ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআইর নতুন উদ্যোগ Logo তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানালেন যুবরাজ সালমান Logo চালুর আগেই নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রাংশ! Logo বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী Logo রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ১৬৮৪ মামলা Logo সজিব হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড Logo ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ করছে সরকার Logo কুমিল্লায় প্রাডো গাড়িতে ৩ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ, আটক ২ Logo গণ-আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাঠামোগত রূপান্তরের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর Logo ছাত্রদল নেতাকে থাপ্পড়, বোর্ড সচিবের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো জট কমাতে ওয়্যারহাউস, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ওষুধসহ তাপমাত্রা সংবেদনশীল পণ্য দ্রুত সংরক্ষণ ও খালাসে বিমানবন্দরে কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা নিরসনে আয়োজিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় অস্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য সাতটি এবং স্থায়ী ওয়্যারহাউসের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে তা যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। দ্রুত স্থান নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

ওষুধের জন্য কোল্ড স্টোরেজ

বিমানবন্দরে ওষুধ আমদানি-রপ্তানি দ্রুত ও নিরাপদ করতে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, তাপমাত্রা সংবেদনশীল ওষুধ দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে পড়ে থাকলে এর মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ চালু হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এসব পণ্য সংরক্ষণ এবং দ্রুত খালাস করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া আমদানি করা কার্গোর নোটিশ দ্রুত আমদানিকারকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পণ্য সহজে শনাক্ত ও খুঁজে বের করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) মডেল তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

কার্গো ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার

সভায় কার্গো খালাসের গতি বাড়াতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ শুধু অনুসরণকারী হিসেবে থাকতে চায় না; বরং নেতৃত্বের অবস্থানে যেতে চায়। দ্রুত কার্গো খালাসে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্য শনাক্তকরণ, নোটিশ প্রদান ও খালাসের পুরো প্রক্রিয়া প্রযুক্তিনির্ভর করা গেলে সময় কমার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতাও বাড়বে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে কাস্টমসের দায়িত্ব আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা, ঘোষণা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শুল্কসংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন না হলেও দেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আধুনিক ও কার্যকর কার্গো ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআইর নতুন উদ্যোগ

শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো জট কমাতে ওয়্যারহাউস, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৪:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ওষুধসহ তাপমাত্রা সংবেদনশীল পণ্য দ্রুত সংরক্ষণ ও খালাসে বিমানবন্দরে কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা নিরসনে আয়োজিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় অস্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য সাতটি এবং স্থায়ী ওয়্যারহাউসের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে তা যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। দ্রুত স্থান নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

ওষুধের জন্য কোল্ড স্টোরেজ

বিমানবন্দরে ওষুধ আমদানি-রপ্তানি দ্রুত ও নিরাপদ করতে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, তাপমাত্রা সংবেদনশীল ওষুধ দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে পড়ে থাকলে এর মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ চালু হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এসব পণ্য সংরক্ষণ এবং দ্রুত খালাস করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া আমদানি করা কার্গোর নোটিশ দ্রুত আমদানিকারকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পণ্য সহজে শনাক্ত ও খুঁজে বের করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) মডেল তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

কার্গো ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার

সভায় কার্গো খালাসের গতি বাড়াতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ শুধু অনুসরণকারী হিসেবে থাকতে চায় না; বরং নেতৃত্বের অবস্থানে যেতে চায়। দ্রুত কার্গো খালাসে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্য শনাক্তকরণ, নোটিশ প্রদান ও খালাসের পুরো প্রক্রিয়া প্রযুক্তিনির্ভর করা গেলে সময় কমার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতাও বাড়বে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে কাস্টমসের দায়িত্ব আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা, ঘোষণা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শুল্কসংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন না হলেও দেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আধুনিক ও কার্যকর কার্গো ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ