অদূরে তিন একর জায়গায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শুরু হয়।

২০১৮ সালের ১ নভেম্বর হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২৩টি, কিন্তু কর্মরত রয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে আবার একজন চিকিৎসক সংযুক্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ১২টি পদ এখন শূন্য। এ ছাড়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে কোনো চিকিৎসক নেই।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্টের তিনটি পদ, সহকারী সার্জনের পাঁচটি পদ, জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তার তিনটি পদ শূন্য। গাইনি চিকিৎসক, অবেদনবিদ ও সার্জারি চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য অস্ত্রোপচারও করা যাচ্ছে না। রেডিওগ্রাফারের পদটি ফাঁকা থাকায় এক্স-রে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ।

সূত্র আরো জানায়, প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৪০০ জন রোগী সেবা নেন। গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ জন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব হয়।

বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সুমন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, হাসপাতালে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা অস্ত্রোপচার চালু করতে না পারা। এ ছাড়া গাইনি চিকিৎসক না থাকাটাও অন্যতম সমস্যা। লোকবল সংকট কাটানো গেলে সেবার দিক থেকে জেলার সেরা হাসপাতালে পরিণত করা যাবে এটাকে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ